সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৭৯ Time View
বনলতা ডেস্ক.
দেড় বছর পর কাল ক্লাসে ফিরছে শিক্ষার্থীরা আবার মুখরিত হচ্ছে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপা বাধ্যতামূলক * শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ৮০ শতাংশের টিকা নিশ্চিত করা আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষার্থীরা ফিরবে ক্লাসে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় সোয়া তিন কোটি ছাত্রছাত্রী আছে। সরাসরি পাঠদানের লক্ষ্যে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বন্যা কবলিত এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাঠদান চলাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত নিয়মাবলি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দুই স্তরে তা মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই দৈনিক আসবে আলাদা দুটি মনিটরিং প্রতিবেদন। এছাড়া শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ টিকা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সার্বিক কাজ তদারকির জন্য ছুটির দিনেও আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় খোলা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।
এগুলো অভিন্ন ক্লাস রুটিনে চলবে। প্রায় অর্ধলক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো অবশ্য নিজ নিজ রুটিন অনুসরণ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে দফায় দফায় নির্দেশিকা পাঠিয়েছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাধারণ শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট ৯ স্তরের জন্য আলাদা করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুাযায়ী, ১০টি মূলনীতি অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। আর দৈনন্দিন লেখাপড়া ও মূল্যায়নে অনুসরণ করা হবে ৮টি নীতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কাছে মূল অগ্রাধিকার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা। সেটিকে সামনে রেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পুনরায় লেখাপড়া শুরুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনাসংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় নির্দেশিত পন্থায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, বসানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব ইত্যাদি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনা অনুসৃত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিতে শিক্ষার মাঠপ্রশাসন কাজ করছে। কেন্দ্রীয়ভাবেও সবকিছু তদারকি করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সবাই প্রস্তুত। এরপরও কাল (আজ) সবশেষ পরিদর্শন করবেন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এক প্রকার হিল্লোল বয়ে গেছে। প্রায় সব শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছে কখন স্কুলে যাবে। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে দেখা গেছে তাদের প্রস্তুতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে শিক্ষাসামগ্রী বিশেষ করে জুতা-মোজা, ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস কিনতে দেখা গেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে শিক্ষকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। শিক্ষকরা এ কদিন ব্যস্ত ছিলেন পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে। একদিকে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান। আরেকদিকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রুটিন তৈরির পাশাপাশি ক্লাসরুমে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বসানো, হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে বিশেষ কক্ষে পরিচর্যা ইত্যাদি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ওয়াশ ব্লক প্রস্তুত, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন, বসানোর ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের রোববার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বরণ করে নেব। আর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জহুরা বেগম বলেন, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে রুটিন তৈরি করেছি।
শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষক ও কর্মচারী টিকা নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার সুবিধার্থে প্রতিটি ভবনে ওয়াশ ব্লকে আমরা লিকুইড সাবান রাখার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া প্রতিটি ভবনের প্রবেশদ্বারে বেসিন ও সাবান থাকবে। স্কুলের তিনটি গেটকে আলাদাভাবে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। অভিভাবকরা গেটের অদূরে অবস্থান করবেন। তাদের জন্য সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ছোট ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সেখান থেকে শিক্ষকরা গ্রহণ করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করা হয়েছে।
দশ বিষয় বাধ্যতামূলক : চেকলিস্টের মাধ্যমে দৈনিক তদারকি করা হবে প্রতিষ্ঠান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ঢাকায়; শিক্ষার্থীদের দৈনিক সচেতন করা হবে; বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার; হাত ধোয়ার ব্যবস্থা; দৈনিক প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই- এজন্য গেটে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ; প্রয়োজনে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা; লক্ষণ থাকলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসাবে বিবেচনা না করা; স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্লাসরুমে বসানো; স্কুলে সমাবেশ না করা, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে যার যার সিটে রেখে হালকা শারীরিক কসরত; পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা; হোস্টেলে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ। পাঠ ও মূল্যায়ন নীতি : পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল খোলার পর এসএসসি ও এইচএসসি এবং পিইসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে ৬ দিন হবে। প্রথম থেকে চতুর্থ এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে এ।
Enter

