গ্রামের সংগ্রামী নারীরা এখনো অধিকার বঞ্চিত!

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪১ AM, ০৮ জুন ২০২০

সম্পাদকীয়.

..সাম্যের গান গাই-আমার চোখে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই। কবি নজরুলের ্এই অমর বাণী এই সমাজ এখনো পৌছাতে পারেনী তৃৃণমুুলে। শিক্ষিত মেয়েরা যেমন বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপর্ুুণ পদে মেধা শ্রম দিয়ে সাহসিকতার সাথে কাজ করছেন। ঠিক সে ভাবেই গ্রামের নারীরাও সর্ব শক্তি দিয়ে পুুরুষের সাথে কাঁেধ কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন, রাত দিন বাসা-বাড়ীতে,মাঠে- ঘাটে ও কৃষি জমিসহ সর্বত্র।্ পার্থক্যটা শুধু ্এখানেই শহরের নারীরা কিছুটা আত¦ মর্যাদা ও সম্মান পেলেও গ্রাম বাংলার নারীরা আজো অবহেলিত বিভিন্নভাবে। শহরে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নারীরা তার প্রাপ্য মর্যাদা বুঝে নিলেও পারছেনা গ্রামীণ নারীরা। তারা বাসা-বাড়ীতে কঠোর পরিশ্রম করেন সে কাজের কোন স¦ীকৃতি তো মেলেই না পান না কোন মজুরীও। উল্টো শুনতে হয় নানা অসম্মানজনক কথা।
গুরুদাসপুর বিলচলন শহীদ সামসুজ্জোহা সরকারী কলেজে প্রভাষক কৃষিবিদ মো. জহুরুল হক সরকার বলেন, গ্রামীণ নারী শ্রমিকদের ইতিহাস এক অবিচ্ছেদ্য আলোক বিহীন রাতের গল্প। কৃষিতে ্এবং বাসাবাড়ীতে নারীর ভূমিকা এবং অবদান বর্ননাতীত।্ অথচ গ্রাামীণ নারীরা ন্যায্য মজুরি এবং সম্মান কোনটিই পায়না। সংশ্লিষষ্ঠ সমস্যা দুুটির সাথে তার উপযুক্ত সমাধানের অভীষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এগোতে পারলে আমরা সব কিছু নিয়ে আরো বিশাল অর্জনের দিকে এগিয়ে যেতে পারব। পারব আলোকিত সীমান্তে পৌছাতে। যদিও কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় নারী শ্রমিকরা শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনে শিকার হন পুরুষ শ্রমিকদের কাছে, তবুও আাশার কথা হলো সেদিন আর বেশী দুরে নেই সেই কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবেন গ্রামীণ নারীরা। কারন গ্রামের নারীরা এখন প্রায় ৬০% শিক্ষিত হয়েছে ।
চলনবিলের খুবজীপুর ইউনিয়নের পিপলা গ্রামের নারী শ্রমিক মিনা, সেফালী মরিয়ম জানালেন- তারা তো শুধু শ্রমই বিক্রি করলেন নায্য মজুরী পেলেন না। পুরুষের সাথে সমান তালে কাজ করেও নানা ধরণের বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে। তারা র্এভাবে অধিকার বঞ্চিত হয়ে কাজ করে গেলেও তাদের কষ্ট দেখার কেউ নাই। তাদের দাবী কোন কোন কাজে তারা পুরুষ শ্রমিকের চাইতেও বেশী কাজ করে থাকেন । অথচ মজুরীর ক্ষেত্রে বৈষম্যে শিকার এখনো।
গুরুদাসপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন জানান, নারীরা কৃষির অগ্রদূত, যে নারীরা আমাদের কৃষি সমাজ এবং সংসারকে মহিমান্বিত করেছে জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ করেছেন তাদের কষ্টগাঁথা ইতিহাস আসলে এখনো অমানবিক। এ দেশে এখনো ৮৫ শতাংশ নারীরা উপার্জনে স্বাধীনতা পান না। মাত্র ১৫ শতাংশ নারীরা নিজের ইচ্ছায় উপার্জনের স্বাধীনতা পান। আর যারা আয় করেন তাদের প্রায় ২৪ শতাংশই নিজের আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে গ্রামের তুলনায় শহুরে নারীদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা কিছুটা বেশি। দেশে ৮৫ শতাংশ নারীরা কোনো না কোনো ভাবে ভিন্নতর নির্যাতনের শিকার হন। তবে অল্পসংখ্যক স্বামীই বা সমাজ নারীকে উপার্জনের স্বাধীনতা দেন। সেসব স্বামীর ৯৩.১৯ শতাংশই স্ত্রীর উপার্জন করার বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখেন না। আমাদের নারীরা বাড়তি সেবা দেওয়ার জন্য ব্যস্ত থাকেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, দিনের পর দিন, মাস পেরিয়ে বছর এমন কি আজীবন আমরণ। আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে; পুষ্টিতে তুষ্টিতে যুক্তিতে নারীর পাওনা অধিকারকে সমানভাবে প্রাপ্যতা অনুযায়ী সুনিশ্চিত করতে হবে; নারীকেই শিক্ষা প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো দক্ষ করে তুলতে হবে; নারী বলে কোনো রকম বৈষম্য অবহেলা করা চলবে না; নারী আইনগত অধিকার, বিনিয়োগী অধিকার, অবদানের স্বীকৃতি যথাযথভাবে দিতে হবে।
তিনি আরো জানান,আমরা সবাই যদি সচেতন হই তাহলে অনেক দুর এগিয়ে যেতে পারব এতে কোনো সন্দেহ নেই। প্রয়োজন শুধু আইন নীতিমালা প্রনয়ন ও বাস্তবায়ন করা। আমাদের জাতীয় কবির সাথে একমত হয়ে বলি সেদিন সুদূর নয়-যেদিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও বিজয়ের গান। বাংলার নারীর সার্বিক কল্যাণ আর মঙ্গল হোক। প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন বিভাগীয় প্রধান (স.বি) রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ ও সভাপতি গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাব গুরুদাসপুর ,নাটোর।

আপনার মতামত লিখুন :