১ মাসে গুরুদাসপুরের দশ আলোচিত অপরাধ দায় কার?

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:০৭ AM, ০৯ জুন ২০২০

 

সম্পাদকীয়.
কুৎসা রটিয়ে গৃহবধূর চুলকর্তন, একনারীর সর্বস্ব্য লুটে নিয়ে যৌন হয়রানী, আ’লীগের দুইপক্ষের অস্ত্র মহড়া, চিকিৎসা নিতে আসা এক গর্ভবতী নারীকে শ্লীলতাহানি, এক শিশুকে নিয়ে তার সৎ মা উধাও, ১২ মামলার আসামীর পা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন, ছাত্রলীগ নেতা পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা অতপর বিয়ে ও সবশেষ ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলেকে কুপিয়ে যখমের ঘটনা ঘটেছে। গত ৯মে থেকে ৫জুন পর্যন্ত গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে এসব ঘটনা ঘটেছে।

বন্ধুর সুন্দরী বউয়ের সাথে পরকীয়া করতে এসে ধরা খেলেন ছাত্রলীগ নেতা
নাটোরের গুরুদাসপুরে ব্যবসায়ীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়ার সময় আপত্তিকর অবস্থায় এলাকাবাসীর কাছে আটক হয়েছেন গুরুদাসপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাশিষ কবির সুবাশ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় পৌর সদরের চাঁচকৈড় বাজার পাড়া মহল্লায় ওই গৃহবধুর ঘরে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে আটক হয়। এ ঘটনায় এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । পরে গণধোলাই দিয়ে পুর্বের স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা কাবিনমুল্যে বিবাহ দেওয়া হয়।
এলাকাবাসী জানায় ,নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর এলাকার চাঁচকৈড় বাজার পাড়া মহল্লার ফিড ব্যবসায়ী জনি রহমানের স্ত্রী নুপুর আকতারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগ নেতা সুবাস। তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ব্যবসায়ীকে অন্যঘরে ঘুমিয়ে রেখে ওই নারী ও সুবাস পাশের একটি কক্ষে অবৈধ মেলামেশার সময় স্থানীয়দের হাতে আটক হয়। পরে স্বামী তাকে সঙ্গে সঙ্গে তালাক দেন । পরে তাদের দুইজনের সম্মতিতে এলাকাবাসী এবং ওই নারীর স্বামীর সম্মতিতে ১০ লাখ টাকা কাবিনমূলে বিয়ে দেয়া হয়।

কুৎসা রটিয়ে গৃহবধূর চুল কর্তন!
সখিনা বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মাথার চুল কর্তন করেছিল দ্বিতীয় বিয়ে করা স্বামীর আগের স্ত্রী ও স্বজনরা। এঘটনায় নির্যাতিত নারীর পিতা বাদি হয়ে ৬জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করলে সখিনার দ্বিতীয় স্বামী ফরিদুল ইসলামকে (৫২) আটক কেরে শুক্রবার নাটোর জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বাদি নির্যাতিতা নারীর পিতা সিদ্দিক আলী বলেন- প্রায় বছর খানেক আগে সখিনার সাথে তার প্রথম স্বামীর তালাক হয়। এর কিছুদিন পরই ফরিদের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। কিন্তু ফরিদের প্রথম স্ত্রী এই বিয়ে না মানায় তার মেয়েকে শারিরীক নির্যাতন এবং চুল কেটে ঘরে আটকে রাখেন। পরে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

স্বর্বস্য লুটে বিয়ে করছেন না প্রেমিক!
দীর্ঘদিন শারিরিক দৌহিক সর্ম্পকের পর প্রেমিকের হাত ধরে ঘর ছেড়েছেন স্নাতক (পাস) কোর্সে অধ্যায়নরত এক শিক্ষার্থী (২২)। সঙ্গে নিয়ে ছিলেন কৃষক বাবার জমানো সাড়ে তিন লাখ টাকা। প্রেমিক শফিকুল ওই ছাত্রীকে নিয়ে পাশের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় একটি ভারা বাড়িতে অবস্থান করেন ২ দিন।
এরপর কৌশলে সাড়ে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভুক্তভোগি ওই ছাত্রীকে ফেলে চা পান করার কথা বলে নিরুদ্দেশ হয়েছেন প্রেমিক শফিকুল। এখন ওই ছাত্রী বিয়ের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে প্রেমিক শফিকুলের বাড়িতে অবস্থান করেছিলেন। পরে গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম থানায় অনেক ঘোরাঘুরির পর বড়াইগ্রাাম থানায় এ নিয়ে একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যৌন হয়রানির শিকার গৃহবধু
গর্ভবতী এক গৃহবধু (২৫) চিকিৎসা নিতে এসে কাজী আবু বক্কার সিদ্দিক নামের এক মেডিকেল টেকনোলজিষ্টের হাতে শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগি ওই গৃহবধূর স্বামী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

