একজন সফল সম্মুখ যোদ্ধা ইউএনও তমাল হোসেন স্বপরিবারে করোনাক্রান্ত !

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:২৩ AM, ১৩ জুলাই ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন স্বপরিবারে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়াও কোভিড-১৯ রোগী। এই দম্পতির একমাত্র মেয়ে আগতা (৪) জ্বরে আক্রান্ত। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য দেওয়া হয়েছে। ইউএনও তমাল হোসেন তাঁর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে তাঁরা চিন্তিত।

গুরুদাসপুর উপজেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. রবিউল করিম শান্ত জানান, ইউএনওর করোনা পজেটিভ ফলাফল আসে গত শনিবার রাতে। তাঁর স্ত্রীর করোনা সংক্রমণ শনাক্ত হয় এক সপ্তাহ আগে। তিনি জানান,গত চার মাসে ৬০০ জনের বেশি মানুষের শরীর থেকে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষায় ৩৫ জনের ফলাফল পজেটিভ এসেছে। তবে কেউ মারা যাননি।
নাটোরে একজন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তাসহ নতুন করে ১৮ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্তহয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ২৮২ জন নাটোরের সিভিল সার্জন কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সরকারি আমলাদের জন্য প্রতিবেদন তৈরী করা কারো চোখে বেমানান মনে হলেও প্রকৃত অর্থে কাজের ধারাবাহিক গতি যখন অস্বাভাবিকভাবে ভালো হয়, তখনতো দুই-চার কলম লেখা যেতেই পারে?। কথা বলছিলাম প্রজাতন্ত্রের এক কর্মকর্তা গুরুদাসপুর উপজেলার ইউএনও মো,তমাল হোসেন সাথে। কাজে যোগদানের এক বছর পূর্ণ হলো মাত্র। এরই মধ্যে জয় করে নিয়েছেন গুরুদসপুর উপজেলা বাসীর মন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট থাকা কালীন ছুটে বেড়িয়েছেন রাস্তা-ঘাট ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ধরতে। প্রমোশন পেয়ে যোগ দেন এসিল্যান্ড পদে সেখান থেকেই গুরুদাসপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার পদে এর পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । কি শীত, কি গরম আর কি বর্ষা। মাঠ-ঘাট সর্বত্র তার কর্মজজ্ঞের চিহ্ন। কনকনে শীতের ভেতরেই কম্বল নিয়ে দাঁড়িয়েছেন অসহায় মানুষের পাশে। কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটে চলেছেন গুদাসপুর উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পৌরসভাসহ সর্বত্র। সব যেন তার নখদর্পনে। ক্লান্তিবোধ হয়তো তাড়া করেনা তাকে। বৈশ্বিক এই মহামারি কালেও বসে নেই তিনি, ত্রাণ হাতে ছুটছেন তার সারা কর্মস্থল জুড়ে। শুধু তাই নয় মহামারির কবলে পড়া করোনা রোগীর কাছে গিয়েছেন নিজস্ব উপকরন আর ত্রান সামগ্রী নিয়ে ।

মৃত্যুর ভয়কে উপেক্ষা করে ছুটে চলছেন মানুষের সেবায়। এই কর্মকর্তার ঘরে আছে এক অবুঝ শিশু অথচ সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই তার। নিজের কিছু হলে যে ছোট্ট শিশুটি অথবা সহধর্মিনীর কিছু হয়ে যেতে পারে তিনি হয়তো তা মনে করেননি কখনোই! করোনা মোকাবিলায় তার কথা করোনাকে জয় করবোই। মানবিক এই কর্মকর্তার স্বভাব-শুলভ যেমন মানবিক, তার বিচার প্রক্রিয়াও তেমনই কঠিন। মাদকের করাল গ্রাস হতাশাগ্রস্ত শহর বাসিকে দিয়েছেন একমুঠো শান্তির পশলা।

ইভটিজার, পারিবারিক জটিলতায় কিংবা বাল্য বিবাহে ছাড় নেই তার। যেখানে অনেক জনপ্রতিনিধি নিরব কিংবা অসফল সেখানেই ইউএনও তোমাল হোসেনের সফলতার গল্প রচিত। আর হবেই না কেন?। তিনি যে একজন সম্মুখ যোদ্ধার সন্তান। বাবা ছিলেন একজন সফল চিকিসক। সাবেক পরিচালক সাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের। কর্ম জীবনে বাবা ছিলেন যেমন একজন অকুতভয় চৌকস সরকারী কর্মকর্তা, ঠিক তেমনি তার সন্তান ইউএনও এ সময়ের বীর সেনা।

তার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে জেলা প্রশাসক জনাব শাহরিয়াজ জানান, তমাল হোসেন একজন করিৎকর্মা সৃজনশীল কর্মকর্তা। ৩১ তম বিসিএসের প্রশাাসনিক এই কর্মকর্তা গত ২০১৯ সালের ৬ই আগষ্ট নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার হিসাবে যোগদান করেন। তিনি জানান, ইউএনও স্বপরিবারে করোনাক্রান্ত হবার কিছুদিন পুর্বেই তার সৃজনশীল কাজের জন্য নাটোর উপজেলায় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবাায়ন কৃষি ও কৃষক বান্ধব কাজ,মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস প্রচার প্রচারনাসহ বিভিন্ন জনকল্যানমূলক কর্মকান্ডে বিশেষ অবদান রেখে চলেছেন তিনি। পেশাগত দক্ষতাসহ বিভিন্ন সূচকে অগ্রগতি অর্জনের স্বীকৃতি স্বরুপ জেলা পর্যায়ে শুদ্ধাচার পুরস্কার ( ২০১৯-২০) পেয়েছেন তিনি।

ইউএনও তমাল হোসেন জানান, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ববোধ থেকেই মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী, ভিক্ষুক, শিক্ষার্থীসহ অসহায় মানুষের বিপদে আপদে মানুষের পাশে আছি । প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি অনেক সময় ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং নিজের অর্থে অনেকের পাশে দাঁড়িয়েছি। এসব কল্যায়নকর কাজের জন্য সংবাদ পত্রের শিরো নাম ও হয়েছেন বহুবার।

বিভিন্ন সূত্রে জানাযায়, গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের বৃদ্ধ পিতাকে ১০ বছরের শিকল বন্ধী থেকে মুক্ত করেন। পরিবার অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিল না দুই মেয়ের শিক্ষার ব্যায় বহন করতে পারছিলেন না সাবগাড়ী এলাকার এক অসহায় বৃদ্ধ। উম্মেহানির ঋনের কারনে কিডনি বিক্রির খবরে পাশে দাড়িয়ে ছিলেন।

৪ মাসে ৪০ বাল্য বিয়ে বন্ধ করলেন ইউএন ও, মাদক ছেড়ে খেলার মাঠে ৫ শতাধিক যুবক, কোটি টাকার সরকারী পুকুর উদ্ধার, করোনা কালে চলনবিলে কৃষকের জন্য কৃষি শ্রমিক প্রস্তুত রেখেছেন ইউএন ও, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তি যুদ্ধ বিষয়ে ক্লাস নিলেন ইউএন ও এক দিনে ৪ বাল্য বিয়ে বন্ধ করলো ইউএনও,মুজিব হত্যার প্রতিবাদে জেল খাটা তিন বন্ধুকে পুরুস্কৃত করা, অসহায় নারীদের বিনা খচড়ায় নারী সহায়তা সেল , উপজেলায় সেবা কেন্দ্র স্থাপন, কৃষকদের জন্য আলোচনা কেন্দ্র নির্মান,বিভিন্ন জাতীয় দিবস পালনের সংবাদ ভোরের কাগজ জাগরন,করতোয়া যায়্যায়দিন দিনসহ দেশের সেরা প্রত্রিকায় এ রকম অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

মো,মাজেম আলী মলিন বিভাগীয় প্রধান সমাজবিজ্ঞান রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ। প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বনলতা, চেয়ারম্যান বনলতা টিভি, সভাপতি গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাব, গুরুদাসপুর নাটোর।

আপনার মতামত লিখুন :