শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৪২ Time View

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি.
ভূমি অফিসের সরকারী জায়গা জবরদখলকারী ব্যবসায়ীদের ২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা তহশীল অফিস এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা এ অভিযান চালান।

অভিযানকালে গজঘন্টা তহশীল অফিসের দক্ষিণ প্রাচীর সংলগ্ন ১৬টি বিভিন্ন পণ্যের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় প্রাচীরের পশ্চিম পাশের ১৫ টি দোকানের মধ্যে ৬টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অপর ৯ টি দোকানের মধ্যে ৭টি দোকান গজঘন্টা বাজার জামে মসজিদ কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

সে সাথে অপর ২টি দোকান পরিচালনা করছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা আলী হোসেন। তিনি ওই ২টি দোকানঘর নির্মান করে ভাড়া প্রদান করেছেন স্থানীয় ২ ব্যবসায়ী কাছে। এরা হলেন হলেন মুদি দোকানী লেবু মিয়া ও চা-পান দোকানী রব্বানী। এ সময় মুদি দোকানী লেবু মিয়া জানান, তিনি আলী হোসেনের কাছ থেকে ওই দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। এজন্য তিনি প্রতি মাসে দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ খরচসহ ৮০০ টাকা আলী হোসেনকে ভাড়া প্রদান করেন। দোকানী রব্বানীকে ওই সময় খুজে পাওয়া যায় নি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া (৫৫), মকচুদার রহমান (৪০), বাদশা মিয়া (৫৫),সুরুজ মিয়া (৩২)সহ অনেকে জানান, গজঘন্টা ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আজিজুল ইসলাম, হাটের ইজারাদার ও বিগত তহশীলদাররাই গোপন লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে দোকানগুলো স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তারা আরো জানান, আলী ডেকোরেটর এন্ড মাইক সার্ভিসের মালিক আলী হোসেন প্রভাবশালী ও স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা হওয়ায় তিনিও এখানে জবরদখল করে ঘর উত্তোলন করে ভাড়া দিয়েছেন। যা আজ উচ্ছেদ করা হলো না।
আলী হোসেনের দোকান বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে ওই দোকানগুলো মসজিদ পরিচালিত। পরে তিনি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে আলীর দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

গজঘন্টা ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আজিজুল ইসলাম জানান, দোকান নির্মানে কোন লেনদেনে আমি জড়িত নই। সামনে ইলেকশন, তাই আমার বিরোধী পক্ষরা বিভিন্ন অপবাদ রটাবে এটাই স্বাভাবিক।

Tag :
Popular Post

গঙ্গাচড়ায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

Update Time : ০৬:১৯:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি.
ভূমি অফিসের সরকারী জায়গা জবরদখলকারী ব্যবসায়ীদের ২২টি স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘন্টা তহশীল অফিস এলাকায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা এ অভিযান চালান।

অভিযানকালে গজঘন্টা তহশীল অফিসের দক্ষিণ প্রাচীর সংলগ্ন ১৬টি বিভিন্ন পণ্যের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় প্রাচীরের পশ্চিম পাশের ১৫ টি দোকানের মধ্যে ৬টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। অপর ৯ টি দোকানের মধ্যে ৭টি দোকান গজঘন্টা বাজার জামে মসজিদ কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে।

সে সাথে অপর ২টি দোকান পরিচালনা করছেন স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা আলী হোসেন। তিনি ওই ২টি দোকানঘর নির্মান করে ভাড়া প্রদান করেছেন স্থানীয় ২ ব্যবসায়ী কাছে। এরা হলেন হলেন মুদি দোকানী লেবু মিয়া ও চা-পান দোকানী রব্বানী। এ সময় মুদি দোকানী লেবু মিয়া জানান, তিনি আলী হোসেনের কাছ থেকে ওই দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। এজন্য তিনি প্রতি মাসে দোকানভাড়া ও বিদ্যুৎ খরচসহ ৮০০ টাকা আলী হোসেনকে ভাড়া প্রদান করেন। দোকানী রব্বানীকে ওই সময় খুজে পাওয়া যায় নি।

স্থানীয় বাসিন্দা দুলাল মিয়া (৫৫), মকচুদার রহমান (৪০), বাদশা মিয়া (৫৫),সুরুজ মিয়া (৩২)সহ অনেকে জানান, গজঘন্টা ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আজিজুল ইসলাম, হাটের ইজারাদার ও বিগত তহশীলদাররাই গোপন লেনদেনের মাধ্যমে অবৈধভাবে দোকানগুলো স্থাপনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তারা আরো জানান, আলী ডেকোরেটর এন্ড মাইক সার্ভিসের মালিক আলী হোসেন প্রভাবশালী ও স্থানীয় জাতীয় পার্টির নেতা হওয়ায় তিনিও এখানে জবরদখল করে ঘর উত্তোলন করে ভাড়া দিয়েছেন। যা আজ উচ্ছেদ করা হলো না।
আলী হোসেনের দোকান বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নয়ন কুমার সাহা বলেন, আমাকে জানানো হয়েছে ওই দোকানগুলো মসজিদ পরিচালিত। পরে তিনি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে আলীর দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করেন।

গজঘন্টা ইউপি চেয়ারম্যান ডা. আজিজুল ইসলাম জানান, দোকান নির্মানে কোন লেনদেনে আমি জড়িত নই। সামনে ইলেকশন, তাই আমার বিরোধী পক্ষরা বিভিন্ন অপবাদ রটাবে এটাই স্বাভাবিক।