৫ বারের সংসদ সদস্য ৩৮ বছর ভাড়া বাড়িতে !

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:০৬ AM, ২৪ মে ২০২০

সম্পাদকীয়.

ছয় বার সংসদ সদস্য একবার প্রতি মন্ত্রী হয়েও ৩৮ বছর ভাড়া বাড়িতে বাস করছেন। জাতীয় সংসদ সদস্য-৬১ নাটোর-৪ গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম আসনের এমপি নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তি যোদ্ধা অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস। সুদীর্ঘ ৫৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বহুবার জেল খেটেছেন তিনি,জুলুম অত্যাচারে স্বীকার হয়েছেন পদে পদে। কিন্তু রাজনীতিতে হাল ছাড়েননি এক মহুর্তের জন্যেও। ক্যাডার বিহীন উত্তর জনপদের সবচেয়ে প্রবীণ এই নেতা তৃর্ণমুলের মানুষের ভালবাসা নিয়ে আ.লীগের বট বৃক্ষ হয়ে বেঁচে আছেন আজও।
তৃর্ণমূলের কর্মী সর্মথকদের কোন সমষ্যায় তার কাছে আসতে কোন নেতার প্রয়োজন হয়না। এমন কি গ্রাম গঞ্জের বিচার শালিসও তিনি করে থাকেন অবলিলায়। যাতে করে তার নেতা কর্মী বা সমর্থকদের আইনের আশ্রয়ে গিয়ে ভোগান্তি বা আর্থিক দন্ড দিতে না হয়। সকাল ৭টা থেকে ৯টা অতপর সারা দিন বিভিন্ন জনসভা ও দলীয় কাজ শেষে রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক টানা চলে তার এই কর্মযজ্ঞ। তার পেশা নেশা সব কিছুই রাজনীতিকে ঘিরে, এর বাহিরে তার কিছুই নেই। রাতদিন ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৮ ঘন্টাই ব্যয় করেন তার এলাকার গণ মানুষের জন্য। তার চিন্তা ধ্যান ধারনা সব কিছুই উন্নয়ন আর সমাজের পিছিয়ে পড়া মানূষ গুলোকে নিয়ে।
ইতোমধ্যেই তার প্রমানও দিয়েছেন তিনি । উন্নয়নের দিক থেকে সারা বাংলা দেশের মধ্যে সপ্তম স্থানে রয়েছে তার নির্বাচিত এলাকা গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম। যার স্বীকৃতি স্বরুপ হুইপসহ সাত জন সংসদ সদস্য বি.বার্তা.কম “মাটির মানুষ” সম্মাননা পুরুস্কারে ভ’ষিত হন। রাজনৈতিক প্রতি হিংসা লোভ লালসার উর্ব্ধে থেকে কাজ করছেন প্রতিনিয়ত। বঙ্গ বন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে জন নেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থেকেছেন সব সময়। বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্ব পর্যন্ত তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর বিশস্ত কনিষ্ঠ সহচর। সে সময় তিনি ছাত্র রাজনীতিতে পুরো উত্তর বঙ্গের ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক ছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সারা দেশের কারাবন্ধীদের মধ্যে সর্বচ্চ পনে ৫ বছর কারাগাড়ে বন্দী জীবন কাটিয়েছেন। জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ করতে গিয়ে দেশের সর্ব প্রথম পুলিশি আক্রমনে স্বীকার হয়ে আহত হন অতপর আটক হন তিনি। রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি ১৭ মাসের সন্তান শহীদ কল্লোলকে হারিয়েছেন, তৎকালিন পাকিস্তানী আর্মির নির্মমতায় স্বীকার হয়ে শহীদ হন কল্লোল। এতেও শেষ হয়নি সাংসদ কুদ্দুসকে খুজে বেড় করে বস্তায় ভরে পদ্মা নদীতে ফেলে দেন ওই জান্তারা। কিন্তু আল্লাহর অশেষ কৃপায় বেঁচে যান তিনি।
সব হারানো এই মানুষটি বঙ্গবন্ধুর মতই অকুতভয়। হাজারো শত্রু থাকা সত্বেও ক্যাডার বিহীন রাজণীতি করেন। কখনোই পুলিশ বাহিনীকে নিজের স্বার্থে ব্যাবহার করতেন না। এমন কি মন্ত্রী থাকা অবস্থায়ও প্রটোকল নিতে চাইতো না। তার কোন ভাই ভাতিজা ছেলে মেয়ে এমনকি আত্বীয় স্বজনকেও আশ্রয় প্রশ্রয় দেননি কখনো। তাঁর এলাকার ব্যাবসায়ীরা ব্যবসা করছেন র্নিবিঘেœ।
অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমি যাদের কেই রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত করেছি তারাই আমার ক্ষতি করেছে বার বার। কারন আমি ঘুষ,দুর্নীতি,মদ,জুয়া,বাল্যবিয়ে,ইভটিজিং,ট্যান্ডার বাজী ইত্যাতির বিরুদ্ধে থাকার কারনে কিছু নেতার অসুবিধা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার বিরুদ্ধে নেত্রীর কাছে বিষাধাগাড় করেছেন। কিন্তু নেত্রী কারো কথা না শুনে বার বার আমাকে নৌকা প্রতিক দিয়েছেন। আমি ৬ বার তাঁর প্রতিদানও দিয়েছি। আমি আমার ৫৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনে একবার স্বল্প সময়ের জন্যে হলেও মৎস ও পশু সম্পদ মন্ত্রী হয়ে কৃতিত্বেও সাথে আমার দায়িত্ব পালন করেছি। এক জন প্রবীণ রাজনীতি বিদ হিসাবে আমি তৈল মর্দন করতে পারিনি বিধায় আমার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি কখনোই । অথচ আমার হাতে তৈরী অনেক জুনিয়র নেতাই কোটিপতি বনে গেছেনে মাত্র কয়েক বছরে। যা আমি ৬ বার এমপি ১বার মন্ত্রী হয়েও করতে পারিনি। রাজনীতির শেষ প্রান্তে জীবন যুদ্ধের সায়ান্নে এসে অনেক ধারদেনা, ব্যাংক লোন নিয়ে অনেক কষ্টে একটি দ্বিতল ভবন করেছি ছেলে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে। আমার আশেপাশের অনেক ছাত্রনেতাই ৩-৪ বছওে ৫ তলা ভবন নির্মান করেছেন যেটা আমি ৫৮ বছরেও করতে পারিনি। তাতেও আমার কোন দুঃখ নেই জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ায় অবদান রাখতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আরো ধন্য এজন্য যে বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার ছায়াতলে রাজনীতি করে এদেশের উন্নয়নের অংশিদার হতে পেরেছি এর চেয়ে বড় অর্জন আর কিছু আছে বলে আমি মনে করিনা। এটাই আমার রাজনৈতিক বড় অর্জন # প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন ০১৭১৯৭৩৪৫২০

আপনার মতামত লিখুন :