রোজী মোজাম্মেল মহিলা অর্নাস কলেজ প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও পায়নি সরকারী কোন অবকাঠামো

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৪৪ AM, ২৬ অক্টোবর ২০২০

প্রভাষক মো. মাজেম আলী মলিন.
স্নাতক পাস কোর্স এবং স্নাতক সম্মান কোর্সে শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে অধ্যয়নসহ স্বল্প খরচে আবাসিক সুবিধা প্রধান করা হচ্ছে চলনবিলের পিছিয়ে পরা অবহেলিত নারীদের কথা বিবেচনা করেই। নাটোরের গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব সুবিধা প্রদান করলেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে।
কলেজ সূত্রে জানাযায়- চলনবিলের পিছিয়ে পরা নারীদের কথা বিবেচনা করে ১৯৯৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের যাত্রা শুরুর পর ২০০১ সালে স্নাতক পাসকোর্স এবং ২০১৫ সালে ৫টি বিষয়ে স্নাতক সম্মান কোর্স চালু করা হয়েছে। অথচ কলেজটি প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও সরকারী কোন অবকাঠামো এমনকি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবও পায়নি উপজেলার পৌর সদরের এই প্রতিষ্ঠানটি। আওয়ামী রাজনীতির দোলাচলে কলেজটির এই করুন অবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে- চলনবিলের পিছিয়ে পরা অবহেলিত নারীরা বিভিন্ন উপজেলা থেকে এই প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে লেখাপড়া করছেন। নিজস¦ অর্থায়নে তৈরী করা কয়েকটি বিল্ডিংয়েই চলছে শিক্ষাকার্যক্রম। এছাড়া কলেজটিতে উচ্চ মাধ্যমিক ও ¯œাতক ডিগ্রিী পরিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি সাড়ে ৮ শতাধিক ছাত্রী অধ্যায়ন করছে। লাইব্রেরীতে বই পড়া, বিজ্ঞানাগাড়ে বিজ্ঞান বিষয়ে চর্চা করলেও একাডেমিক ভবন আর কম্পিউটার ল্যাবের সংকট রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। অথচ এক দশক আগেও চলনবিল বেষ্টিত এই উপজেলায় নারী উচ্চ শিক্ষার কোন সুযোগ ছিলনা। সেসময় অবহেলিত চলনবিলবাসীর মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সুযোগ-ই ছিলো ক্ষীণ। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার চিন্তা ছিলো শুধুই স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিয়ে গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
জানতে চাইলে উমা প্রথম বর্ষের ছাত্রী গীতা রানী পাল ও ¯œাতক সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সমাপ্তি জানান, উপজেলা পর্যায় বিনা খরচে মনোরম পরিবেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। তারা আরো জানান বাবা কৃষক, কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শহরের গিয়ে লেখা পড়া করা আমাদের জন্য দু:সাধ্য তাই রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজটিকে বেছে নিয়েছি উচ্চ শিক্ষার সিড়ি হিসাবে। বর্তমানে নারী শিক্ষা প্রসারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও জাতীয়করণ করা হয়নি উপজেলা সদরের একমাত্র মহিলা অনার্স কলেজটি।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মায়া রানী চক্রবর্ত্তী জানান, শুরুতে নানা প্রতিবন্ধকতায় কলেজটির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। ১৯৯৮ সালে আ.লীগের সরকার গঠন ও বর্তমান সাংসদ অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত করেন। কলেজটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল, তখন চলনবিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিলনা। অভিভাবকরা তাঁদের মেয়েদের নিরাপত্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে উচ্চ শিক্ষার জন্য উপজেলা সদরের কলেজে পড়ালেখার জন্য পাঠাতে অনীহা জানাতেন। ফলে নারী শিক্ষা পিছিয়ে ছিল চলনবিল এলাকার মেয়েরা। কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর চলনবিল এলাকার প্রায় সকল অভিভাবকরা তাঁদের মেয়েদের এখন উচ্চ শিক্ষার জন্য কলেজে পাঠাচ্ছেন। বাড়ছে নারী শিক্ষার হারও।
কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা বলেন, কাঠামোগত দৈন্যতা থাকার পরেও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। বিনা খরচে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানসহ আবাসিক সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এই কলেজের ছাত্রীদের সেরা হওয়ার গৌরব রয়েছে অনেক। উপজেলা পর্যায়ে তথা চলনবিলের অবহেলিত জনগোষ্ঠির নারী উচ্চ শিক্ষার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছরেও সরকারীভাবে একাডেমিক ভবন বা কম্পিউটার ল্যাব দেওয়া হয়নি বিষটি অত্যান্ত দু:খজনক।

আপনার মতামত লিখুন :