রং-বেরঙের ঘুড়িতে সেজেছে গুরুদাসপুরের নীল আকাশ।

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:০৭ PM, ২৪ মে ২০২০

প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন
রং-বেরঙের ঘুড়িতে সেজেছে নাটোরের গুরুদাসপুরের নীল আকাশ। ঘুড়ি উড়ানোর আমেজে মেতে উঠেছে প্রায় সকল বয়সী মানুষ। ঘুড়ি উড়াচ্ছেন খোলা মাঠে কেউ বা আবার বাড়ির ছাদে। করোনাভাইরাসের কারনে বন্দি জীবন কাটাচ্ছে সারা দেশের ন্যায় নাটোরের গুরুদাসপুরবাসীও।
বৈশ^য়িক সমস্যা করোনার ফলে চরম অসুবিধায় পড়েছে শিশু, কিশোররা,বৃদ্ধসহ সকল বয়সের মানুষই। একদিকে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। অন্যদিকে খেলা-ধুলারও উপায় নেই। সারাদিন টিভি, মোবাইল গেমস, ফেসবুক চালিয়ে একঘেয়েমি চলে আসছে তাদের মধ্যে। তাই তারা পরিবার পরিজন নিয়ে খোলা মাঠে বা বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়িয়ে আনন্দ লাভের চেষ্টা করছেন।
ঘুড়িপ্রেমিরা জানিয়েছেন, আমাদের দেশে পঙ্খীরাজ, মাছঘুড়ি, বাদুড়ঘুড়ি, সাপঘুড়ি, নয়নতারা, প্রজাপতি, চিলি, মানুষ ঘুড়ি ও ডাউসসহ বিভিন্ন নামের ঘুড়ি আছে। তবে ঘুড়ির চেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ে ঘুড়ির লেজ ও বেতের মিউজিক এবং উড়ানো ঘুড়ির রং-বেরঙের আলোর ঝলকানি।
চলনবিলের বিলশা গ্রামের মা জননী সেতুর উপরে ঘুড়ি উড়াতে আসা এক ঘুড়িপ্রেমী বলেন, “ঘড়ে বসে টিভি, সিনেমা, ফেসবুক এখন আর ভালো লাগেনা। তাই ঘুড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরেছি”
সরেজমিনে দেখাযায়, ঘুড়িপ্রেমিরা সবাই সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এসব আনন্দ উপভোগ করছেন। অনেকটা দুরত্ব বজায় রেখেই কিশোর কিশোরীরা মেতেছে দুরন্তপনায়। যেন কোথাও আমার হাড়িয়ে যেতে নেই মানা।
দর্শকদের আরো বেশি আকর্ষিত করছে, রাতে জোনাকীর মতো বিভিন্ন লাইটের মাধ্যমে ঘুড়ি উড়ানো। এতে রাতের আকাশ আরো সুন্দর ও ঝলমলে করছে। নাটোর গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব ঘুড়ি উড়ানোর দৃশ্য চোখে পরার মতো।
এ বিষয়ে ধারাবারিষা ইউপির সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মিন্টু বলেন, ঘুড়ি উড়ানো বাংলার প্রাচীন উৎসব। এটি প্রায় দিন দিন হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে কিছু ঘুড়িপ্রেমীদের কারনে আজও টিকে আছে এই প্রাচীন উৎসব। রাতের আকাশে লাইটিং করা ঘুড়িকে তিনি কৃত্রিম তারা বলে মন্তব্য করেছেন। এ উৎসব গ্রাম বাংলাকে আরো আনন্দময় করে তুলছে বলে তিনি মনে করছেন।
গ্রামের পাড়া-মহল্লার আকাশজুড়ে শোভা পাওয়া এসব ঘুড়ির বেশিরভাগই ঘরে বানানো। এসব ঘুড়ি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় রঙিন পলিথিন, কেউবা তৈরি করে কাগজ দিয়ে। এখানেও আছে শিল্পের বৈচিত্রতা। ঘুড়ি তৈরির ক্ষেত্রে দেয়া হচ্ছে নানান আকার। দূর থেকে মনে হতে পারে কোনও এক অচেনা পাখি আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে। আবার কিছু ঘুড়ি তৈরিতে অনেকেই ব্যবহার করছেন রঙিন কাগজ। কেউবা তাতে আবার যুক্ত করছেন বাহারি নকশা।
এসব ঘুড়ি যারা ওড়াচ্ছে কেবল তারা আনন্দ পাচ্ছে বা তাদের সময় কাটছে এমনটি নয়। করোনাকালে ঘরবন্দি মানুষগুলো বারান্দা, জানালা, ছাদে দাঁড়িয়ে দেখছেন এসব ঘুড়ির ওড়ানোর দৃশ্য। অনেক বয়স্ক মানুষের চোখে মুখে ভেসে উঠছে শৈশবের সেই স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা।

আপনার মতামত লিখুন :