আরএমও আমিনুল ইসলামের স্বজনপ্রীতি: স্টকের ওষুধ আত্মীয়র ব্যাগে

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:০৫ PM, ০৩ জুন ২০২০

বনলতা নিউজ ডেস্ক.

নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক ডাক্তার আমিনুল ইসলামের স্বজনপ্রীতির খবর এখন টক অফ দ্য টাউন। চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের হাসপাতাল কক্ষে তার দুই আত্মীয়ের কাছ থেকে বেশ কিছু ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। যেগুলো নাটোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসার জন্য সরবরাহকৃত। অভিযোগ রয়েছে এই ঔষধগুলো তার ওই দুই আত্মীয়কে ডা: আমিনুল ইসলাম দিয়েছিলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঔষধগুলি জব্দ করেছেন।
জানা গেছে, সোমবার বেলা দেড়টার দিকে নাটোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম রমজান চিকিৎসার প্রয়োজনে ডা: আমিনুল ইসলামের কক্ষে ঢোকেন। এ সময় ভেতর থেকে দরজা বন্ধ ছিল। তিনি দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখেন জাহের উদ্দিন তার ব্যাগে বেশ কিছু ঔষধ ঢোকাচ্ছেন। এ সময় শরিফুল ইসলাম রমজান এগুলো কিসের ঔষধ জানতে চাইলে তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। তখন বিষয়টি হাসপাতালের পরিচালক আনসারুল ইসলাম, নাটোরের সিভিল সার্জন ও উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসকদের জানান চেয়ারম্যান রমজান। যাচাই করে দেখা যায় ঔষধগুলো নাটোর সদর হাসাপাতালের রোগীদের চিকিৎসার জন্য সরবরাহ করা। তাক্ষণিকভাবে ডা: আমিনুল ইসলামের মামাতো ভাই গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুরের আহমেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম স্বপন ও শফিকুলের ভায়রা নাটোর সদর উপজেলার জলার কান্দির নাজিম উদ্দিনের ছেলে জাহের উদ্দিনের কাছ থেকে ঔষধগুলো জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ঔষধের মধ্যে রয়েছে ইসোরাল ৬০পিস, সলবিয়ন-৪০পিস, ওপি ক্যাপসুল ৮০পিস, কট্রিম ১৬০ পিস, এমোক্স ৪০ পিস, প্যারাসিটামল ১০০ পিস, সিপ্রোসিন ২০ পিস, সিট্রিজিন ২০ পিস, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ৬০ পিস, এসিলোফিকাল ২০ পিস এবং জেন্টামাইসিন ক্রিম ৪টি। ঔষধগুলো সম্পর্কে সদর হাসপাতালের ফার্মাসিস্ট রেবেকা সুলতানা জানান, এই ঔষধগুলো তিনি দেননি।

আরএমও আমিনুল ইসলাম জানান, শফিকুলের হাত কেটে যাওয়ায় মাত্র ৪টি ক্রিম দিয়েছি। বাকী ঔষধগুলোর বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। জাহের উদ্দিনের কাছে কিভাবে ঔষধগুলো এলো সে বিষয়ে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

নাটোরের সিভিল সার্জন ডা: কাজী মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি তদন্ত করার জন্য ডা: আনসারুল ইসলামকে বলা হয়েছে। তদন্তের পরেই এবিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের পরিচালক ডা: আনসারুল ইসলাম জানান, ঔষধগুরো জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত দু’তিন প্রকারের ঔষধ বর্তমানে হাসপাতালের স্টকে নেই। আমাদের ধারণা এই ঔষধগুলো চিকিৎসার নামে হাসপাতালের কোন ব্যক্তি জমা করে রেখেছিলেন। তদন্ত শেষে প্রকৃৃত ঘটনা জানা যাবে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে জন্য আগামীকাল একটি কমিটি তৈরী করে দেয়া হয়েছে। তদন্তের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, সাধারণ মানুষ এবং অনেক গরিব মানুষ ওষুধের জন্য চিকিৎসা করাতে পারছেনা আর ইনারা স্বজনপ্রীতি করে আমাদের সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে। এর সাথে জড়িত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। সুত্র-নারদ বার্তা

আপনার মতামত লিখুন :