You sent

Tag :
Popular Post

শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

Update Time : ০১:২০:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
বনলতা ডেস্ক.
দেড় বছর পর কাল ক্লাসে ফিরছে শিক্ষার্থীরা আবার মুখরিত হচ্ছে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মাস্ক পরা, হাত ধোয়া ও প্রতিদিন তাপমাত্রা মাপা বাধ্যতামূলক * শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের ৮০ শতাংশের টিকা নিশ্চিত করা আবার শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামীকাল খুলে দেওয়া হচ্ছে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। প্রায় দেড় বছর পর শিক্ষার্থীরা ফিরবে ক্লাসে। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় সোয়া তিন কোটি ছাত্রছাত্রী আছে। সরাসরি পাঠদানের লক্ষ্যে বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে বন্যা কবলিত এলাকা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি।
প্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে করোনাসংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা অনুসরণ করা হচ্ছে। পাঠদান চলাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত নিয়মাবলি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি দুই স্তরে তা মনিটরিং করা হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেই দৈনিক আসবে আলাদা দুটি মনিটরিং প্রতিবেদন। এছাড়া শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অন্তত ৮০ শতাংশকে অন্তত এক ডোজ টিকা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় শুরুর সার্বিক কাজ তদারকির জন্য ছুটির দিনেও আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয় খোলা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।
এগুলো অভিন্ন ক্লাস রুটিনে চলবে। প্রায় অর্ধলক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলো অবশ্য নিজ নিজ রুটিন অনুসরণ করবে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য আলাদাভাবে দফায় দফায় নির্দেশিকা পাঠিয়েছে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। তাতে শিক্ষার্থী, প্রতিষ্ঠান প্রধান, সাধারণ শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট ৯ স্তরের জন্য আলাদা করণীয় উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুাযায়ী, ১০টি মূলনীতি অনুসরণ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। আর দৈনন্দিন লেখাপড়া ও মূল্যায়নে অনুসরণ করা হবে ৮টি নীতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, সরকারের কাছে মূল অগ্রাধিকার ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা। সেটিকে সামনে রেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পুনরায় লেখাপড়া শুরুর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। করোনাসংক্রমণ থেকে সুরক্ষায় নির্দেশিত পন্থায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন, বসানোর ক্ষেত্রে শারীরিক দূরত্ব ইত্যাদি কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশনা অনুসৃত হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিতে শিক্ষার মাঠপ্রশাসন কাজ করছে। কেন্দ্রীয়ভাবেও সবকিছু তদারকি করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, সবাই প্রস্তুত। এরপরও কাল (আজ) সবশেষ পরিদর্শন করবেন মাঠপর্যায়ের শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ৩ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণায় ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এক প্রকার হিল্লোল বয়ে গেছে। প্রায় সব শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছে কখন স্কুলে যাবে। পাশাপাশি গত কয়েকদিন ধরে দেখা গেছে তাদের প্রস্তুতি। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজার ও বিপণিবিতানগুলোতে শিক্ষাসামগ্রী বিশেষ করে জুতা-মোজা, ব্যাগ এবং স্কুল ড্রেস কিনতে দেখা গেছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে শিক্ষকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। শিক্ষকরা এ কদিন ব্যস্ত ছিলেন পুনরায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিয়ে। একদিকে তারা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালান। আরেকদিকে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক রুটিন তৈরির পাশাপাশি ক্লাসরুমে শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে বসানো, হাত ধোয়া, অসুস্থ হলে বিশেষ কক্ষে পরিচর্যা ইত্যাদি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক কামরুন নাহার বলেন, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক ওয়াশ ব্লক প্রস্তুত, ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন, বসানোর ব্যবস্থাসহ সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ছাত্রছাত্রীদের রোববার আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে বরণ করে নেব। আর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ জহুরা বেগম বলেন, শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে আমরা ইতোমধ্যে রুটিন তৈরি করেছি।
শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেওয়া হবে। আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষক ও কর্মচারী টিকা নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্নতার সুবিধার্থে প্রতিটি ভবনে ওয়াশ ব্লকে আমরা লিকুইড সাবান রাখার ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া প্রতিটি ভবনের প্রবেশদ্বারে বেসিন ও সাবান থাকবে। স্কুলের তিনটি গেটকে আলাদাভাবে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। অভিভাবকরা গেটের অদূরে অবস্থান করবেন। তাদের জন্য সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ছোট ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের সেখান থেকে শিক্ষকরা গ্রহণ করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে ব্যানার ও ফেস্টুন তৈরি করা হয়েছে।
দশ বিষয় বাধ্যতামূলক : চেকলিস্টের মাধ্যমে দৈনিক তদারকি করা হবে প্রতিষ্ঠান, এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠাতে হবে ঢাকায়; শিক্ষার্থীদের দৈনিক সচেতন করা হবে; বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ব্যবহার; হাত ধোয়ার ব্যবস্থা; দৈনিক প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা যাচাই- এজন্য গেটে ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ; প্রয়োজনে পিসিআর ল্যাবে নমুনা পরীক্ষা; লক্ষণ থাকলে শিক্ষার্থীকে অনুপস্থিত হিসাবে বিবেচনা না করা; স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ক্লাসরুমে বসানো; স্কুলে সমাবেশ না করা, তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসরুমে যার যার সিটে রেখে হালকা শারীরিক কসরত; পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা; হোস্টেলে বিশেষ নির্দেশনা অনুসরণ। পাঠ ও মূল্যায়ন নীতি : পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্কুল খোলার পর এসএসসি ও এইচএসসি এবং পিইসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস সপ্তাহে ৬ দিন হবে। প্রথম থেকে চতুর্থ এবং ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে এ।
Enter

You sent