বুলেটের আঘাতে ফুলটি কুড়িতেই শেষ হয়ে যায়: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৩ AM, ১৮ অক্টোবর ২০২০

নিজস্ব প্রতিবেদক.

শেখ রাসেলের জন্মদিনে   স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বুলেটের আঘাতে একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায়। ১৮ অক্টোবর রোববার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেলের ৫৭তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‌১৯৬৪ সালে রাসেলের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু তার জীবনটা শেষ হয়ে যায়…একটি ফুল কুড়িতেই শেষ হয়ে যায় আর তা ফুটতে পারেনি।

শেখ রাসেলের জন্মের ক্ষণটি ঘিরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাকর সেই মুহূর্তগুলো স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, একটা ছোট্ট শিশু আসবে আমাদের পরিবারে। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা- আমরা সবাই খুব, খুব উৎসাহিত এবং বেশ উত্তেজিত ছিলাম যে কখন সেই শিশুর কান্নাটা আমরা শুনব, কখন তার আওয়াজটা পাব, কখন তাকে কোলে তুলে নেব। আর সেই ক্ষণটি যখন এলো তা আমাদের জন্য অত্যন্ত একটা আনন্দের সময় ছিল।

নির্বাচন নিয়ে সেই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যস্ততার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি ওই মুহূর্তে চট্টগ্রামে ছিলেন। সাথে সাথে আমরা টেলিফোন কল করে আব্বাকে জানালাম।

ব্রিটিশ দার্শনিক বারট্রান্ড রাসেলের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভক্তি ও তার সম্পর্কে জেনে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এই দার্শনিকের নামে তাদের ছোট ছেলের নাম রাখেন বলেও তিনি জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ছোট্ট শিশুটি আমাদের চোখের মনি ছিল। কিন্তু কী দুর্ভাগ্য তার, ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবরে তার জন্ম। এরপর ১৯৬৬ সালে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমার বাবা ছয় দফা দিলেন, তিনি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ওই ৬৬ সালেই তিনি মে মাসে বন্দি হয়ে গেলেন। ছোট্ট রাসেল তার কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই বাবা কারাগারে। প্রকৃতপক্ষে তার সাক্ষাত হলো কারাগারেই।

তিনি বলেন, বাবার সঙ্গে কারাগারে দেখা করতে গেলে তাকে সেখান থেকে নিয়ে নিয়ে যাওয়া জন্য রাসেল কান্নাকাটি করতো। ১৯৬৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে যখন বাবা মুক্তি পান তখন যেই জিনিসটা সব সময় দেখতাম রাসেল সর্বক্ষণ, মনে হয় ওর ভেতরে একটা ভয় ছিল যে কোনো মুহূর্তে বুঝি বাবাকে হারাবে। তাই তিনি যেখানেই যেতেন যেই কাজই করতেন খেলা ছলে ছলে কিছুক্ষণ পরপরই একবার করে সে দেখে আসতো যে বাবা ঠিক আছে তো।

রাসেলের সৈনিক হওয়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তার বড় বোন হাসিনা বলেন, যখন আমরা গ্রামে বেড়াতে যেতাম, গ্রামের যত শিশু তার বয়সী সবাইকে সে একত্রিত করতো এবং তাদেরকে দিয়ে সে প্যারেড করাতো। আর শুধু প্যারেড করিয়ে খালি হাতে ফেরাতো না। প্রত্যেকে যারা প্যারেড করতো তাদেরকে সে টাকা দিতো আর তাদেরকে কাপড়-চোপড় কিনে দিতে হতো।

সেজন্য তাদের মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব শিশুদের অনেক কাপড়-চোপড় কিনে নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় যেতেন এবং সেগুলো রাসেলের ইচ্ছামত প্রত্যেকটা শিশুকে দেয়া হতো বলে জানান শেখ হাসিনা।

‘রাসেল ছোট ছোট গরিব শিশুদেরকে.. সে প্রতিবার..যতবার টুঙ্গিপাড়া যাবে প্রতিবার এই শিশুদের সে কাপড় বিতরণ করবে। কারণ তার মনটা ছিল অনেক উদার।’

ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে শহিদ শেখ রাসেলে ‘ম্যুরাল’ নির্মাণ করে শেখ রাসেলের স্মৃতিকে ধরে রাখার চেষ্টা করায় সবাইকে ধন্যবাদও জানান শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘রাসেল আজ আমাদের মাঝে নেই। ওই স্কুলের ছাত্র ছাত্রী যুগ যুগ ধরে যারা পড়াশোনা করবে তারা এইটুকুই শিখবে, এইটুকুই জানবে যে একটা ছোট শিশু ছিল এই স্কুলে কিন্তু সেই শিশুটাকে বাঁচতে দেওয়া হয় নাই। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক সেটাই আমরা চাই।’

ওই সময় গণভবন প্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :