শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

পঞ্চগড়ে ১৯ দফা নির্দেশিকা মেনে খুলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে পর্যায়ক্রমে পাঠদান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৫৯ Time View

পঞ্চগড় প্রতিনিধি.
সারা দেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমন কমে আসায় সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খুলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সারা দেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক ১৯ দফা নির্দেশিকা মেনে খুলেছে জেলা সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

গেল এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ঘুয়ে মুছে স্বাভাবিক অবস্থায় আসার পরে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩.৩০ মিনিট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চলবে পাঠদান কার্যক্রম। সে অনুয়ায়ী রুটিন তৈরী করে ক্লাসের দিন ও সময় জানিয়ে দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এদিক রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা উৎসব মুখর পরিবেশে স্কুল কলেজ গুলোতে আসতে থাকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মুল ফটকে ঢোকা মাত্রই থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছে মাস্ক পরিয়েও।

অনেক স্কুল আবার ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীদের। পরে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ক্লাসে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। বসছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে। জানা গেছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে এবং তাদের করোনা ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। এদিকে দীর্ঘ ৫৪৪ দিন পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষার্থীরা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে দেখা করতে পেরে তাদের মাঝে যেন ছিলনা আনন্দের কোন কমতি। তবে সব শিক্ষার্থীরা একসাথে না আসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ছিল সুনশান নীরবতা। ছিলনা কোলাহল, শিক্ষার্থীদের হৈ হুল্লর।

জেলা শহরের পঞ্চগড় বিপি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চড় সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগড় কালেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিফট আকারে ভাগ করে ক্লাস নিচ্ছে। ৫ম শ্রেণী, জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও এইচএসসি’র ২০২১ ও ২১ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্য শ্রেনীর শিক্ষঅর্থীদের ক্লান নেয়া হচ্ছে।


এদিকে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজে ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন পরে কলেজে আসায় তাদের নিয়ে এক উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন করে কলেজ প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন বাসায় পড়ালেখা কিভাবে করেছে, তাদের সময় কিভাবে কেটেছে এসব নিয়ে তাদের মাঝে শিক্ষা বিষয়ক উৎসাহ প্রদান সহ নানা দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।
পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজের ২০২০ শিক্ষা বর্ষের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র নাইমুর রশিদ সোহান জানায়, ভেবেছিলাম উচ্চ মাধ্যেমিকে ক্লাস করা হয়তো হবেনা। এখন কলেজ খুলেছে। প্রথমবারের মত কলেজে এসেছি ক্লাস করতে। আমি খুব খুশি ক্লাস করতে পেরে। যদিও এখনো কোন বন্ধুদের সাথে পরিচিত হতে পারিনি।
পঞ্চগড় কালেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিশাত তাসফিয়া আশা জানায়, ৯ম শ্রেনীতে উঠে মাত্র আড়াই মাসের মত ক্লাস করেছি। দশম শ্রেনীর অধিকাংশ সময়ই স্কুল বন্ধ ছিল। বর্তমানে যদিও খুলেছে আমাদের লেখাপড়ার গতিটা একটু হলেও তো কমেছে। আমি আশা করছি স্কুল যদি আর বন্ধ না হয় তাহলে সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি ভালভাবে নিতে পারবো। আমি পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে চাই। নিজের মেধার মূল্যায়ন করতে চাই।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আখতার সহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।

Tag :
Popular Post

পঞ্চগড়ে ১৯ দফা নির্দেশিকা মেনে খুলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলছে পর্যায়ক্রমে পাঠদান

Update Time : ০১:৪৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

পঞ্চগড় প্রতিনিধি.
সারা দেশে কোভিড-১৯ এর সংক্রমন কমে আসায় সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খুলল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সারা দেশের ন্যায় পঞ্চগড়েও সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক ১৯ দফা নির্দেশিকা মেনে খুলেছে জেলা সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

গেল এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ঘুয়ে মুছে স্বাভাবিক অবস্থায় আসার পরে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩.৩০ মিনিট পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে চলবে পাঠদান কার্যক্রম। সে অনুয়ায়ী রুটিন তৈরী করে ক্লাসের দিন ও সময় জানিয়ে দেয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের। এদিক রোববার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা উৎসব মুখর পরিবেশে স্কুল কলেজ গুলোতে আসতে থাকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মুল ফটকে ঢোকা মাত্রই থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা মেপে শিক্ষার্থীদের প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। হাতে স্যানিটাইজার ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছে মাস্ক পরিয়েও।

অনেক স্কুল আবার ফুল দিয়ে বরণ করে নেয় শিক্ষার্থীদের। পরে সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ক্লাসে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরা। বসছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে। জানা গেছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে এবং তাদের করোনা ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করেছে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। এদিকে দীর্ঘ ৫৪৪ দিন পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষার্থীরা বন্ধু বান্ধবীদের সাথে দেখা করতে পেরে তাদের মাঝে যেন ছিলনা আনন্দের কোন কমতি। তবে সব শিক্ষার্থীরা একসাথে না আসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ছিল সুনশান নীরবতা। ছিলনা কোলাহল, শিক্ষার্থীদের হৈ হুল্লর।

জেলা শহরের পঞ্চগড় বিপি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চড় সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পঞ্চগড় কালেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয় সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিফট আকারে ভাগ করে ক্লাস নিচ্ছে। ৫ম শ্রেণী, জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও এইচএসসি’র ২০২১ ও ২১ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী ছাড়াও অন্য শ্রেনীর শিক্ষঅর্থীদের ক্লান নেয়া হচ্ছে।


এদিকে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজে ২০২০-২১ শিক্ষা বর্ষের একাদশ শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। পরে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ দিন পরে কলেজে আসায় তাদের নিয়ে এক উদ্বুদ্ধকরণ সভার আয়োজন করে কলেজ প্রশাসন। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন বাসায় পড়ালেখা কিভাবে করেছে, তাদের সময় কিভাবে কেটেছে এসব নিয়ে তাদের মাঝে শিক্ষা বিষয়ক উৎসাহ প্রদান সহ নানা দিক নির্দেশনা দেয়া হবে।
পঞ্চগড় মকবুলার রহমান সরকারী কলেজের ২০২০ শিক্ষা বর্ষের একাদশ শ্রেনীর ছাত্র নাইমুর রশিদ সোহান জানায়, ভেবেছিলাম উচ্চ মাধ্যেমিকে ক্লাস করা হয়তো হবেনা। এখন কলেজ খুলেছে। প্রথমবারের মত কলেজে এসেছি ক্লাস করতে। আমি খুব খুশি ক্লাস করতে পেরে। যদিও এখনো কোন বন্ধুদের সাথে পরিচিত হতে পারিনি।
পঞ্চগড় কালেক্টরেট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী নিশাত তাসফিয়া আশা জানায়, ৯ম শ্রেনীতে উঠে মাত্র আড়াই মাসের মত ক্লাস করেছি। দশম শ্রেনীর অধিকাংশ সময়ই স্কুল বন্ধ ছিল। বর্তমানে যদিও খুলেছে আমাদের লেখাপড়ার গতিটা একটু হলেও তো কমেছে। আমি আশা করছি স্কুল যদি আর বন্ধ না হয় তাহলে সামনে আমার এসএসসি পরীক্ষা প্রস্তুতি ভালভাবে নিতে পারবো। আমি পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে চাই। নিজের মেধার মূল্যায়ন করতে চাই।
এদিকে জেলা প্রশাসক মো. জহুরুল ইসলাম ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন আখতার সহ শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন।