গুরুদাসপুরে আদালতের রায় অমান্য করে ঘর-বাড়ি দখল করেছেন প্রতিবেশীরা!

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৮ AM, ১১ ডিসেম্বর ২০২০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
জমি পাওয়ার অজুহাত দিয়ে ভিটে দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আব্দুল হাকিমের বিরুদ্ধে। শুধু ভিটে দখল নয়। টিনের বেড়া, জানালাসহ অন্যান্য সামগ্রীও লুটে নিয়েছেন। গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট বাবলাতলা গ্রামে ঘটেছে এই দখলের ঘটনা।
প্রতিবেশী আব্দুল হাকিমের দাবি করা জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা করে নিজের পক্ষে রায়ও পেয়েছেন ভুক্তভোগি আব্দুল বারী। আদালতের দেওয়া সেই রায়ও মানছেন না অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম। এঘটনায় বুধবার বিকালে গুরুদাসপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিরোধপূর্ণ সেই বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুল বারী।
অভিযোগ ও আব্দুল বারীর লিখিত বক্তব্যে জানাগেছে- বিয়াঘাট গ্রামের স্থায়ি বাসিন্দা তিনি। ১৯৮৪ সালে বিয়াঘাট মৌজার ২৫৯০,২৫৮৮,২৫৯২ ও ২৫৯৮ দাগে মোট ৫৫ শতাংশ ভিটে মাটি কিনেছিলেন। পরবর্তীতে সেখানে চার কক্ষের একটি পাকা বাড়ি ও টিনশেড তিন কক্ষের ঘর নির্মাণ করেন। কিন্তু চাকুরির সুবাদে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করেন। তার না থাকার সুযোগে প্রতিবেশী আব্দুল হামিকের নেতৃত্বে আনোয়ার হোসেন, সরোয়ার হোসেন, জিয়ারুল ও শমেসসহ ১০/১৫ জন তাদের বাড়ির দক্ষিণ পাশের ৩ শতাংশ জমি দখল করে নিয়েছেন। এছাড়া রাস্তা সংলঘ্নওেই টিনের ঘড় থেকে একট্রাক বালি, ১০ বানটিন,২শ সেফটি খোয়া দুই হাজার ইট এবং প্রায় ৪শতাধিক বাঁশ লুটে নিয়ে যান বলে তিনি জানান। তার লিচু বাগানের মধ্যে মাচাতৈরী করে প্রকাশ্যে মাদক সবন ও বিক্রি করেন বলে তার স্ত্রী শেফালী বেগম জানান।
আব্দুল বারী অভিযোগ করেন- গত বছর বাড়িতে এসে দেখেন কাঁচা সড়ক থেকে লম্বা করে তিন শতাংশ জমি দখলে নিয়ে আব্দুল হাকিম একটি ছাপড়া ও গরুর গোয়াল তৈরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করেন। এছাড়া সম্পূর্ণ বাড়ি দখলে নেওয়ার হুমিকও দেন প্রতিপক্ষরা। এতে তিনি ভিত হয়ে নাটোরের আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাতে রায় পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষ আব্দুল হাকিমরা জমি ছাড়েন নি। উপরন্ত হুমকি ধামকি দিয়েচ্ছেন। আদালত থেকে বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেনকে চিঠি দেওয়া হলেও তিনিও আদালতের চিঠি গ্রহন করেননি। উপরন্ত চেয়ারম্যান ও তার সহযোগি আলালের যোগসাজসে আব্দুল হাকিম জমিটি দখল করেছেন।
তবে অভিযুক্ত আব্দুল হাকিম অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন- নিজের জমিতেই তিনি ঘর ও গোয়ালঘর নির্মাণ করেছেন। আব্দুল বারীর জমির ভেতর থেকে তিনি আরো জমি পাবেন।
জমি দখলে তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বিয়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক মোজাম্মেল হোসেন বলেন- স্থানীয়ভাবে বিষয়টি তিনি আপোষ করে ছিলেন। কিন্তু আব্দুল বারী তা মানেনি। তাছাড়া আদালতের রায়ের ব্যপারে তিনি কিছু জানে না।
গুরুদাসপুর থানার অফিাসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন- অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :