রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নাটোরের সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলামের ইন্তেকাল!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২০
  • ১০৬ Time View

এস এম ফকরুদ্দিন ফুুুটু

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিবেদকঃ

নাটোরের নলডাঙ্গার কৃতি সন্তান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক এমপি এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এড. সাইফুল ইসলাম।

রবিবার (১০ মে) দুপুর ৩ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)!

মরহুমের জানাজার নামাজ তারাবীহ নামাজ শেষে রাত ১০ টায় নাটোর পটুয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে এবং দাফন কার্য গাড়িখানা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে সম্পন্ন হবে!

প্রবীণ আ.লীগ নেতা এড. সাইফুল ইসলাম বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ।১৯৬০ সালে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছিলেন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যূত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছয় দফা আন্দোলনের সময়েও তিনি ছিলেন রাজনীতির মাঠে। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জনমত সংগঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরোটাই যুদ্ধের মাঠে কাটিয়েছেন।

১৯৭৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সংসদের কনিষ্ঠতম এমপি নির্বাচিত হন। জাতীয় চারনেতার একজন এইচ, এম কামরুজ্জামান হেনার দক্ষিণহস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাইফুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের কালরাতের পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাঁরা নিবেদিত প্রাণ বলে পরিচিত তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম অন্যতম। সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়েননি তিনি। তাঁর চেষ্টায় গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নাটোরের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে যাদের সুনাম রয়েছে, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। গত ২৩ জানুয়ারী স্ট্রোক জনিত কারণে তিনি ঢাকা শেরেবাংলা হাসপাতালে  চিকিৎসা নেন। এরপর একটু সুস্থ হলে তাঁকে নাটোরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।

Tag :

নাটোরের সাবেক সাংসদ সাইফুল ইসলামের ইন্তেকাল!

Update Time : ০৪:৩৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২০

এস এম ফকরুদ্দিন ফুুুটু

নলডাঙ্গা (নাটোর) প্রতিবেদকঃ

নাটোরের নলডাঙ্গার কৃতি সন্তান, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক এমপি এবং প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এড. সাইফুল ইসলাম।

রবিবার (১০ মে) দুপুর ৩ টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)!

মরহুমের জানাজার নামাজ তারাবীহ নামাজ শেষে রাত ১০ টায় নাটোর পটুয়াপাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে এবং দাফন কার্য গাড়িখানা কেন্দ্রীয় গোরস্থানে সম্পন্ন হবে!

প্রবীণ আ.লীগ নেতা এড. সাইফুল ইসলাম বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ।১৯৬০ সালে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৬৩ সালে রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে ছিলেন বৃহত্তর রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। ১৯৬৯ সালে গণ-অভ্যূত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ছয় দফা আন্দোলনের সময়েও তিনি ছিলেন রাজনীতির মাঠে। ১৯৭০ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জনমত সংগঠনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন।১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পুরোটাই যুদ্ধের মাঠে কাটিয়েছেন।

১৯৭৩ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সে স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সংসদের কনিষ্ঠতম এমপি নির্বাচিত হন। জাতীয় চারনেতার একজন এইচ, এম কামরুজ্জামান হেনার দক্ষিণহস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর সাইফুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালের কালরাতের পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে।খন্দকার মোশতাক, জেনারেল জিয়াউর রহমান, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়ার শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যাঁরা নিবেদিত প্রাণ বলে পরিচিত তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম অন্যতম। সকল প্রতিকূলতার মধ্যেও আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়েননি তিনি। তাঁর চেষ্টায় গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নাটোরের পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে যাদের সুনাম রয়েছে, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। গত ২৩ জানুয়ারী স্ট্রোক জনিত কারণে তিনি ঢাকা শেরেবাংলা হাসপাতালে  চিকিৎসা নেন। এরপর একটু সুস্থ হলে তাঁকে নাটোরে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন।