রাজনীতির পাশাপাশি মানব সেবাই “ মুক্তির” অদম্য ইচ্ছা

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:১৪ AM, ২৪ জুন ২০২১

প্রভাষক মো.মাজেম আলী মলিন,

“স্বপ্ন” মানুষকে বেঁচে থাকার প্রেরনা যোগায়। স্বপ্ন কম-বেশি সকলেই দেখে। কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের জীবনে স্বপ্নেরদ্বার যেন অধরাই-ই থেকে যায়। সেই সব অবহেলিত মানুষদের স্বপ্নের দার উম্মচন করতেই কল্লোল ফাউন্ডেশন আয়োজন করেছে বিভিন্ন কার্যক্রমের।

২০১২ সালের মাঘ মাস, প্রচন্ড শীতে জরোসরো অবস্থায় বসে আছে একদল মানুষ। এই অবহেলিত মানুষ গুলোর পড়নে ছেড়াঁ-মলিন কাপড় । চোখে মুখে বয়সের ছাপ। মনে হতাশা আর অপ্রাপ্তির ছায়া। বসে বসে হক্কা টানছে আর জীবনের হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন।

এসময় একজন মমতাময়ী এক নারী এসে পাশে বসেন এবং আমাদের জানা অজানা কষ্ট গুলো গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন। সেই নিদারুন কষ্টে গুলো তাকে নাড়া দেয়। এর পর থেকেই শুরু হয় আমাদের নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই। স¦াদ আর স্বাধ্যের মধ্যেই তিনি চেষ্টা করেন আমাদের কে সকল ধরনের সহযোগিতার। তিনি আর কেউ নন তিনি হলেন আমাদের সকলের প্রিয় মুক্তি, পুরো নাম এ্যাডভোকেট কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি। মুক্তি মহিলা যুব নেতৃত্বের পাশা পাশি গড়ে তুলেছেন কল্লোল ফাউন্ডেশান নামের একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই তিনি পৌছে দিচ্ছেন সেবা সাধারন মানূষের দোরগড়ায়। গল্পটি এভাবেই ব্যক্ত করলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের খামারপাথুরিয়া গ্রামের ক্ষুদ্্র নৃ-তাত্বিক গোষ্ঠির প্রবীণ নেতা শ্রী ধনঞ্জয় সরকার (৬৫)।

এমন কিছু মানুষ আছে যাদের জীবনে স্বপ্নেরদ্বার যেন অধরাই-ই থেকে যায়। সেই সব অবহেলিত মানুষদের স্বপ্নের দার উম্মচন করতেই কল্লোল ফাউন্ডেশনের ‘স্বপ্নদার’ নামের একটি স্কুলের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালে ওই এলাকার অবহেলিত মানুষের অন্ধকার দুর করতে। মূলত চলনবিলের পিছিয়েপড়া ক্ষুদ্র নৃ-তাত্তি¡ক জনগোষ্ঠির বয়স্ক ও শিশুদের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দিতেই স্বেচ্ছা সেবী এই সংগঠনের ব্যাতিক্রমি ওই উদ্যোগ । এখানে শিশুদের পাশাপাশি বয়ষ্কদেরও শিক্ষা দেওয়া হয়। প্রায় শতাধিক ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির লোকেরা লেখাপড়া করছেন এই বিদ্যালয়ে।

