না বলার ভিড়ে জমে থাকা কিছু কথা…..

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:২২ PM, ১২ মে ২০২০

স্কুলের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ঠিক করে ফেলি, ভবিষ্যতে বাংলা সাহিত্য পড়ব এবং বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক হব। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এমনটা আমার মনে জেগেছিল। বাইরে থেকে কোনো প্রেরণা ছিল না তেমন। বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হয়েও আইসিটির প্রতি যথেষ্ট টান ছিলো আমার।২০১৬ সালে ব্যানবেইজ এ ১ মাসের   TOT করি ২০১৭ সাল থেকে উপজেলা আই সি টি রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন এ মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। অনেকে বলে বাংলার শিক্ষক আইসিটি নিয়ে এতো গবেষণা কেন?
আমার গল্পটা শুরু এখান থেকেই……
# ব্যানবেইজ কর্তৃক পরিচালিত UITRCE তে ১৫ দিনের “বেসিক আইসিটি” দিয়েই শুরু করি মাস্টার ট্রেইনারের দায়িত্ব….
প্রশিক্ষণে আইসিটি জানতে আসা নানা বয়সের শিক্ষকদের জানার আগ্রহ দেখে আমার ঘুমন্ত চোখ খুলে যায়। প্রথম দিনের প্রশিক্ষণে প্রায় ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী আমার চোখের সামনে বসা। শুরু করে দিলাম তাদেরকে তৈরি করার কাজ; যতই সময় যাচ্ছে আমি অবাক হয়ে দেখলাম যে সবাই অল্প কিছু জানলেও তাদের জানার আগ্রহটা ছিলো আকাশ সমান। ঐ দিনই উপলব্ধি করতে পারলাম যে আমিও পারি নিজের জানাকে প্রসারিত করে আরোও শত শত শিক্ষককে পরিবর্তনে অবদান রাখতে, যে অবদান হয়ত বদলে দিতে পারে আরো দশ জনের জীবন। বদলে দিতে পারে,আমাদের তরুণ প্রজন্ম তথা বাংলাদেশ।
সেই অনুভূতি থেকেই আমার ছুটে চলা শুরু। এরপর থেকে যতবার থেমে গিয়েছি, বারবার নিজেকে শুনিয়েছি ‘আমি পারি’। পাশাপাশি একটা চিন্তা ছিল। আমি যে সুযোগ পেয়েছি তা সবাই পায় না, আর অনেকেই পেয়ে কাজে লাগায় না। এ সময়টাতে যারা সুযোগ পায় না তাদের জন্য খুব বেশি কিছু করার না থাকলেও সুযোগ ছিল, যারা সুযোগ পায় তারা যেন তা কাজে লাগাতে পারে তাতে সাহায্য করা।
নিজের মধ্যে বোধদয় হলো, শিক্ষায় আধুনিকায়ন একুশ শতকের দক্ষতা অর্জনের স্বার্থে আলোচিত একটি বড় বিষয়। একুশ শতকের শিক্ষার্থীদের তৈরির জন্য শিখন-শেখানো কার্যক্রমের কৌশলগুলো আয়ত্ত করা আমাদের আবশ্যিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আমরা শিক্ষকরাই হলাম শিক্ষার্থীর জীবনে প্রধান সারথি। একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন একুশ শতকের শিক্ষাব্যবস্থা ও সমসাময়িক মনোবৃত্তি সম্পন্ন শিক্ষক।
আমি যা মনে করি……
বর্তমান যুগ আধুনিক ও ডিজিটাল যুগ। আগের দিনের মতো শুধু রিডিং পড়িয়ে, বক্তৃতা দিয়ে পড়ানোর দিন শেষ। শিক্ষক যদি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের মাধ্যমে ক্লাস না নেন, তাঁর যদি আইসিটি, ইন্টারনেট সম্পর্কে ধারণা না থাকে, তিনি যদি কনটেন্ট তৈরি করতে না পারেন তাহলে বিজ্ঞানমনস্ক শিক্ষার্থীকে আমরা কীভাবে উচ্চতর জ্ঞানে অধিষ্ঠিত করব? আজকের এই ডিজিটাল যুগে প্রত্যেকটা শিক্ষার্থী মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট চালনায় পারদর্শী। সেখানে আমরা তাদেরকে শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা পারদর্শী হয়ে উঠেছি সেটাই ভাববার বিষয়।
তাই আমি মনে করি শিক্ষককে হতে হবে মনস্তাত্ত্বিক, যাতে তিনি শিক্ষার্থীর মনোভাব সঠিকভাবে বুঝতে পারেন। যেটা অন্য কোনো পেশায় না থাকলেও চলে। শিক্ষক হবেন সৃজনশীল, চিন্তাশীল, সৎ, মেধাবী, নিরহংকারী, অনুসন্ধিৎসু মনের অধিকারী। শিক্ষককে যে খুব বেশি জ্ঞানী হতে হবে, তেমনটি নয়। তবে উপস্থিত জ্ঞান ও বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান থাকাটা বেশি জরুরি। শিক্ষক সব সময় জ্ঞান অর্জনের মধ্যে থাকবেন এবং আত্মউপলব্ধি ও আত্মশুদ্ধির জন্য সচেষ্ট হবেন।
আমি আমার অবস্থানে খুব করে চেষ্টা করি নিজেকে বদলাতে, চাইলে আপনিও পারেন……..
চলবে……….. (সুস্থ থাকি যতদিন)
জান্নাতুল ফেরদৌস (আঁখি)
সহকারী শিক্ষক
দুর্গাপুর হাই স্কুল এন্ড কলেজ
গুরুদাসপুর,নাটোর।
সেরা কন্টেন্ট নির্মাতা (এটুআই)
মাস্টার ট্রেনার  (আইসিটি)
উপজেলা আইসিটি রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন,বেনবেইস।
মাস্টার ট্রেনার  (সিএ-বাংলা)
সেকেন্ডারি ইডুকেশন সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম( সেসিপ)।

আপনার মতামত লিখুন :