অবশেষে পুলিশের জালে আটক হলেন কিশোরীসহ ৪বিয়ে করা শিক্ষক শফিকুল

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩৮ PM, ১১ জুলাই ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
দৈনিক বনলতা,ভোরের কাগজসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ১০ জুলাই শুক্রবার “ধর্মীয়মতে বাল্য বিয়েসহ স্কুল শিক্ষকের ৪ স্ত্রী” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় শিক্ষক শফিকুলকে আটক করেছে গুরুদাসপুর থানা পুলিশ। আজ শনিবার উপজেলার নাজিরপুর বাজার এলাকার থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। এস আই সাদেদ ইসলামের নের্তত্বে সঙ্গীয় ফোর্সসহ শনিবার সকাল ১০টার দিকে তার ৩য় স্ত্রীর করা ধর্ষন মামলায় তাকে আটক করা হয়।
এস আই শাদেদ ইসলাম জানান, শফিকুলের তৃতীয় স্ত্রীর করা মামলার অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিক্ষক শফিকুলকে নাজিরপুর বাজার এলাকায় আটক করতে গেলে আসামী শফিকুল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত আসামী শফিকুল ইসলামকে বিকেল ৪ টার দিকে নাটোর কোর্টে চালান করা হয়েছে।
১৩ বছর বয়সে স্বামীর ঘরে যেতে হয়েছিল কিশোরীটিকে। স্বামীর সাথে তার বয়সের পার্থক্য ছিল তিনগুন। বয়স কম হওয়ায় শুধু ধর্মীয় পন্থায় বিয়েটি পড়ানো হয়েছিল। মাস দুয়েক সংসার করার পর বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীটির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় স্বামী শফিকুল ইসলাম (৪৫)। এখন বিয়ের কথাই অস্বীকার করছেন শফিকুল।
শফিকুল পেশায় শিক্ষকতা করেন। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে- বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীটি শিক্ষক শফিকুলের তৃতীয় স্ত্রী। কিশোরীটিকে সরিয়ে সম্প্রতি তিনি নতুন করে পার্শবর্তী সিংড়ার দমদমা এলাকায় আরো একটি বিয়ে করেছেন।
বাল্যবিয়ের শিকার কিশোরীর অভিযোগ- মায়ের সাথে সৎ বাবার বাড়িতে থাকে সে। শিক্ষক শফিকুলের বাড়ি নাজিরপুর বাজারের পাশে আর তাদের বাড়ি নাজিরপুর নতুন পাড়ায়। শফিকুলের পৃর্বের দুই স্ত্রীর মধ্যে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তালাক হয়েছে ২০১৩ সালের দিকেই। আর প্রথম স্ত্রী সিংড়ায় বাবার বাড়িতে থাকেন।
ওই কিশোরী জানায়- সে স্থানীয় একটি মাদরাসায় ৭ম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় শফিকুল বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিয়ে করেন। বিয়েতে অসম্মতি থাকলেও অসহায় পরিবারের কথা বিবেচনা করে রাজি হয়েছিল সে। বয়স কম হওয়ায় ৭/৮ মাস আগে গোপনে ধমীয়পন্থায় বিয়ে হয় তাদের প্রচলিত আইন না মেনেই।
ওই কিশোরীর মা জানান- আগের দুই স্ত্রীর কথা জেনেও শফিকুলের প্রস্তাবে রাজি হয়ে মেয়েকে বাল্যবিয়ে দিয়ে ছিলেন। মাস দুয়েক সংসার করার পর জামাই শফিকুল মেয়েকে তার বাড়িতে রেখে যান। এরপর যোগাযোগ বন্ধ। কিছুদিন আগে হঠাৎ করেই জানিয়ে দেন শফিকুল তার মেয়েকে বিয়েই করেননি। এখন লজ্জায় মুখ দেখাতে পারছেন না তারা।
তবে ওই কিশোরীকে বিয়ে করার অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক শফিকুল বলেন- আইন মেনে তিনি একাধিক বিয়ে করতে পারেন তাতে সমস্যা কোথায়।
মোহম্মদ আলী ওরফে গেদা কাজী বিয়ে পড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- বুঝতে না পেরে শফিকুলের চাপে ধর্মীয় মতে বিয়ে পড়িয়ে ছিলেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান- শিক্ষক শফিকুলের বিরুদ্ধে শুধু একাধিক বিয়ে করার অভিযোগই নয়। তার বিরুদ্ধে প্রাইভেট পড়ানোর নামে ছাত্রীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগও রয়েছে। ২০১৪ সালে আপন চাচাতো বোনের মেয়েকে বিয়ে করায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এঘটনায় তিনি হাজতবাস করেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে। তদন্তে শফিকুল দোষি হলেও বিদ্যালয় থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শফিকুলের ধারাবাহিক এমন যৌন লালসার ফলে অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত বলেন- কিছু দিন পর পরই শিক্ষক শফিকুলের বিরুদ্ধে নারী ঘটিত অভিযোগ পাওয়া যায়।
নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান হিরা জানান-তিনি ওই শিক্ষকের বিষয়ে কিছু জানেনা। প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবেন। নাজিরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফরিদুর রহমান মোবাইল ফোনে জানান,স্কুলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিন্তু আইনের ফাকফোকর দিয়ে সে বেড়িয়ে এসেছিল। এখন কি শাস্তি দিবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন কেউ শিক্ষক শফিকের ব্যাপারে বাদি হলে তার বিরুদ্ধে স্কুলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান- ভুক্তভোগি কিশোরীর বয়স যেহুতু কম। তার পরেও আসামী শফিকুর দেশের প্রচলিত আইন না মেনে শুধু মাত্র ধর্মীয়মতে ওই কিশোরীকে বিয়ে করে দুই মাস সংসারও করেছে সুতারং এটা ধর্ষনের শামীল। তাই এসপি লিটন কুমার সাহা স্যারের নির্দেশনার আসামী শফিকুলকে আটক করে নাটোর কোর্টে চালান করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :