এবার বস্তা ক্রয় দুর্নীতিতে জেলা খাদ্য কর্মকর্তার বদলি

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫২ PM, ০৬ নভেম্বর ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম. 

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে বস্তা ক্রয়ে দুর্নীতির দায় নিয়ে কুড়িগ্রাম থেকে বিদায় নিতে হলো। সম্প্রতি ৮ লাখ বস্তা ক্রয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ডিসি ফুড) মিজানুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

কুড়িগ্রাম জেলা খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যালয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানকে বিদায় জানান। বৃহস্পতিবার ছিল তাঁর সর্বশেষ কার্যদিবস। তাকে নড়াইল জেলায় বদলি করা হয়েছে। এর আগে বস্তা কেলেঙ্কারির অভিযোগে একযোগে ১৪ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বদলী করা হয়। এদের মধ্যে ৩জন ভারপ্রাপ্ত গুদাম কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) এবং ৬ জন পরিদর্শক।

রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে ২১ অক্টোবর থেকে বুধবার পর্যন্ত পৃথক ৬টি আদেশে এ বদলি আদেশ জারি করা হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট জেলার ২৩ জন নিরাপত্তা কর্মীকে আন্তঃজেলা বদলি করা হয়। সব মিলিয়ে জেলা খাদ্য বিভাগে এখন বদলি আতংক বিরাজ করছে।

বদলিরা হচ্ছেন- কুড়িগ্রাম সদর খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, ভুরুঙ্গামারী খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা প্রণব কুমার গোস্বামী, ফুলবাড়ি খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম, চিলমারী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাইদুল ইসলাম মাহি, উলিপুর উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা, নাগেশ্বরী উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক রবিউল আলম কাজল, ফুলবাড়ী উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক মনোয়ারুল ইসলাম, রাজারহাট উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক নুর মোহাম্মদ, কুড়িগ্রাম সদর খাদ্য পরিদর্শক (কারিগরী) মিজানুর রহমান।

এছাড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী ইউসুফ আলী, কম্পিউটার অপারেটর আলমগীর হোসেন, স্প্রেম্যান নবিউল ইসলাম ও জিয়াউর রহমান, নিরাপত্তা প্রহরী আরিফ মিয়া। তাদেরকে লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে বদলি করা হয়।

রংপুর আঞ্চলিক খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুস সালামের দেয়া আদেশে তাদেরকে ১ নভেম্বরের মধ্যে স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। অন্যথায় তাদেরকে কর্মবিমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।

কুড়িগ্রাম খাদ্য বিভাগকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে খাদ্যমন্ত্রী সহ উচ্চ পর্যায় থেকে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জেলার বাইরে বদলি করার নির্দেশনা দিলেও ৯ জন গুদাম কর্মকর্তার মধ্যে ৩ জন গুদাম কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়। বাকি ৬ জনকে রহস্যজনক কারণে বদলি না করে তাদেরকে স্ব-স্ব পদে বহাল রাখা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে বিভাগীয় খাদ্য কর্মকর্তার সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক থাকার কারণে তাদেরকে বদলি না করে স্বপদে বহাল রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ৮ লাখ বস্তুা ক্রয়ে সীমাহীন দুর্নীতির কারণে কুড়িগ্রামে গণ বদলি অব্যাহত রয়েছে। জেলার খাদ্যগুদাম গুলোতে ব্যবহারের জন্য প্রায় আট লাখ নতুন বস্তা ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহবান করলে বিধিসম্মতভাবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিভাগের জেলা পর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে যোগসাজশ করে পুরাতন ছেঁড়াফাটা বস্তা দিয়ে নতুন বস্তা সরবরাহের প্রত্যয়ন পত্র নিয়ে বিল গ্রহণের চেষ্টা করে। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৫ -৮ অক্টোবর খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. মজিবর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের কমিটির তদন্তে দুর্নীতির বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় গণ বদলি শুরু হয়।

আপনার মতামত লিখুন :