এই নশ্বর পৃথিবীর সবই মিছে মায়া !

banalatabanalata
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৩০ PM, ২১ অগাস্ট ২০২০

 প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন 

নশ্বর এই পৃথিবীতে সবই ক্ষণস্থায়ী। ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, শানসৈকত সবই অস্থায়ী, পরিবর্তনশীল। যারা এগুলোকে স্থায়ীত্বে রূপ দিতে চায় তারা বোকার রাজ্যে বাস করে। যার কারনেই পৃথিবীর সব সময় কলহ লেগেই থাকে।

যে জন্মেছে সে মরবেই। যার সূচনা হয়েছে তার সমাপ্তি ঘটবেই। এটা সৃষ্টি কর্তার শাশ্বত চিরন্তন বিধান। এ অমোঘ বিধানের কোন পরিবর্তন পরিবর্ধন নেই। পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে চির ও অনড় সত্য হলো মৃত্যু। প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হরে।। পিঁপড়া থেকে শুরু করে জীব জ¦ড় যত যা আছে  সবই ধ্বংস হবে একদিন। এখানে সবাই অক্ষম। মৃত্যুর নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ড কমবেশি করার ক্ষমতা রাখেনা জগতের কোন মহা জাগতিক শক্তিই।

কখন কোন মানুষের বা প্রাণীর তিরোধান হবে এটা কেউ জানেনা। দুনিয়াতে আগমনের পরিক্রমা সিরিয়াল আছে, প্রথমে দাদা পরে পিতা তারপর নাতি। কিন্তু যাবার কোন সিরিয়াল নেই। যখন যার ডাক আসে তাকে তখনি পরপারে চলে যেতে হবে। সামন্য সময়ের ফুরসৎ দেয়া হবে না। যখন কারো কর্ম-সময় পূর্ণ হয়ে যাওয়ার মুহূর্ত  এসে পড়ে, তখন সৃষ্টিকর্তা তাকে কখনই অধিক অবকাশ দেন না।

মৃত্যু কাউকে জানিয়ে আসে না। কোন সময় বা স্থান কাল নির্ধারিত জায়গা ধরে উপস্থিত হয় না। মানুষ জানে না কার মৃত্যু কোথায় কখন কি অবস্থায় হবে। দুনিয়ার জগত হলো ক্ষণস্থায়ী। একদিন সব কিছু  নাশ হয়ে যাবে। পৃথিবী তার কিছু হারাবে। পৃথিবীতে কোন মানুষের চিহ্ন অবশিষ্ট থাকবে না। এই ধ্বংসশীল দুনিয়াতে মানুষও ধ্বংসশীল। আদম জাতিও ক্ষণস্থায়ী। আমরা ছোট বেলায় যেমন ঘর তৈরী করে খেলতাম আবার ফেরার পথে সব কিছু গুড়িয়ে দিয়ে বাসায় ফিরতাম এই দুনিয়াটাও আমদের জন্য তেমনই । সবাইকে মৃত্যুর উন্মুক্ত দরজায় প্রবেশ করতে হবে। তাই আমাদের মম চিত্তকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করা দরকার। আর তাহলেই পৃথিবী থেকে সকল প্রকার অন্যায় অবিচার,হত্যা,ধর্ষণ, চুরি,ডাকাতি,ঘুস দুর্নীতি সব বন্ধ হয়ে যাবে। সাথে মনটাকেও পরিষ্কার রাখতে হবে লোভ লালসার উর্ধে¦ থেকে।

আমার ৪৫ বছরের জীবনে অনেক কিছুই দেখলাম হাজারে একজন মানুষও সৎ পেলাম না। কেউ নামাজ পড়ে পুঁজো করে এসে ঘুস খাচ্ছে কেউবা আবার জানাজা থেকে এসেও ঘুস খাচ্ছে, আবার অনেকে ঠান্ডা মাথায় ঘুস খাচ্ছে। ঘুস দুর্ণীতি না করে কেউ জিরো থেকে হিরো হতে পারে না আমি হলফ করে বলতে পারি। কিন্তু লাভ কি ? এগুলো কি সংগে যাবে? ইচ্ছা করলেই কি একটা সোনার চেই বা আংটি কবর বা শ^শানে নিয়ে যেতে পারব। স্ত্রী ছেলে মেয়ে বা আত্বীয় স্বজনরা কি ঘুসের টাকার দায় নিবে? না আমার মনে হয় এই পৃথিবীতেই নিবে না। অথচ মারা যাবার পর কবর দেবার আগেই ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। দুদিন পর আর কেউ মনে রাখবে না। এটাই প্রকৃতি এটাই নিয়োম।

