বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাবা-মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হলেন সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৯১ Time View

মোঃ হারুনর রশীদ (হারুন)বেড়া,পাবনা প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুরের উজ্জল নক্ষত্র, লাখো প্রাণের হৃদয়ের স্পন্দন, সিরাজগঞ্জ-৬(শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক শিল্প উপ-মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন (৬৭) সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রিয় জন্মভূমি শাহজাদপুরে।

শুক্রবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা শাহজাদপুর হাই স্কুল মাঠে তার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় এমপিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিতে এবং জানাযায় অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে শাহজাদপুরে। জানাযা শেষে শাহজাদপুর চুনিয়াখালি পাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

ঢাকা বনানীতে প্রথম জানাযা অননুষ্ঠিত হয়। কফিনে মোড়ানো নিথর দেহে আজ শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে সামরিক হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে বেড়া খালেকুজ্জামান স্টেডিয়ামে ল্যান্ড করে। সেখান থেকে ফ্রিজিং এম্বুলেন্সে করে শেষবারের মতো শাহজাদপুরের দ্বারিয়াপুর বাসায় আনা হয়। গণ মানুষের নেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনকে।

শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে সেখানে ভীড় করেন হাজার হাজার মানুষ। অভিভাবক হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং স্বজনরা স্তব্ধ নির্বাক হয়ে দেখতে থাকেন প্রিয় নেতাকে। সেখানে চোখের জলে সিক্ত হন শাহজাদপুরের আপামর জনতা। এমনভাবে তারা অভিভাবক হারা হবেন, মেনে নিতে পারেননি কেউই।

জুলাই মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তুরস্ক নেওয়া হয়। ইস্তাম্বুল মেমোরিয়াল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান তিনি। চরম দুঃসংবাদটি পাওয়ার পর থেকেই প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবককে একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষা করছিলেন শাহজাদপুরের মানুষ। হাসপাতালের সকল প্রক্রিয়া শেষে বিমানে করে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় আনা হয় তার লাশ। সেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় স্পিকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে প্রথম জানাযা অননুষ্ঠিত হয়।
বাদ জুম্মা শাহজাদপুর হাই স্কুল মাঠে জেলা ও উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দ্বিতীয় জানাযা শেষে শাহজাদপুর চুনিয়াখালিপাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় এমপি স্বপনকে।
তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে শিল্প উপ-মন্ত্রী হন। এর আগে তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালিন শাহজাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৯২ সালে শাহজাদপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তিনি ২০০৯ সালে শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পরপর দুইবার আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।

Tag :
Popular Post

বাবা-মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হলেন সংসদ সদস্য হাসিবুর রহমান স্বপন

Update Time : ০৫:০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃ হারুনর রশীদ (হারুন)বেড়া,পাবনা প্রতিনিধিঃ
শাহজাদপুরের উজ্জল নক্ষত্র, লাখো প্রাণের হৃদয়ের স্পন্দন, সিরাজগঞ্জ-৬(শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক শিল্প উপ-মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপন (৬৭) সবাইকে শোক সাগরে ভাসিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রিয় জন্মভূমি শাহজাদপুরে।

শুক্রবার (০৩ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা শাহজাদপুর হাই স্কুল মাঠে তার দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় এমপিকে চিরকালের জন্য বিদায় দিতে এবং জানাযায় অংশ নিতে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে শাহজাদপুরে। জানাযা শেষে শাহজাদপুর চুনিয়াখালি পাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

ঢাকা বনানীতে প্রথম জানাযা অননুষ্ঠিত হয়। কফিনে মোড়ানো নিথর দেহে আজ শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে সামরিক হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে বেড়া খালেকুজ্জামান স্টেডিয়ামে ল্যান্ড করে। সেখান থেকে ফ্রিজিং এম্বুলেন্সে করে শেষবারের মতো শাহজাদপুরের দ্বারিয়াপুর বাসায় আনা হয়। গণ মানুষের নেতা আলহাজ্ব হাসিবুর রহমান স্বপনকে।

শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে সেখানে ভীড় করেন হাজার হাজার মানুষ। অভিভাবক হারানোর বেদনা বুকে নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং স্বজনরা স্তব্ধ নির্বাক হয়ে দেখতে থাকেন প্রিয় নেতাকে। সেখানে চোখের জলে সিক্ত হন শাহজাদপুরের আপামর জনতা। এমনভাবে তারা অভিভাবক হারা হবেন, মেনে নিতে পারেননি কেউই।

জুলাই মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তুরস্ক নেওয়া হয়। ইস্তাম্বুল মেমোরিয়াল হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোরে মারা যান তিনি। চরম দুঃসংবাদটি পাওয়ার পর থেকেই প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন অভিভাবককে একনজর দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষা করছিলেন শাহজাদপুরের মানুষ। হাসপাতালের সকল প্রক্রিয়া শেষে বিমানে করে শুক্রবার ভোরে ঢাকায় আনা হয় তার লাশ। সেখানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় স্পিকার এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানীতে প্রথম জানাযা অননুষ্ঠিত হয়।
বাদ জুম্মা শাহজাদপুর হাই স্কুল মাঠে জেলা ও উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দ্বিতীয় জানাযা শেষে শাহজাদপুর চুনিয়াখালিপাড়া শাহ মখদুম কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয় এমপি স্বপনকে।
তিনি ১৯৯৬ সালে বিএনপি থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগে যোগদান করে শিল্প উপ-মন্ত্রী হন। এর আগে তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালিন শাহজাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৯২ সালে শাহজাদপুর পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
তিনি ২০০৯ সালে শাহজাদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে পরপর দুইবার আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগ পর্যন্ত তিনি সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ছিলেন।