রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের কৃতকর্মে স্বপ্নভঙ্গ শিক্ষকদের !

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:০৯ AM, ১৪ মে ২০২০

বনলতা নিউজ ডেস্ক.

দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপে ২০ বছর পর সমপ্রতি ডিগ্রী পর্যায় এমপিও ভুক্ত হয় গুরুদাসপুর থানা সদরে অবস্থিত চলনবিলের পিছিয়ে পরা নারী উচ্চ শিক্ষার এক মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজ। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও ভুক্তির সকল শর্ত শত ভাগ পুরণ থাকা সত্বেও যাচাই বাছাইয়ের নামে ১৭ জনের মধ্যে ১০ জনেরই অনলাইনে আবেদন বাতিল করা হয়।

গতকাল ১৩ মে মধ্য রাতে এখবর নিশ্চিত হয়। প্রধান মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী ঈদের আগেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ভুক্ত করার কথা থাকলেও কোন এক রহস্যজনক কারণে শিক্ষক এমপিও ভুক্তির শতভাগ শতর্ পুরণ থাকার পরও যাচাই বাছাইয়ে নামে ওই কলেজের সকল শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন আবেদন বাতিল করে। কাগজে ত্রুটি থাকার অজুহাত দেখিয়ে ওই সকল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিস।সেই সাথে পরবর্তী এমপিওর জন্য অপেক্ষা করতে বলেছেন রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের কর্তৃপক্ষ।
অথচ ঈদের আগেই বেতন ভাতা পাবেন সেই আশায় বুক বেঁধে আপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন দীর্ঘ ২০ বছর বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত ওই শিক্ষক-কর্মচারীরা। বাসায় বৃদ্ধ বাবা মা সন্তান পরিবার নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন অন্তত বিগত ৪০টি ঈদের চেয়ে এবারের ঈদটা হবে অন্যরকম। অথচ বিধিবাম নাকি অন্য কোন রহস্য রয়েছে এখানে শিক্ষক কর্মচারীদের প্রশ্ন এই প্রতিবেদকের কাছে।
গত ১৪ মে সকাল ১০ ঘটিকায রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষা প্রতিঠানটি বন্ধ থাকলেও অফিস খোলা কলেজের ভিতরে এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। যা লিখে বর্ননা করা কঠিন। এ যেন সিনেমার ঘটনাকেও হারমানায়। দেখা যায় ১৭ জন আবেদনকারী শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে ১০জন এবং ১২ জন তৃতীয় শিক্ষকসহ মোট ২২জন আবেদনকারী শিক্ষক কাঁন্নায় ভেঙ্গে পরছে।
ওই কলেজের প্রভাষক মাসুদ রানা, লাভলুর রহমান্নে এবং নুরুন্নাহার শিরিনসহ কয়েকজন শিক্ষক কাঁন্নাজরিত কন্ঠে জানান,আমাদের জীবন যৌবন সব শেষ করেছি এই কলেজে। দীর্ঘ ২০ বছর বিনা পারিশ্রমিকে পাঠদান করে আসছি। চলনবিলের নারী উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ২টি ত্রিতল আবাসিক ভবন থাকায় উচ্চ মাধ্যমিক থেকে সম্মান পর্যন্ত প্রায় ৭ শতাধিক ছাত্রী লেখা পড়া করে এই প্রতিষ্ঠানে। অথচ বেতন ভুক্ত শিক্ষক মাত্র ২৪ জন। বেশির ভাগ ক্লাস আমাদেরই করতে হয়। চাকুরীর বয়সও রয়েছে মাত্র ১০ থেকে ১২ বছর। তার পরও বৃদ্ধ বাবা মা সন্তান পরিবার পরিজনের কষ্ট আর প্রতিবেশীদের অপমান শত যন্ত্রনা বঞ্চনা সহ্য করে নিজের খেয়ে পরে পাঠদান করছি শিক্ষার্থীদের মাঝে। সরকারী বিধি মোতাবেক যাবতীয় শর্ত পুরণ করেই আবেদন করেছি আমরা। অথচ যেসব কারনে আমাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। তার সব শর্তই আমরা পুরণ করেছি যার প্রমান আমাদের হার্ড কপিই বলে দিবে। তার পরও কেন কি কারনে আমাদের আবেদন বাতিল হলো তা আমাদের বোধগম্যনয়।
কলেজের অফিস সুত্রে জানাযায়, কলেজটি চলনবিরের পিছিয়ে পরা নারী উচ্চ শিক্ষার কথা বিবেচনা করে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।্উচ্চ মাধ্যমিক এমপিও ভুক্ত হয় ১৯৯৮ সালে। ২০০০ সালে স্নাতক খোলা হলেও দীর্ঘ কুড়ি বছর পর ২০২০ সালে স্তর পরিবর্তন হয়। এবং ২০১৬ সালে ৫টি বিষয়ে স্নাতক সম্মান খোলা হয়। এসরকারের আমলেই উমা এবং স্নাতক পাস এমপিও ভুক্ত হয়।

ওই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মায়া রানী চক্তবর্ত্তী জানান, সরকারি বিধি মোতাবেক আমাদের কলেজটি স্তর পরিবর্তন হয় এবং আমরা বিধি মেনেই অনলাইনে আবেদন করি। কিন্তু একই শর্তযুক্ত তিনজন প্রভাষক, এবং দুইজন পিওনের আবেদন গ্রহণ হলেও বাকি ১০ জনের আবেদন বাতিল করা হয়। কেন এবং কি কারণে বাতিল হলো সেটা আমার বোধগম্য নয়। এছাড়া আরো ১০জন ৩য় শিক্ষকের অনলাইনে আবেদনের অপশন না থাকায় তারা আবেদন করতে পারেনি।
রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের (ডিডি) কামাল হোসন যাঁর ফোন নং ০১৭১২-২৫৪৯২০ এবং উপপরিচালক আবু রেজা আজাদ এর ফোন নং ০১৭১৯-০৯২৫৫৫ তে বারবার কল এবং এস এম এস দিয়েও সারা পাওয়া যায়নি।

আপনার মতামত লিখুন :