লকডাউনের প্রভাবে কমেছে ঢাকাসহ দেশের বায়ু দূষণ

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২৭ AM, ২৮ মে ২০২০

সম্পাদকীয়.

মানুষ ভাসছে প্রকৃতি হাসছে সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করেছিলাম। কিছু দিন অতিবাহিত না হতেই তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে প্রকৃতিতে। সাগর, পাহাড়, বৃক্ষরাজি, আকাশ-পাতালসহ সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে স্বচ্ছ নির্মল আদোর ছোঁয়া প্রকৃতির এক অনাবিল আবেশ। অথচ আমরা প্রকৃতিকে যখন রাগিয়ে দেই ঠিক তখনি সে আমাদের সাথে বৈরি আচরণ করতে শুরু করে।
করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে মহামারি আকারে। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। আক্রান্ত প্রায় সকল দেশেই চলছে লকডাউন। নিজেকে সুস্থ রাখতে ঘর থেকে না বের হতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে সকলকে। বন্ধ আছে কল কারখানা, শিল্প প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ। নিজ ঘরে আপাতত বন্দী জীবন কাটাচ্ছে মানুষ।
চারিদিকে এতসব দুঃসংবাদের মধ্যেও করোনার প্রভাবে প্রকৃতিতে দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন। অল্প কিছুদিন আগেও সারাবিশ্বের সব মেগা সিটির মধ্যে ঢাকা ছিল সবচেয়ে বেশি দূষিত শহর। কিন্তু চলমান লকডাউনে কদিনেই ঘটে গেছে চমৎকার পরিবর্তন। ইতিমধ্যেই বিশ্বব্যাপী এয়ার বায়ু দুষন নিয়ে কাজ করা একদল গবেষকরা বলেছেন দুষনের দিক থেকে ঢাকা নেমে এসেছে ২১ নাম্বারে। ঢাকার অবস্থান দখল করে ভারতের গাজিয়াবাদ শহর উঠে গেছে প্রথমম স্থানে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুসারে, বায়ু দূষণের ফলে বিশ্বব্যাপী এক বছরে আনুমানিক ৭ মিলিয়ন অকাল মৃত্যু ঘটে। মূলত হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ থেকে মৃত্যুর হার বাড়ার পেছনে বায়ু দূষনকেই বিশেষভাবে দায়ী মনে করা হয়।
লকডাউনের কারণে যেমন কমেছে কল কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া এবং বর্জ্য, পাশাপাশি কমেছে যানবাহনের কালো ধোঁয়া। যানবাহন বন্ধ থাকায় কমেছে শব্দ দূষণও। যে নগরীতে আগে সকলের ঘুম ভাঙত যানবাহনের কর্কশ শব্দে, এখন তাদেরই ঘুম ভাঙাচ্ছে পাখির কিচির মিচির ডাক। এই শহরে পাখিও আছে এমন কথা ভুলতে বসা মানুষের মনে তাই কিছুটা হলেও ফিরে এসেছে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা।
লক ডাউনের কারণে শুধু ঢাকাসহ সারা দেশই নয়, পরিবেশগত উন্নতি হয়েছে বিশে^র অনেক রষ্ট্রেই । এই দূষণের পরিমাণ নাটয়কীয়ভাবে কমে এসেছে। যার ফলে দেশের পরিবেশবিদরা করোনার এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীসময়েও দেশের বায়ু দূষণ কমানোর জন্য সরকারকে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলছে যার ফলে সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমে আসে।
করোনার বিস্তাররোধে লকডাউনের পদক্ষেপে সারাবিশ্বেই পরিবেশগত বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় জনমানবহীন রাস্তায় নির্বিঘেœ ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে হরিণসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীকে। ভারতের একটি সমুদ্রে সৈকতে পর্যটক না থাকায় ডিম পাড়তে ছুটে আসে লাখো কচ্ছপ ও রংবে রঙের কাঁকড়ার দল। বাংলাদেশের কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে প্রায় ত্রিশ বছর পর দেখা গেছে ডলফিন, এমনকি দুর্লভ প্রজাতির গোলাপি ডলফিনেরও দেখা মিলেছে । পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সৈকতে ফুটেছে সাগরলতা, আর এ জালে রাশি রাশি বালুরাশি আটকে সৃষ্টি হচ্ছে বালিয়াড়ি।
পর্যটকশূন্য কক্সবাজার সৈকতে ফুটেছে সাগরলতা। বিশ্বব্যাপী প্রকৃতির বৈরি আচরণ যেভাবে গ্রাস করছিলো। করোনা মহামারি থেকে নিতে হবে সে শিক্ষা। যাতে করে প্রকৃতি আরো ভাল করে সাজিয়ে তুলতে পারে নিজেকে, যেন আমরা চোখ ফেরাতে না পারি। ফিরে না যাই আবারও দূষণের পুরনো সংস্কৃতিতে।

প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বনলতা, সভাপতি গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাব।

আপনার মতামত লিখুন :