ভালো নেই গুরুদাসপুরের বই ব্যবসায়ীরা

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৩৮ AM, ২৭ জুন ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক.
স্মৃতি টিকিয়ে রখার জন্যই উত্তরসূরীরা ব্যবসা ধরে রেখেছেন। হারিয়ে যাচ্ছে বনেদি বইয়ের দোকানগুলো চাহিদা কম থাকায় গ্রামের বই বিক্রির দোকাগুলোতে ফুটবল ও কসমেটিক্স সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন বইয়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে হতাশার চিহ্ন। শুধু ক্রেতার অপেক্ষা আর ব্যাবসা টিকিয়ে রাখার চিন্তা।

উপজেলার বইয়ের বৃহত্তম মার্কেট বন্দর নগরী চাচকৈরের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে গিয়ে দেখা যায় এ করুন অবস্থা। বইয়ের ব্যবসায় মন্দাভাবের কারণে ব্যবসায়ীদের চোখে মুখে শুধুই এখন হতাশার ছাপ। যুগ যুগ ধরে চালিয়ে আসা ব্যবসা এখন নিভু নিভু অবস্থায় টিকে আছে। কেউ স্মৃতি রক্ষায় ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ ব্যবসা বন্ধ করে পাড়ি দিয়েছেন অন্য পেশায়। অন্যদিকে নতুন কেউ আসছেন না এই ব্যবসায়।
হাতে গোনা কিছু সৃজনশীল বই রয়েছে। বেশিরভাগ সেলফ সাজানো হয়েছে স্কুল কলেজের খাতা, কাগজ ও কলম দিয়ে। চাচকৈড় বাজারের সব চেয়ে বড় লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী মোস্তানুর রহমান রাংকু জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেচা বিক্রি কম। কোন মতে দিন চলে যাচ্ছে। শুধু মাত্র ব্যাবসাটি ধরে রাখতেই লাইব্রেরিটি এখনো চালু রেখেছি। নোট-গাইড বিক্রি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখন কোনমতে টিকে আছে।

নানা ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করে ব্যবসাটা এখনো টিকিয়ে রেখেছেন কেউ কেউ অধিকাংশ দোকানি বইয়ের ব্যাবসা না থাকায় অন্য ব্যাবসায় চলে গেছেন অনেকেই। তিনি জানালেন, ‘দীর্ঘদিনের বই ও প্রকাশনার ব্যবসা। এটাকে ধরে রাখতেই হবে। তবে বই বিক্রির ব্যবসা এখন আগের মতো আর ভালো নেই। বইয়ের প্রতি আকর্ষণ কমে যাওয়া ও নোট-গাইড বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থা।’
কিছু প্রতিষ্ঠান থাকলেও পুরনো অনেক বই বিক্রির দোকান এখন আর নেই। যেগুলো আছে তাও নিভু নিভু অবস্থায়।
এছাড়া বই বিক্রির পুরনো প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিশোর লাইব্রেরির জনতা লাইব্রেরীসহ অসংখ্য আজ বিলুপ্ত প্রায়। এসব দোকানের জায়গায় এখন খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রি কম হওয়ায় ব্যবসার ধরন পাল্টেছে। এখনে এখন বিয়ের কার্ড বিক্রি হচ্ছে। এখন ব্যবসা অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে।

মেধা সিড়ি লাইব্রেরীর স্বত্বাধিকারী মো,আনিসুর রহমান ও রুবেল পারভেজ জানালেন, একসময় জমজমাট ছিল বইয়ের দোকান গুলো। এখন সে গুলো বিরান ভূমি। আগে এখানে সকাল ৯টায় আসতাম। বাসায় ফিরতাম রাত ১০টায়। কিন্তু বইয়ের ব্যবসা মন্দাভাব থাকায় সপ্তাহে এক বা দুই দিন যাই সেখানে।

তারা জানান, ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় টিকে থাকাই এখন অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্য দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ।

নাটোর পাঠ্যপুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির পরিচালক জানান, অনেক পুরনো বইয়ের দোকান। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো আছে তাও নিভু নিভু অবস্থায় টিকে আছে। প্রকাশক ও বিক্রেতারা সরকারের পক্ষ থেকে কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী ভারতেও পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতারা অনেক সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে।

আপনার মতামত লিখুন :