নব্য জেএমবির ৫ সদস্য গ্রেপ্তার

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৪৬ AM, ১৪ অগাস্ট ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গত ঈদুল আজহার আগে দেশব্যাপী হামলার পরিকল্পনা করেছিল নব্য জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সামরিক শাখার সদস্যরা। এরই অংশ হিসেবে তারা গত ২৪ জুলাই ঢাকার পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টের পাশে ও গত ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরে বোমা হামলা করে।

এমনকি গত ২৩ জুলাই সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার শরিফে আরেকটি হামলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তৎপরতায় ব্যর্থ হয়। আর এসব পরিকল্পনা করা হয় ২০০৫ সালে শায়খ আবদুর রহমান যে বাসায় বসে সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার ছক করেছিলেন সিলেটের সেই শাপলাবাগ এলাকাতেই।

বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পল্টনে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নব্য জেএমবি’র পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর গতকাল বুধবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান (২৬), সানাউল ইসলাম সাদি (২৮), রুবেল আহমেদ (২৮), আব্দুর রহিম জুয়েল (৩০) ও সায়েম মির্জা (২৪)। গত মঙ্গলবার অপারেশন এলিগ্যান্ট বাইট চালিয়ে সিলেটের মিরাবাজার, টুকের বাজার, দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, গ্রেপ্তারকৃত নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসীম এ আদেশ দেন। এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল নজরুল আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, আটকরা নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য। নব্য জেএমবির শুরা সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে তারা সিলেটের শাপলাবাগের একটি বাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলো। নাইমুজ্জামানের সব নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতো সানাউল সাদি। বাকিরা সবাই নির্দেশনা পালন করতো। সেখান থেকেই দেশব্যাপী হামলার ছক করা হয়।

ঈদের আগেই কেন হামলার পরিকল্পনা করা হয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস প্রচার করে, জিলহজ মাসের ১০ তারিখের মধ্যে হামলা করলে কথিত পুণ্যের অধিকারী হবে। এতে আইএস মতাদর্শী বিভিন্ন দেশের উগ্রবাদী গোষ্ঠী চেষ্টা চালায়। বাংলাদেশে আইএস মতাদর্শী নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলাম উভয়েই চেষ্টা চালিয়েছে। আনসার আল ইসলাম ব্যর্থ হলেও সফল হয়েছে নব্য জেএমবি। তবে অন্যদের প্রচেষ্টা আইনশৃঙ্খলার সতর্কতার কারণে ব্যর্থ হয়েছে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, আটকদের মধ্যে শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান বারিস্তা নামে একটি কফি শপে কফি মেকার হিসেবে কাজ করেন। তিনি ২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে অনার্স সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি সামরিক শাখার প্রধান প্রশিক্ষক এবং সামরিক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সিলেটের শাপলাবাগের বাসাটি ভাড়া নেন।

সানাউল ইসলাম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ছাত্র। রুবেল আহমেদ ২০১৬ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সিলেট শাখা থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেন। তিনি সিলেটে টুকেরবাজারে সার, বীজ ও কিটনাশকের ব্যবসা করেন। আব্দুর রহিম জুয়েল রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভার হিসেবে কাজ করতেন। তার গাড়ি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা। সায়েম মির্জা সিলেটের মদন মোহন কলেজের অনার্স শেষবর্ষের ছাত্র। ইতিমধ্যে তারা ঘটনাগুলোর দায় স্বীকার করেছে। এই দলের আরো কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই হামলাটি জেএমবির দিক থেকে ছিল সাংগঠনিক এবং সফল। তবে বর্তমানে সাংগঠনিক কাঠামো তাদের নেই। পুরনো জেএমবির নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন ভারতে লুকিয়ে থাকতে পারে বলে অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ঈদুল আজহাকে ঘিরে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের কথিত ‘বেঙ্গল উলায়াত’ ঘোষণার উদ্যোগে পুলিশ দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা করেছিল। তখন সম্ভাব্য হামলা প্রতিরোধে ১২ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছিল পুলিশ।

আপনার মতামত লিখুন :