জলাবন্ধতা নিরসনে এলাকাবাসির মানববন্ধন

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩৪ AM, ২০ অক্টোবর ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি. 
সড়কের দুই কিলোমিটার অংশে হাঁটুপানি জমে আছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া আসার সময় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রানীনগরসহ কয়েকটি গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের। এই দুরবস্থা থেকে মুক্তি পেতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসি হাঁটুপানিতে মানববন্ধন করেছেন। অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় বৃষ্টি হলেই সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করে। মাছবাহী কমপক্ষে ৫০টি ট্রাক এই সড়ক দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। অথচ এই সড়কের দুই কিলোমিটার অংশে হাঁটুপানি জমে আছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া আসার সময় প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রানীনগর গ্রামের মনির হোসেন, রহিম, আফাজ, মধু, আজাদসহ কমপক্ষে ২০ জন বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী অপরিকল্পিত ভাবে পুকুর খনন করে পানি প্রবাহের প্রাকৃতিক পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বৃষ্টি হলেই ওই সড়কে পানি জমে থাকছে। চার মাস ধরে সড়কের ওই অংশ পানিতে ডুবে আছে। এতে এলাকার মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ সমস্যা সমাধানের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
নাজিরপুর ইউনিয়নের রানীনগর থেকে মহারাজপুর ভেতর দিয়ে এই রাস্তা চলে গেছে। প্রায় ৩০ হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে জেলা শহর, গুরুদাসপুর সদরসহ পাশ^বর্তী উপজেলা সদরে যাতায়াত করে থাকে।
নাজিরপুর ইউনিয়ন দেশের একটি উল্লেখযোগ্য মাছ উৎপাদনকারী এলাকা। প্রতিদিন এই এলাকা থেকে সারা দেশে প্রায় ৫০ ট্রাক মাছ যায়। চার মাস ধরে রাস্তাটির দুই কিলোমিটার এলাকা প্রায় হাঁটুপানিতে ডুবে রয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে মাছবাহী ট্রাকগুলো চলাচল করতে না পারায় মৎস্য ব্যবসায়ীরা নৌকা যোগে মাছ পুকুর থেকে এনে দুই কিলোমিটার দূরে ট্রাকে তুলছে। এতে করে তাদের ব্যাপক লোকসান গুনতে হচ্ছে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কে জমে আছে পানি। সেই পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে ছুটছে মানুষ।
স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী মাছ চাষের জন্য ধানি জমিতে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করেছেন। সাধারণ মানুষ তাঁদের বাধা দিতে পারে না। আবার তাঁরা যখন পুকুর খনন করেছিলেন, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
একজন ট্রাক ড্রাইভার বলেন, আমি দীর্ঘ ৫ বছর ধরে কয়েকটি ট্রাকের মাধ্যমে এই অঞ্চল থেকে মাছ পরিবহন করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দেই। কিন্তু এবার বর্ষাতে রানীনগর থেকে মহারাজপুর মোড় পর্যন্ত দুই কিলোমিটার মধ্যে দুই মিটার রাস্তাই পুরো পানির নিচে ডুবে থাকায় যাওয়াতে ট্রাকগুলো দিয়ে মাছ পরিবহন করতে পারছি না। এতে আমার ব্যবসা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন, এই পানি নিষ্কাশনের যেন দ্রুত ব্যবস্থা করা হয়।’

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমি এই রাস্তায় আমার কর্মস্থলে যাতায়াত করি। এখন আমার বাড়ির মধ্যে হাঁটুপানি জমে আছে। ঠিকমত বাহিরে যেতে পারিনা। রাতে সাপের ভয়ে বাহির হতে পারিনা। জলাবন্ধতায় কারনে বড়ই বিপদের মধ্যে আছি।

নাজিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ শওকত রানা লাবু জানান, এ বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আশা করি রাস্তাটি সংস্কার হবে এবং জলাবদ্ধতা নিরশন হবে।

আপনার মতামত লিখুন :