মুলত দেশ, সমাজ তথা বেকার যুব সমাজের কর্ম সংস্থানের কথা মাথায় রেখেই ঘোরোয়া পরিবেশে যাত্রা শুরু করে এই প্রতিষ্ঠানটির। ২০১২ সালে দুই থানা ব্যাপি শুরু হয় এর কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠানের মুল নেতা এ্যাডভোকেট কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি। তিনি বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি। রাজনীতির পাশা পাশি মানব সেবাই ছিল তার অদম্য ইচ্ছা আর সেই ইচ্ছা থেকেই তিনি সমাজের কিছু সচেতন শিক্ষিত মানুষকে নিয়ে শুরু করেন স্বেচ্ছা সেবী প্রতিষ্ঠান কল্লোল ফাউন্ডেশান। যার মাধ্যমে সমাজের বেকার যুবক-যুবতিসহ সমাজের সব চেয়ে পিছিয়ে পড়া দুর্বল মানুষদের পাশে থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। এছাড়া বিভিন্ন সমাজসেবা মুলক কার্যক্রম ও করে থাকে এই প্রতিষ্ঠান টি। এটি বর্তমানে বেকার যুবক-যুবতীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সুষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। দুঃস্থ রোগীদের সাহায্যে সহযোগীতা প্রদান,ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার লক্ষ্যে গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রামের ৭ শতাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক জিপিএ ৫ প্রাপ্তদেও কে প্রতি বছর ক্রেষ্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করে থাকে।

এছাড়া তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান দান ও কম্পিউটার প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা কওে থাকেন। ক্ষুদ্র নৃতাত্বিক জনগোষ্ঠিদের বিভিন্ন প্রশিক্ষন ও আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ বিভিন্ন প্রকার বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষনের আয়োজন করে থাকে। হস্ত শিল্পের প্রশিক্ষণ, মাদক দ্রব্যের ভয়াবহতা সম্পর্কে জন সাধারণকে সচেতন, দুস্থদের মাঝে শীত বস্ত্রবিতরন, বৃক্ষ রোপন,ঈদ পুজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপহার সামগ্রী বিতরন এবং প্রধান মন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এতিমদের মাঝে খাবার বিতরনসহ নানাবিধ কার্যক্্রম পরিচালনাসহ সামাজিক কার্যক্রম চালাতে বেশ কিছু বাঁধাবিপত্তির মধ্যে পড়লেও তা অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানটি এসেছেন আজকের এই অবস্থানে। যার ফলশ্রæতিতে ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ পেয়েছেন ইয়াং বাংলা কর্তৃক আয়োজিত“ জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৭”। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এ্যাডভোকেট কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি জানান, মুলত সমাজের পিছিয়ে পরা অসহায় মানুষ গুলোর জন্যই আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। তার পরও এত বড় একটা স্বীকৃতি ভবিষ্যতে তাদের কাজের অনুপ্রেরনা যোগাবে।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধেও সময় নির্মম ভাবে শহীদ হওয়া ১৭ মাসের একজন শিশু কল্লোল । তার নাম অনুসারে এই ফাউন্ডেশানের নাম করন করা হয় “কল্লোল ফাউন্ডেশান”। কল্লোল নাটোর-৪ আসনের ৫বারের নির্বাচিত প্রবীণ সংসদ এবং নাটোর জেলা আ.লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধিনতা যুদ্ধের সময় শত্রæ পক্ষের নির্মমতায় শিকার হয়ে শাহাদৎ বরন করেন। মুলত তার স্মৃতি এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধরে রাখতেই ৯ এপ্রিল ২০১২ সালে এটি প্রতিষ্ঠত করা হয়। রাজশাহী বিভাগের নাটোর জেলার গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রম উপজেলায় এর কার্যক্রম চলছে। এর মোট সদস্য সংখ্যা ৬১ জন। মুলত সদস্যদের চাঁদা এবং দাতা ও প্রতিষ্ঠা সদস্যদের চাঁদার মাধ্যমেই চলে এই প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম। নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে স্ব-মহিমায় এগিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকাশক ও সম্পাদক দৈনিক বনলতা, প্রতিনিধি ভোরের কাগজ,ডেইলী অবজারভার,সভাপতি গুরুদাসপুর মডেল প্রেসক্লাব,সভাপতি বঙ্গবন্ধু কালচারাল একাডেমী, সাধারণ সম্পাদক স্বাধিনতা শিক্ষক পরিষদ.উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয় পরিষদ নাটোর জেলা শাখা ও বিভাগীয় প্রধান(স.বি) রোজী মোজাম্মেল মহিলা অনার্স কলেজ গুরুদাসপুর,নাটোর।

আপনার মতামত লিখুন :