গানের পাখি রুনা লায়লার আজ জন্মদিন – জন্মদিনে শুভ কামনা দৈনিক বনলতা পরিবার

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:০৯ AM, ১৭ নভেম্বর ২০২০

বিনোদন প্রতিবেদক বনলতা.

‘সাধারণ মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছি তা পুরস্কারের চেয়েও অনেক বড়-রুনা লায়লা

বাংলাদেশের সংগীতে রুনা লায়লার ককিল কণ্ঠে গাওয়া গানগুলো মুক্তা ছড়িয়েছে। রুপালি পর্দায় রুনা লায়লার গান মিশে থাকবে আজীবন। আজ এই প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী, জীবন্ত কিংবদন্তির জন্মদিন।

এই দিনটি তিনি সব সময়ই ঘরোয়া আয়োজনের মধ্য দিয়েই পালন করে থাকেন। তবে ছোটবেলায় এ দিনটির জন্য তিনি অপেক্ষায় থাকতেন। কারণ নতুন নতুন জামা-কাপড় উপহার পাবেন তাই। পরিবারের সদস্যদের বাইরে তেমন কেউ থাকত না জন্মদিনে। স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে পুরনো দিনের কথা। এখন তার বাবা নেই, মা নেই, বোন দীনা লায়লাও নেই। জন্মদিন এলেই যে শুধু তাদের মিস করেন এমনটি নয়। নীরবে একা একা ফেলে আসা দিনের কথা মনে পড়ে। মনের অজান্তেই হয়তো চোখের কোণে পানি চলে আসে। এবার করোনা পরিস্থিতিতে জন্মদিন ঘিরে কোনো আয়োজনই থাকছে না।

১৯৫২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ এমদাদ আলী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা আনিতা সেন ওরফে আমেনা লায়লা ছিলেন সংগীত শিল্পী। রুনা লায়লার যখন আড়াই বছর বয়স তার বাবা রাজশাহী থেকে বদলি হয়ে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের মুলতানে যান। সে সূত্রে তার শৈশব কাটে পাকিস্তানের লাহোরে।

সংগীতভুবনে পাঁচ দশক পার করেছেন তিনি। ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারেরও বেশি গান কণ্ঠে তুলেছেন। সংগীত জীবনে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সাত বার), বাচসাস পুরস্কার, ভারতের সায়গল পুরস্কার, পাকিস্তানের নিগার পুরস্কার, গ্র্যাজুয়েট পুরস্কার, জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদকসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ব্যক্তিজীবনে তার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা, যে শ্রদ্ধা পেয়েছি, তা আমার কাছে পুরস্কারের চেয়েও অনেক বড়।

জন্মদিন ঘিরে কোনো আয়োজন না থাকলেও আজ ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হবে রুনা লায়লার সুরে ‘এই দেখা শেষ দেখা’ গানের মিউজিক ভিডিও। গানের কথা লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সংগীতায়োজন করেছেন রাজা ক্যাশেফ। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন লুইপা।

 অনেক স্মৃতি কথা দুজনের- সাবিনা ইয়াসমিন,

একজন রুনা লায়লা সম্পর্কে অল্প কথায় বলে শেষ করা যাবে না। তার অগণিত গান মানুষের হৃদয় জয় করেছে। বিদেশের মাটি থেকে আমাদের দেশের জন্য অনেক সুনাম বয়ে নিয়ে এসেছেন। এক কথায়, তিনি একজন অনেক বড় মাপের শিল্পী। আমরা একসঙ্গে অনেক প্রোগ্রাম করেছি। আমেরিকায় স্টেজ প্রোগ্রাম করেছি। সেরা কণ্ঠে বিচারক হিসেবে অনেকবার একসঙ্গে ছিলাম। এনটিভির জন্য আরিফ খান আমাদের নিয়ে একটি গানের প্রোগ্রাম করেছিলেন। আমাদের দুজনের অনেক স্মৃতি, অনেক কথা। সংগীতে আমাদের দীর্ঘপথ। একসঙ্গে গান করলেও আমি তাকে কখনো প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখিনি। কারণ আমাদের দুজনের গানের স্টাইল, কণ্ঠস্বর একেবারেই আলাদা। দুজন দুরকম স্টাইলে গান করি। যে যার মতো কাজ করে গেছি। প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবার তেমন কোনো সুযোগই নেই। আজকাল তো একদমই দেখা হয় না। খুবই কম দেখা হয়। যখন আমরা প্রোগ্রাম করি, করেছি তখনই দেখা হতো। আমাদের চমৎকার সম্পর্ক। আমার দিক থেকেও ভালো, ওর দিক থেকেও অনেক ভালো। সৌজন্য কর্তাবার্তার বাইরেও আমাদের নানা ধরনের কথাবার্তা হতো। নানা ধরনের গল্প করেছি। বিশেষ করে সেরা কণ্ঠে বিচারক থাকাকালীন যখন গ্যাপ থাকত, তখন আমরা অনেক কথা বলতাম। একসঙ্গে লাঞ্চ করতে করতে গল্প হতো। আজকের দিনে একটি কথা বলেই শেষ করছি- রুনা লায়লা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন যেন গান গেয়ে যান, এই দোয়া থাকল। জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। তার দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং মঙ্গল কামনা করি। উনি ভালো থাকুক এটাই চাই।