 যেমন মৃত্যুর পর সব পাঠ চুকিয়ে বিদায় নিতে হয়।  দিবাকরের অ¯ত্র পথ যেমন কেউ রুখতে পারে না। ঠিক তদ্রপ মানুষের মৃত্যুর সময় যখন আসন্ন হবে, মৃত্যুর ঘণ্টা বেজে উঠবে তখন কেউ মৃত্যুকে প্রতিহত করতে পারবে না। তাই সক্রেটিস বলে গেছেন, “মৃত্যুই সম্ভবত মানবজীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ!” সক্রেটিস এখানে সম্ভবত কথাটি কেবল এজন্যই ব্যবহার করেছেন যে মরে গেলে তিনি আদতে ফিরে এসে জানাতে পারবেন না কী হয়েছিল। তথাপি, তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করতেন যে মৃত্যুর চেয়ে বড়, সৃষ্টিকর্তার আর কোনো আশীর্বাদ নেই। সক্রেটিসের মৃত্যুর ইতিহাস আমাদের সবারই মোটামুটি জানা আছে। ধর্মবিরোধ, তরুণদের বিপথে চালিত করা এবং রাষ্ট্রদ্রোহী কাজকর্মের জন্য তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়। অথচ তিনি সহজেই বেঁচে যেতে পারতেন নিজের দোষ স্বীকার করে নেয়ার মাধ্যমে। কিন্তু সক্রেটিস এমন একজন মানুষ ছিলেন, যার যুক্তির কাছে মৃত্যুভয়ও হার মেনেছিল। তিনি নিজের নীতিতে অচল রইলেন, কারণ তার নিকট মৃত্য খুবই সহজ স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। মৃত্যুর সাথে ভয়ের সামান্যতম সম্পর্ক তিনি খুঁজে পাননি। কারণ, তিনি মনে করতেন মৃত্যুর পর দুটি ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রথমত: মৃত্যু একটি স্বপ্নহীন ঘুম। অর্থাৎ, মৃত্যু মানে চির নিদ্রায় শায়িত হওয়া, যে নিদ্রার কোনো শেষ নেই। সেক্ষেত্রে মৃত্যুকে ভয় পাবার আদৌ কোনো কারণ আছে কি?

দ্বিতীয়ত: মৃত্যু হচ্ছে অন্য পৃথিবীতে প্রবেশ করার টিকিট! হ্যাঁ, এক পৃথিবী থেকে অন্য এক পৃথিবীতে যাওয়া যাবে মৃত্যুর পর যেখানে দুঃখ, কষ্ট, জড়া, ক্লেশের মতো ব্যাপারগুলো থাকবে না। বরং সেখানে পূর্বে মৃত্যুবরণ করা মানুষদের সাথে দেখা হবে যা তার নিকট নিছক আনন্দের ব্যাপার। এক্ষেত্রেও মৃত্যুকে ভয় পাবার মতো কোনো উপরকরণ খুঁজে পাননি সক্রেটিস।

নিজেকে জানো, নিজের আত্মাকে চেনো, নশ্বর দেহের এ অংশটিই চিরকাল তোমার রবে! প্রতিটি মানুষের জীবনেই এমন একটা সময় আসবে তখন সৃষ্টি কর্তার কাছে নিজেই মৃত্যু চেয়ে নিবে। আল্লাহ তুমি সবাইকে ক্ষমা করো আমিন।

প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন বিভাগীয় প্রধান(স.বি) রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ, সম্পাদক,লেখক ও সভাপতি  মডেল প্রেসক্লাব গুরুদাসপুর,নাটোর।

আপনার মতামত লিখুন :