শ্লীলতাহানির শিকার ওই গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন- বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি স্বামীর সঙ্গে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভকালিন টিকা নিতে আসেন। এসময় অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক তার স্বামীকে কৌশলে বের করে দেন। টিকা দেওয়ার নামে ওই মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নারী কেলঙ্কারীসহ বিভিন্ন ধরণের অভিযোগও ছিল। ঘটনার কয়েকদিন পর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলা!
সরকারি ত্রাণ নিয়ে নয়ছয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় ইউপি চেয়াম্যানের উপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা বজলু সরদারের বিরুদ্ধে।এঘটনায় গুরুদাসপুরের ৫নং ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনকেই আটক করে পুলিশ।
তবে বজলু পক্ষের কাউকে আটক করতে পারেনি। এঘটনাকে কেন্দ্র করে আ’লীগের দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বেলা ১১টার দিকে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাউপাড়া-বিন্যাবাড়ি বাজারে ওই ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়রা জানান- বেশ কয়েকদিন আগে সরকারি ত্রাণ বিতরণ নিয়ে একই ইউনিয়ন যুবলীগের সিনীয়র সহসভাপতি বজলু সরদার চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনকে ফেসবুকে কটূক্তি করেন। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যান ও বজলু পক্ষের মধ্যে রেষারেষি চলছিল।
একপর্যায়ে চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন ও তার গাড়ি চালক মতিনের ওপর হামলা চালিয়ে শারিরিকভাবে লাঞ্চিত করেন বজলু ও তার সমর্থকরা। পরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সায়েদ আলী। মামলার প্রতিবাদে ধারাবারিষা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানবন্ধন করেন। পরে বজলু ও ছায়েদ আলীও পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ও মানবন্ধন করেন।

চার হত্যাসহ ১২ মামলার আসামির পা কর্তন
মিঠু (৩০) নামের এক যুবকের বাম পা কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত ৮ টার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের পাশে ওই পা কাটার ঘটনা ঘটেছে। আহত ওই যুবককে উদ্ধার করে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রামেকে পাঠানো হয়েছে।
আপন ফুফা জালালকে প্রকাশে কুপিয়ে হত্যা, আপন নানা মমিন মন্ডলকে গলা কেটে হত্যা, মোজাম নাম এক যুবককে হাত-পা কাটা মামলাসহ এক নারীকে গলা কেটে হত্যার অন্যতম আসামি ছিলেন মিঠু। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। আহত মিঠু খুবজীপুর গ্রামের ছাইদুল ইসলামের ছেলে। তাকে সবাই মিঠু কানা নামেই চেনে।
স্থানীয়রা জানান- মিঠু তার চাচাতো বোনকে জোর করে বিয়ে করতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু চাচা রফিকুল ইসলাম তাতে রাজি নন। বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরে রেষারেষি চলছিল। এঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

দলবদ্ধভাবে বলাৎকারের শিকার শিশু!
সাত বছরের এক শিশুকে পালাক্রমে বলাৎকারের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার এক সপ্তাহ কেটেছে গ্রাম্য মোড়লদের দেওয়া বিচারের প্রতিশ্রুতিতে। সর্বশেষ থানায় মামলা হয়। আসামীকে জেল হাজতে প্রেবন করা হয়েছে। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর স্কুলপাড়ায় ২৭মে সন্ধ্যায় ওই বলাৎকারের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান- বামনবাড়িয়া গ্রামে নির্যাতনের শিকার শিশুটির বাড়ি। ওই শিশু তার নানার বাড়ি খুবজীপুরে থাকে। সে খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।
শিশুটির পিতার অভিযোগ- প্রতিবেশি কামরুল ইসলামের ছেলে হৃদয় (১৫), আরশেদ আলীর ছেলে জামরুল (১৬) ও জালালের ছেলে মারুফ (১৪) শিশুটিকে প্রথমে প্রলোভন দেখিয়ে পরে হুমকি দিয়ে পালাক্রমে বলাৎকার করে। বিষয় না বলতে হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে নাটোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অভিযুক্ত তিনজনই সম্পর্কে শিশুটির মামা। এঘটনায় পুলিশ মামলা নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে।

সবশেষ গুরুদাসপুরের ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলেকে কুপিয়ে যখম
নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের ছেলে নাইম শেখকে কুপিয়ে আহত করেছে তারই দুই বন্ধু। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে গুরুদাসপুর উপজেলা সদরের হরিবাসরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত নাইম শেখ-২২ গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলাল শেখের ছোট ছেলে।গুরুতর আহত অবস্থায় নাইমকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভতির্ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, আজ শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুরুদাসপুর হরিবাসরের সামনে একটি চায়ের স্টলে নাইম শেখের সাথে তার দুই বন্ধু গুরুদাসপুর বাজার এলাকার আরমানের ছেলে মাটি(২৩) ও একই এলাকার মৃত মক্কেলের ছেলে হাসু(২৪) সাথে তর্ক শুরু হয়। এরই এক পর্যায়ে মাটি ও হাসু ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাইম শেখকে আঘাত করে।
এছাড়া চায়ের কাপ ও কাচের গ্লাস দিয়ে নাইমের মাথায় আঘাত করা হয়। নাইমের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে।
রাতেই বিয়াঘাট ইউপি চেয়াম্যানের বাড়ি ও অভিযুক্ত মাটির বাড়ি ভাংচুরের অভিযোগ উঠে ভুক্তভোগির সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এঘটনায় মামলা হলে অভিযুক্ত কয়েকজনকে আটক করে নাটোর জেলাহাজতে পাঠায় পুলিশ।
গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম এসব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোরের কাগজকে জানান, গুরুদাসপুরের বিভিন্ন এলকায় বিচ্ছিন্নভাবে এসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ মামলা নিয়ে গুরুত্বের সাথে তা তদন্ত করছে। বেশিরভাগ মামলায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। তাছাড়া অপরাধ প্রবণতা কমাতে কাজ করছে পুলিশ।
মো.মাজেম আলী মলিন বিভাগীয় প্রধান (স.বি) রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ, প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বনলতা ,সভাপতি গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাব।

আপনার মতামত লিখুন :