আবারো রাখাইন ছেড়ে পালাচ্ছে হাজারো মানুষ

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:১০ AM, ২৯ জুন ২০২০

বনলতা নিউজ ডেস্ক.
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযানের পরিকল্পনা করেছে—এমন খবরে দেশটির রাখাইন রাজ্যের হাজার হাজার গ্রামবাসী ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক ডজন গ্রামপ্রধানকে স্থানীয় প্রশাসন সেনাবাহিনীর অভিযানের বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়ার পর এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দেশটির একজন আইনপ্রণেতা ও একটি মানবাধিকার সংগঠন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। খবর রয়টার্স।

শনিবার (২৭ জুন) রাতে মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমান্তবিষয়ক কর্মকর্তারা একটি উচ্ছেদ আদেশ জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয় স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এ আদেশ জারির বিষয়টি স্বীকার করলেও এর প্রভাব অল্প কয়েকটি গ্রামে পড়েছে বলে দাবি করেছে।

গত বুধবার গ্রামপ্রধানদের লেখা একটি চিঠিতে ওই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল। রাখাইন রাজ্য সরকারের নিরাপত্তা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রী কর্নেল মিন থান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাথেডাং পৌরসভার প্রশাসক অং মাইন্ট থেইন স্বাক্ষরিত চিঠিতে গ্রামপ্রধানদের বলা হয়েছে, পৌরসভার কায়ুকতান গ্রাম ও এর নিকটবর্তী এলাকাগুলোয় বিদ্রোহীদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে এমন সন্দেহে সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তাকে অবহিত করা হয়েছে।

তবে অভিযানের আদেশটি কোথা থেকে এসেছে, চিঠিতে তার উল্লেখ নেই। সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রী মিন থান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তার মন্ত্রণালয় থেকেই নির্দেশটি দেয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, নিরাপত্তা ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রণালয় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হাতে থাকা তিনটি মন্ত্রণালয়ের একটি।

প্রশাসন থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘সামরিক বাহিনী ওই গ্রামগুলোয় শুদ্ধি অভিযান চালাবে। অভিযান চলাকালে ‘এএ’ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যদি লড়াই শুরু হয়, তাহলে গ্রামে না থেকে কিছু সময়ের জন্য দূরে থাকবেন।’ এখানে ‘এএ’ বলতে আরাকান আর্মিকে বোঝানো হয়েছে। তারা রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যারা রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের অধিক স্বায়ত্তশাসন আদায়ের জন্য লড়াই করে চলছে।

চিঠির বিষয়ে মন্তব্যের জন্য রাথেডাং পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। তবে মিন থান জানিয়েছেন, চিঠিতে বর্ণিত শুদ্ধি অভিযান বলতে ‘সন্ত্রাসীদের’ লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানোর কথা বলা হয়েছে।

চিঠিতে প্রশাসক তার মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা করে কয়েক ডজন গ্রামে অভিযান চালানো হবে বলে উল্লেখ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কয়েক ডজন না, মাত্র কয়েকটি গ্রামে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’ তবে চিঠির অন্য বিষয়গুলো ঠিক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। অভিযান এক সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে জানিয়ে মিন থান বলেন, ‘যারা গ্রামে রয়ে যাবে, তারা এএর অনুগত বলে ধরে নেয়া হবে।’

শনিবার মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জ তেই ফেসবুকে এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার সামরিক বাহিনীকে ‘শুদ্ধি অভিযান’ পরিভাষাটি ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছিল। গ্রামবাসীদের পালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া চিঠিটি প্রত্যাহার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

নতুন অভিযানের আশঙ্কায় কায়ুকতান থেকে অন্যত্র চলে যাওয়াদের আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা সেনাবাহিনী করেছে বলে জানিয়েছেন মিন থান। মানবাধিকার সংগঠন রাখাইন এথনিক কংগ্রেসের সম্পাদক জ জ তুন জানিয়েছেন, অন্তত ১ হাজার ৭০০ জন পার্শ্ববর্তী পন্নাগিয়ুন পৌরসভায় পালিয়ে গেছে। আরো ১ হাজার ৪০০ জন আশপাশের গ্রামগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :