চলনবিলে হাঁস পালনে বাড়ছে আগ্রহ ,অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করছে নাটোর জেলাকে

Md MagemMd Magem
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৭ AM, ১২ ডিসেম্বর ২০২০

বিশেষ প্রতিবেদক চলনবিল.

নাটোরের চলনবিল ও হালতিবিল এলাকার প্রতি গ্রামে হাঁস পালন করে স্বাবলম্বী হয়েছেন গৃহিণীসহ খামারিরা। বর্ষাকালে  প্রকৃতিগতভাবে সহজেই খাবার পাওয়া যায় বলে হাঁস পালনে তেমন একটা বেগ পেতে হয় না। শামুক, ঝিনুক, মাছ ও পোকামাকড় খেয়ে খুব সহজেই বেড়ে ওঠে হাঁস।

তাই এ সময় হাঁস পালনে খাবারের জন্য খুব একটা বাড়তি খরচ গুনতে হয় না। সকালে ঘুম থেকে উঠে হাঁসগুলোকে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়। সারা দিন তারা ঘুরে ফিরে সন্ধ্যায় আবার ঘরে ফিরে আসে। হাঁস হারিয়ে যাওয়ারও তেমন কোনো সুযোগ নেই। তাই বিলাঞ্চলে বাড়ি বাড়ি হাঁস পালনে উদ্বুদ্ধ হয়ে উঠছেন নারীরাও।

বর্ষাকালে চারদিকে থইথই করে বন্যার পানি। এ সময় তেমন কোনো কাজও থাকে না তাদের। এই সুযোগে গৃহস্থালির কাজ কর্মের পাশাপাশি হাঁস পালন শুরু করেছেন এসব গ্রামের নারীরা। নাটোর জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, জেলায় অন্তত ১ হাজার ৩৮৯টি গ্রাম রয়েছে। বর্ষার পানি এলেই এসব গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে গড়ে ২০/২৫টি করে হাঁস পালন শুরু করা হয়। এ হিসাবে প্রতিটি গ্রামে অন্তত ১০০টি পরিবারে হাঁস পালন করা হয়।

যার মধ্যে বেশির ভাগই পাতিহাঁস বা দেশীয় জাতের হাঁস রয়েছে। তবে এর মধ্যে অনেকে রাজহাঁস, চিলহাঁসও পালন করে থাকেন। সূত্র জানায়, চলনবিল ও হালতিবিলের ৬৭ হাজার ৫০০ পরিবারে গড়ে ২০টি করে হাঁস পালন হিসাব করলে গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার হাঁস উৎপান হয় শুধু বর্ষাকালেই। এ সময়ে প্রতিটি বাড়িতে গড়ে ১০টি করে ডিম উৎপাদন হলে মোট ডিম উৎপাদন দাঁড়ায় সাড়ে ৬৭ হাজার। যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় কমপক্ষে ৪৭ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে নাটোর জেলাকে।

আপনার মতামত লিখুন :