অবশেষে নাটোরের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে নির্যাতিতা ছাত্রীর মামলা নিলেন পুলিশ!

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:২০ PM, ২১ মে ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
যৌন হয়রানীর শিকার হয়েও থানায় মামলা করতে না পারার অভিযোগ করেছেন এক ছাত্রী (২৩)। মঙ্গলবার রাতে নির্যাতিত ওই ছাত্রীর পিতা গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ তা মামলা আকারে গ্রহন করেনি। উপরন্ত আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে পাশের বড়াইগ্রাম থানায় মামলার কথা বলে ভুক্তভোগি ও তার বাবাকে চলে যেতে বলেন।
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঞ্জারামপুর গ্রামে অভিযুক্ত প্রেমিক ও ভুক্তভোগি ওই ছাত্রীর বাড়ি। ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারি কলেজের ডিগ্রী শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।
নির্যাতিত ওই ছাত্রী অভিযোগ করেন- দীর্ঘদিন শারিরিক দৌহিক সম্পর্কের পর প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়ে ছিলেন। সঙ্গে নিয়ে ছিলেন কৃষক বাবার জমানো সাড়ে তিন লাখ টাকা। প্রেমিক শফিকুল ওই ছাত্রীকে নিয়ে পাশের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করেন ১ দিন। এরপর কৌশলে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগি ওই ছাত্রীকে ফেলে নিরুদ্দেশ হয়েছেন প্রেমিক শফিকুল। বিয়ের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রেমিক শফিকুলের বাড়িতে অবস্থান করেন তিনি। সেখানে তাকে শারিরিক মানসিক নির্যাতনও করা হয়।
নির্যাতনের শিকার ছাত্রীর বাবা জানান- অভিযুক্ত শফিকুলের বাড়িতে তার মেয়ে অবস্থান করছেন খবর পেয়ে তিনি শফিকুল ইসলাম (২৭) ও মো. বুদ্দুকে (৪২) অভিযুক্ত করে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগ পেয়ে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ রাতেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে তার মেয়েকে থানায় নিয়ে আসেন। থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতেই এসআই শহিদুল ইসলাম তার মেয়েকে বাড়িতে রেখে আসেন।
তিনি আরো বলেন- মেয়েটিকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। বিচার না পেলে তার মেয়েটি আত্মহত্যাও করতে পারেন বলে সংন্কায় রয়েছেন । অভিযুক্ততের পরিবারের লোকজন বলেন, সফিকুল তিন মাস আগেই বিয়ে করেছেন। কিন্তু  খোঁজ নিয়ে জানাযায় ঘটনার  দিনেই ভিক্টমের চাচাত বোন কে বিয়ে করেন সফিকুল।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন- ওই ছাত্রীর বাবার অভিযোগ পেয়ে তার প্রেমিকের বাড়ি থেকে ছাত্রীটি রাতেই উদ্ধার করা হয়। তবে মেয়েটি তার প্রেমিকের সাথে বড়াইগ্রাম থানার বনপাড়ায় একরাত অবস্থান করায় গুরুদাসপুরে মামলা নেওয়া যাচ্ছে না।
সিংড়া-গুরুদাসপুর সার্কেল মো. জামিল আখতার বলেন- বিষয়টি দুঃখজনক। খোঁজনিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী পরিবার নাটোরের পুলিশ সুপারের দাড়স্থ হন। পরে পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহার টেলিফোনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শুক্রবার সকালে  মামলাটি নথিভুক্ত করেন বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ। বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ জানান, ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় মামলাটি এজাহার ভুক্ত করা হয়েছে এবং  প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার হবে।

আপনার মতামত লিখুন :