প্রাইভেটের ছাত্রীকে প্রেমের   ফাঁদে ফেলে গণধর্ষন

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:১৭ AM, ১৮ জুন ২০২০

মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি.
প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে ছাত্রীর বড় বোনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন বিবাহিত এক সন্তানের জনক প্রাইভেট শিক্ষক রুহুল আমিন রুবেল (৩২)। এরপর সুযোগ খুঁজতে থাকে কীভাবে তাকে বাগে পাওয়া যায়। অবশেষে সেই সুযোগ আসে।

গত ৯ জুন মেয়েটি তার দাদার বাড়ি বেড়াতে গেলে সেখানে মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির হন শিক্ষক রুবেল। এরপর নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে তাকে নিয়ে যায় কথিত এক খালার বাসায়। সেখানে খালার সহযোগিতায় তিনদিন ধরে আটকে রেখে মেয়েটি ধর্ষণ করে রুবেল।

নিজে ধর্ষণ করার পর তার দুই সহযোগীও মেয়েটিকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি কৌশলে ফোন করে ঘটনা জানায় তার বাড়িতে। এরপর পরিবারের লোকজন গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসে।

ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের উত্তর সেওতা এলাকায়। মেয়েটির বাড়ি সিংগাইর ‍উপজেলার জামসা ইউনিয়নের বাস্তা গ্রামে। ধর্ষক রুবেল একই গ্রামের জনৈক চাঁন মিয়ার ছেলে ও এক সন্তানের বাবা।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে রুহুল আমিন, কথিত খালা ও অপর দুই ধর্ষককে আসামি করে ৪ জনকে আসামি করে সিংগাইর থানায় মামলা করেন। মামলার পর মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষার জন্য সিংগাইর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে, বুধবার (১৭ জুন) ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের প্রশয়দাতা কথিত খালা জমিলা খাতুনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে। জমিলা জেলা শহরের উত্তর সেওতা এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। এলাকায় জনৈক নিলুফা বেগমের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জমিলা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মেয়েটির বাবা উপজেলার বায়রা ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামের বাসিন্দা হলেও পরিবার নিয়ে বাস্তা গ্রামে ভাড়া থাকেন। আসামি রুবেল মেয়েটি ও তার ছোট বোনকে পাইভেট পড়াতেন। এ সুযোগে বড় ছাত্রীকে (১৪) প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দিতো। এক পর্যায়ে গত ৯ জুন মেয়েটি তার দাদার বাড়ি বেড়াতে গেলে রুবেল মোবাইল ফোনে ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখান থেকে তাকে মোটরসাইকেলে তুলে কথিত খালার বাসায় নিয়ে যান। তিনদিন আটকে রেখে রুবেল নিজে ও তার দুই সহযোগী তার ছাত্রীকে ধর্ষণ করে।

মেয়েটির মা জানান, তিনদিন ধরে আটকে রাখার পর ওই বাসার মোবাইল থেকে তার মেয়ে ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানায়। ঘটনা জানার পর এলাকা থেকে লোকজন নিয়ে সেখান থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করান তারা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিংগাইর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম জানান, জমিলা নামে এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন :