ভাতিজি ধর্ষণকারীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ!

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৩ AM, ২০ জুলাই ২০২০

বনলতা নিউজ ডেস্ক.

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলায় আপন ভাতিজিকে ধর্ষণ মামলার আসামি গলায় ফুলের মালা পড়ে মোটরসাইকেল শোডাউন ও আনন্দ, উল্লাস করে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করেছে। এদিকে মোটরসাইকেল শোডাউন ও উল্লাসের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ওই এলাকায় সমালোচনার ঝড় বইছে।

ধর্ষক সোহেল নাঙ্গলকোট উপজেলার বাঙ্গড্ডা ইউনিয়নের হেসিয়ারা পূর্বপাড়ার আবদুল মন্নানের ছেলে। সে আপন ভাতিজিকে ধর্ষণের দায়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। জামিন নিয়ে এসে ধর্ষক সোহেল শুক্রবার (১৭ জুলাই) গলায় ফুলের মালা পড়ে এলাকায় মোটরসাইকেল শোডাউন ও উল্লাস করে। এদিকে আসামি গ্রেপ্তারের পর আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী সন্তান প্রসব করে।

নির্যাতিত কিশোরীর ভাইয়ের অভিযোগ, তার আপন চাচা সোহেল তার বোনকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাদের অনেক প্রতিবেশী ধর্ষকের বিচার না চেয়ে উল্টো তার পক্ষ নেয়। তারা ধর্ষক সোহেলের জামিনের জন্য একাধিকবার বৈঠকে বসে। এ কাজে তার দাদা আবদুল মান্নান, তার ফুপু রেখা আক্তার এবং মামা ইমাম হোসেন মূল ভূমিকা রাখেন। তারা বারেবারে তার বাবাকে (ধর্ষিত কিশোরীর বাবা এবং আবদুল মান্নানের বড় ছেলে) মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। আর তার দাদা তার ছোট ছেলে ধর্ষক সোহেলকে ছাড়িয়ে না আনলে তার বাবাকে সম্পত্তির ভাগ দেবে না, বাড়ির ভিটে থেকে তাড়িয়ে দেবে, সারাক্ষণ এমন হুমকি ও চাপ দিতে থাকে। এ কাজে তার ফুপু রেখা বেশি ভূমিকা রাখে। আরেক মামা নূর হোসেনের ছেলে ইউনুছও তার দাদার সঙ্গে এসে তার বাবাকে এবং তাদের শাসাতে থাকে। অন্য আত্মীয়স্বজনরাও তার দাদার পক্ষ নেয়। সবাই তার বোনকেই দোষ দিতে থাকে, যদিও তার বোনের কোনও দোষ ছিল না। বাবা কোনোভাবেই রাজি ছিল না। আমার বোন এখনও রাজি নয়। কিন্তু, ওরা সবাই এমনভাবে চাপ দেয় যে বাবা কোনও কথা বলতো না এ বিষয়ে। এর সুযোগ নিয়ে ওরা ধর্ষক সোহেলের জামিনের জন্য কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবেদন করে।

কিশোরীর ভাই আরও জানান, বোনের ধর্ষণ মামলায় জামিনে আসার পর তার দাদা অর্থাৎ ধর্ষক সোহেলের বাবা আবদুল মান্নান, মামা ইমাম হোসেন এবং বোন রেখা আক্তার তার গলায় ফুলের মালা পরান। এরপর সোহেল মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা চাপা ক্ষোভ নিয়ে জামিনের ব্যাপারে কিছুই বলতে চাননি। জানা গেছে, ভাতিজি ধর্ষণ মামলার আসামি সোহেল বিবাহিত। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা না বলে তার স্ত্রীকে দেন। তার স্ত্রী জানান, তার স্বামী জেলখানায় ছিলেন। কে তার জামিনের জন্য আবেদন করেছে সেই নিজেই জানতেন না। তবে ধর্ষক সোহেলের বাবা আবদুল মান্নান ও মামাতো ভাই ইউনূছের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।

মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নাঙ্গলকোট থানার এসআই আক্তার হোসেন। তিনি আসামির জামিন পাওয়ার খবরে অবাক হয়ে বলেন, এখনও ডিএনএ রিপোর্ট আসেনি, তাহলে কিভাবে আসামি জামিন পেলো? তবে আদালতের বিষয় হওয়ায় তিনি আর মন্তব্য করতে চাননি। অবশ্যই আদালত ভালো জানেন।

আপনার মতামত লিখুন :