গুরুদাসপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন ৩০০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ শুরু

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫২ AM, ১৮ অগাস্ট ২০২০

গুরুদাসপুর(নাটোর)প্রতিনিধি.
একটি উদ্যোগেই পাল্টে গেছে বিলের চিত্র। বছরের প্রায় ৯ মাস জলাবদ্ধতা থাকায় প্রায় ১৭০ জন কৃষকের ৩০০ বিঘা জমি পানির নিচে ডুবে থাকতো। ঘটনাটি নাটোরের গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়নের পাঁচ-পুরুলিয়া বিলের।
গ্রামের একজন সু-শিক্ষিত সমাজ সেবক মোঃ হাফিজুর রহমান গ্রামের কৃষকদের কষ্টের কথা চিন্তা করে স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন। তার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকার ১৭০ জন কৃষক তার সাথে জলাবদ্ধতা নিরশনের পরামর্শ করেন। চলতি বছরের ১১ই জুন ১৭০ জন কৃষকের স্বেচ্ছাশ্রমে শুরু হয়ে গত ১৬ই আগস্ট(রোববার) পানি নিষ্কাশনের ওই কার্যক্রম শেষ হয়। নিজেদের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে কোদাল দিয়ে ১০০০ফিট লম্বা জায়গা খনন করে নিচে পাইপ দিয়ে ওই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছিলেন তারা।
সোমবার সকালে সরেজমীনে গিয়ে দেখাযায়, ওই এলাকার মাঠের ৩০০ বিঘা জমিতে ইরি,বোরো, আমন ধান রোপন করা হয়েছে। মাঠের প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। জমির ফসল বিক্রির টাকা দিয়েই চলতো তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা ও সংসার খরচ। বিগত দুই বছর জলাবদ্ধতায় জমি গুলো ডুবে থাকার কারনে বিপাকে পরেছিলেন প্রায় সকল কৃষক। কৃষকের সেই কষ্ট লাঘব হওয়া সকলের পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে।
পানি নিষ্কাশন কার্যক্রমের উদ্যোক্তা ওই এলাকার সমাজ সেবক মোঃ হাফিজুর রহমান জানান, অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করার কারনে আমাদের মাঠের ৩০০ বিঘা জমি জলাবদ্ধতায় পরিনত হয়েছিলো। সব সময় জমিতে পানি জমে থাকার কারনে চাষাবাদ করা সম্ভব হচ্ছিলো না। ওই মাঠের প্রতিটি কৃষক ওই জমির ফসলের উপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করতো। এমনকি ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনাও ফসলের টাকায় চলে। চাষাবাদ করার উপযোগি করার জন্য নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে ও প্রত্যেক জমির কৃষকদের চাঁদার ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকায় পানি নিষ্কাশনের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিলো। ৩৫ দিন প্রতিটি কৃষকের স্বেচ্ছাশ্রমে অক্লান্ত পরিশ্রমে পানি নিষ্কাশনের কাজটি শেষ হয়েছে। এখন প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি এবং মাঠ ভরা ফসল।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে পানি নিষ্কাশন কার্যক্রম শুরু হয়েছিলো। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সার্বিক খোজ খবর রাখা হয়েছে এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তমাল হোসেন জানান, কৃষকদের উদ্যোগে জলাবদ্ধতা নিরশনের জন্য যে কার্যক্রম তারা শুরু করে শেষ করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এলাকার উদ্যোক্তা এবং প্রতিটি কৃষককে আমি স্বাগত জানাই।

আপনার মতামত লিখুন :