সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ন্যাশনাল সার্ভিসে দুর্নীতির দায়ে সাদুল্লাপুরের ২ যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১
  • ৩১ Time View

সাদুল্লাপুর(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূুচীতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলায় কর্মরত সাবেক দুই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দুইজনকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার উত্তর আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর আহম্মেদ লস্কর জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আজহারুল ইসলাম খানের গত ২ আগস্ট স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তিনি এই বিষয়টি অবগত হয়েছেন।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী ভুঞা (বর্তমানে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় কর্মরত) ও মোঃ হাসান আলী (বর্তমানে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় কর্মরত)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভুঞা উপজেলা সমন্বয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৪ হাজার ২৯৪ জনের তালিকা কৌশলে সরিয়ে ফেলেন। পরে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে বিধিবর্হিভুতভাবে ৪ হাজার ২৯৪ জনের একটি তালিকা তৈরী করেন। এছাড়া ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূুচীভুক্ত কাজ করার জন্য ইমরান হোসেন নামে বহিরাগত একজনকে বিধিবর্হিভূতভাবে নিয়োগ দেন। এবং তার মাধ্যমে তিনি সকল ধরনের দুর্নীতির সুযোগ গ্রহণ করেন।

অপর এক অফিস আদেশে বলা হয়, তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাসান আলী সাদুল্লাপুর উপজেলায় যোগদানের পর ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূুচীতে অর্šÍভুক্তির বিষয়ে ৪ হাজার ২৯৪ জনের একটি অননুমোদিত তালিকা পান। এখানে আরও উল্লেখ করা হয় অনুমোদিত ৪ হাজার ২৯৪ জনের তালিকা থেকে ১ হাজার সুবিধাভোগী নাম কৌশলে সরিয়ে ফেলে নতুন করে অবৈধ ১ হাজার জন সুবিধাভোগীকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। বিষয়টি তিনি অবগত হন। তারপরও তিনি এই বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে উপস্থাপন বা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কিংবা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে উক্ত তালিকা দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। এতে সরকারের (১৪,৪০,০০০০০) চৌদ্দ কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়।

এছাড়া এই প্রশিক্ষণ যে সকল সুবিধাভোগী আংশিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের সকলকে পরিপূর্ণ ভাতা প্রদান করেন। এতে তিনি সরকারী টাকা অপচয় করেছেন।

এদিকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসুচীভুক্ত কাজ করার জন্য বিধিবর্হিভূতভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বহিরাগত ইমরান হোসেনকে দিয়ে তিনি কম্পিউটার কম্পোজসহ আর্থিক নথিপত্রের কাজ সম্পাদন করান। তার মাধ্যমে তিনিও সকল ধরনের দুর্নীতির সুযোগ গ্রহণ করেন।

উভয় আদেশে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ তদন্ত কমিটি কর্র্তৃক প্রাথমিক তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। তাই অসদাচারণ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী ভুঞা ও মোঃ হোসেন আলী সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সুতরাং কেন তাদের বরখাস্ত করা হবেনা তার জবাব আগামি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত. এই বিষয় নিয়ে একটি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে সম্প্রতি তদন্ত কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুগ্ন সচিব বদরে মুনিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির এইসব বিষয় সরেজমিন তদন্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভুঞা ও মোঃ হাসান আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।

Tag :
About Author Information

Daily Banalata

Popular Post

ন্যাশনাল সার্ভিসে দুর্নীতির দায়ে সাদুল্লাপুরের ২ যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

Update Time : ০৪:৩৭:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ অগাস্ট ২০২১

সাদুল্লাপুর(গাইবান্ধা) প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূুচীতে অনিয়ম ও দুর্নীতি বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলায় কর্মরত সাবেক দুই যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করেছে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তা দুইজনকে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার উত্তর আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহষ্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে সাদুল্লাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা জাফর আহম্মেদ লস্কর জানান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আজহারুল ইসলাম খানের গত ২ আগস্ট স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তিনি এই বিষয়টি অবগত হয়েছেন।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন, সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী ভুঞা (বর্তমানে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় কর্মরত) ও মোঃ হাসান আলী (বর্তমানে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলায় কর্মরত)।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভুঞা উপজেলা সমন্বয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত ৪ হাজার ২৯৪ জনের তালিকা কৌশলে সরিয়ে ফেলেন। পরে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে বিধিবর্হিভুতভাবে ৪ হাজার ২৯৪ জনের একটি তালিকা তৈরী করেন। এছাড়া ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূুচীভুক্ত কাজ করার জন্য ইমরান হোসেন নামে বহিরাগত একজনকে বিধিবর্হিভূতভাবে নিয়োগ দেন। এবং তার মাধ্যমে তিনি সকল ধরনের দুর্নীতির সুযোগ গ্রহণ করেন।

অপর এক অফিস আদেশে বলা হয়, তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ হাসান আলী সাদুল্লাপুর উপজেলায় যোগদানের পর ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূুচীতে অর্šÍভুক্তির বিষয়ে ৪ হাজার ২৯৪ জনের একটি অননুমোদিত তালিকা পান। এখানে আরও উল্লেখ করা হয় অনুমোদিত ৪ হাজার ২৯৪ জনের তালিকা থেকে ১ হাজার সুবিধাভোগী নাম কৌশলে সরিয়ে ফেলে নতুন করে অবৈধ ১ হাজার জন সুবিধাভোগীকে অর্ন্তভুক্ত করা হয়। বিষয়টি তিনি অবগত হন। তারপরও তিনি এই বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে উপস্থাপন বা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কিংবা উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে উক্ত তালিকা দিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। এতে সরকারের (১৪,৪০,০০০০০) চৌদ্দ কোটি চল্লিশ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়।

এছাড়া এই প্রশিক্ষণ যে সকল সুবিধাভোগী আংশিক উপস্থিত ছিলেন। তাদের সকলকে পরিপূর্ণ ভাতা প্রদান করেন। এতে তিনি সরকারী টাকা অপচয় করেছেন।

এদিকে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসুচীভুক্ত কাজ করার জন্য বিধিবর্হিভূতভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বহিরাগত ইমরান হোসেনকে দিয়ে তিনি কম্পিউটার কম্পোজসহ আর্থিক নথিপত্রের কাজ সম্পাদন করান। তার মাধ্যমে তিনিও সকল ধরনের দুর্নীতির সুযোগ গ্রহণ করেন।

উভয় আদেশে বলা হয়, তাদের বিরুদ্ধে এইসব অভিযোগ তদন্ত কমিটি কর্র্তৃক প্রাথমিক তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। তাই অসদাচারণ ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত তৎকালীন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ ইউসুফ আলী ভুঞা ও মোঃ হোসেন আলী সরকারী কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ এর ৩ (খ) ও ৩ (ঘ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সুতরাং কেন তাদের বরখাস্ত করা হবেনা তার জবাব আগামি ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত. এই বিষয় নিয়ে একটি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে সম্প্রতি তদন্ত কমিটি গঠন করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। যুগ্ন সচিব বদরে মুনিরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির এইসব বিষয় সরেজমিন তদন্ত করেন।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে সাদুল্লাপুর উপজেলার সাবেক যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ইউসুফ আলী ভুঞা ও মোঃ হাসান আলীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তারা ফোন রিসিভ করেননি।