হ্যাপি বার্থডে টু রুনা-খুরশীদ আলম

রুনা লায়লা বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি শিল্পী। উনি একজন কিংবদন্তি শিল্পী যে শুধু তা বলব না। একজন শিল্পী হতে গেলে যে জিনিসগুলো থাকতে হয়, তার মাঝে সব গুণাবলিই আছে। তিনি যে কোনো ভাষার গান খুব তাড়াতাড়ি গাইতে পারেন। সেই ক্ষমতা আল্লাহপাক দিয়েছেন। এটা গাওয়ার জন্য যে সাধনা করা দরকার, সেটা তিনি করেছেন। আমি নিজেকে দিয়েই বলছি, ৭৬ বছর বয়সে এসে গান করে যাচ্ছি। সাধনা করলে সবকিছুই পাওয়া যায়। আমাকে দিয়েই আমি বিচার করি। এটা আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি। আমি তো মনে করি ৭৬ বছর বয়সে এসে অনেকে গাইতেই পারেন না। এর কারণ রুনা লায়লা এত ভালো ভালো ওস্তাদের সান্নিধ্যে এসেছেন। বিশেষ করে পাকিস্তান থাকার কারণে, উনি যেখানে জন্মগ্রহণ করেছেন। এত এত ওস্তাদের সান্নিধ্য পেয়েছেন, যা অনেক শিল্পীর সৌভাগ্য হয় না। বাংলাদেশে আমি ওনার সঙ্গে দ্বিতীয় সিঙ্গার। খন্দকার ফারুক আহমেদ ভাই মারা গেছেন। তিনি রুনা লায়লার সঙ্গে প্রথম গান করেছেন চলচ্চিত্রে। বাংলাদেশে আমি দ্বিতীয় গান গাই। আমার গানটা হলো- পাখির বাসার মতো দুটি চোখ তোমার, ঠিক যেন নাটোরের বনলতা সেন…। রুনা লায়লা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত যা বুঝতে পেরেছি তা হলো, তিনি একজন শুধু শিল্পীই নন, তিনি একজন ভালো মনের মানুষ। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক মানুষের জন্য অনেক কিছু করতে চান এবং করেছেন। তিনি তা প্রকাশ করেন না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অনেক শিল্পী আছে, আসলাম, গাইলাম জয় করলাম, চলে গেলাম। কিন্তু রুনা লায়লার রিপ্লেসেমন্ট হবে না। হয়তো আগামী ১০০ বছর পর আরও ভালো কেউ আসতে পারে। কিন্তু তার মতো ভয়েস আর আসবে না। সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে আমি বেশি গান করেছি। উনি তো দেশে আসছেন অনেক পর। সম্ভবত ১৯৭৩ সালে। তার পরও রুনা লায়লার সঙ্গে আমার এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ গান করা হয়েছে। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি যে, তার মতো একজন সহশিল্পী পেয়েছি। তার সঙ্গে গাওয়া কোনো গানই ফেলে দেওয়ার মতো না। সব গানই লোকে গ্রহণ করেছে। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করি। উনি আমাদের দেশের সম্পদ। হ্যাপি বার্থডে টু রুনা।

রুনা লায়লা আমাদের ছায়া-সামিনা চৌধুরী,

রুনা লায়লা আমাদের বাংলাদেশের গর্ব। তিনি দেশকে রিপ্রেজেন্ট করেছেন। রুনা লায়লা দেশের সম্পদ। যার নাম বলার পর আর কোনো বিশেষণের প্রয়োজন পড়ে না। তিনি গান গেয়ে যেমন দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, তেমনি মানুষকে ভালোবাসতেও জানেন। মানুষ হিসেবে খুবই মাই ডিয়ার মানুষ। শিল্পী এবং ভালো মানুষ- দুটো একসঙ্গে হওয়াটাও কঠিন ব্যাপার। তার মাঝে এই দুটি গুণই আছে। মানুষ হিসেবে সবার প্রিয়। রুনা লায়লা শুধু গান গেয়েই নয়, তার পরিবেশনা সবাইকে মুগ্ধ করে। উনার সঙ্গে যখন দেখা হয়, তখন অনেক কথা বলি আমরা। ২০০৯ সালে আমার ‘দূরপাড়ি’ অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচনে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করেছিলাম। আলমগীর চাচা এবং উনি গেস্ট হিসেবে আসার কথা ছিল। তারা অনেক দূর ঢাকার বাইরে ছিলেন সেদিন। আসবেন কি আসবেন না, আসতে পারবেন কি পারবেন না, সেই দোটানা ছিল। তার পর উনারা এলেন। খুব ভালো লাগল। এসে একদম প্রোগ্রামের শেষ পর্যন্ত থাকলেন। আজ এই কিংবদন্তি শিল্পীর জন্মদিন। জন্মদিনে আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। রুনা লায়লা আমাদের ছায়া হয়ে থাকুক- এই কামনা করি।

আপনার মতামত লিখুন :