শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

জাল নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো চক্রটি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৫৯ Time View

বনলতা ডেস্ক.

ভুঁইফোড় কোম্পানী খুলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। চাকরি প্রার্থীদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো তারা।

চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, চাকরি প্রার্থীদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে কোটি টাকা হাতানো চক্রের দুই হোতাকে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড নামে একটি ভুঁইফোড় কোম্পানীর চেয়ারম্যান আল আমিন (চেয়ারম্যান আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড) ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হারুনর রশীদ বাদল।

তিনি আরো বলেন, রাজধানীর ভাটারা এলাকার পুরাতন ২৪৭০, মাদানী এভিনিউ, ২য় তলায় আসামিদের পরিচালিত আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড ভূয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র পরস্পর যোগসাজশে ভুঁইফোড় কোম্পানী খুলে। এখানে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের জাল নিয়োগপত্র দেয়। এই নিয়োগপত্র দিয়ে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্নসাৎ করে আসছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চাকরি নিয়োগ সংক্রান্তে কোন বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, স্কুলের দপ্তরি জাতীয় চাকরিতে সরকারিভাবে কোন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় না, যে সকল চাকরিতে তারা ভুয়া নিয়োগ দেয়। কারন কেন্দ্রীয় ভাবে যে সকল বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেগুলো তো সবাই জানেন। এ সকল চাকরিতে প্রার্থী সাধারণত স্থানীয় এমপি ও স্কুলের সভাপতিরা নিয়ে থাকেন। এ সকল চাকরিতে তারা ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে নিয়োগপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর নকল করতো প্রতারক চক্রটি। ভিকটিমরা এই নিয়োগপত্র নিয়ে যখন নিয়োগ স্থলে যোগাযোগ করেন, তখন জানতে পারেন এটা ভুয়া। এরকম ৫০ জনের বেশি ভিকটিম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা অভাবের তাড়না ও বেকারত্ব থেকে এদের কাছে গিয়ে প্রতারিত হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ইমেক্স ম্যানপাওয়ার রিক্রুইটিং এজেন্সী বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২৪টি ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের আবেদন ফরম, চাকরি প্রার্থীদের নিবন্ধন ফরম, চাকরি প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্তসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ও পলাতক আসামিসহ মোট ৫ জন আসামিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা হয়েছে।

Tag :
Popular Post

জাল নিয়োগ দিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো চক্রটি

Update Time : ০৬:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

বনলতা ডেস্ক.

ভুঁইফোড় কোম্পানী খুলে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। চাকরি প্রার্থীদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলো তারা।

চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণা চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঢাকা মেট্রোর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ইমাম হোসেন। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি প্রধান কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, চাকরি প্রার্থীদের জাল নিয়োগপত্র দিয়ে কোটি টাকা হাতানো চক্রের দুই হোতাকে বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড নামে একটি ভুঁইফোড় কোম্পানীর চেয়ারম্যান আল আমিন (চেয়ারম্যান আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড) ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর হারুনর রশীদ বাদল।

তিনি আরো বলেন, রাজধানীর ভাটারা এলাকার পুরাতন ২৪৭০, মাদানী এভিনিউ, ২য় তলায় আসামিদের পরিচালিত আস্থা গেটওয়ে লিমিটেড ভূয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র পরস্পর যোগসাজশে ভুঁইফোড় কোম্পানী খুলে। এখানে সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের জাল নিয়োগপত্র দেয়। এই নিয়োগপত্র দিয়ে তাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্নসাৎ করে আসছে। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা চাকরি নিয়োগ সংক্রান্তে কোন বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।

অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, স্কুলের দপ্তরি জাতীয় চাকরিতে সরকারিভাবে কোন বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয় না, যে সকল চাকরিতে তারা ভুয়া নিয়োগ দেয়। কারন কেন্দ্রীয় ভাবে যে সকল বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়, সেগুলো তো সবাই জানেন। এ সকল চাকরিতে প্রার্থী সাধারণত স্থানীয় এমপি ও স্কুলের সভাপতিরা নিয়ে থাকেন। এ সকল চাকরিতে তারা ভূয়া নিয়োগপত্র দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে নিয়োগপত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর নকল করতো প্রতারক চক্রটি। ভিকটিমরা এই নিয়োগপত্র নিয়ে যখন নিয়োগ স্থলে যোগাযোগ করেন, তখন জানতে পারেন এটা ভুয়া। এরকম ৫০ জনের বেশি ভিকটিম আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা অভাবের তাড়না ও বেকারত্ব থেকে এদের কাছে গিয়ে প্রতারিত হয়।

গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে ইমেক্স ম্যানপাওয়ার রিক্রুইটিং এজেন্সী বাংলাদেশ লিমিটেড এর ২৪টি ভুয়া নিয়োগপত্র, বিভিন্ন চাকরি প্রার্থীদের আবেদন ফরম, চাকরি প্রার্থীদের নিবন্ধন ফরম, চাকরি প্রার্থীদের জীবন বৃত্তান্তসহ বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামি ও পলাতক আসামিসহ মোট ৫ জন আসামিদের বিরুদ্ধে ভাটারা থানায় মামলা হয়েছে।