বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাগানমালিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন ইউএনও

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১
  • ৩০ Time View

 ক্ষেতলাল ( জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ

পেশায় একজন বাগানমালি। কাজ করেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে। সেই বাগানমালি মানিক চন্দ্র (৫৫) কে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন ক্ষেতলাল উপজেলার বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এ এফ এম আবু সুফিয়ান। এমন দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন শেষ বিদায় লগ্নে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সেই দৃশ্যটির ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয় এবং অশ্রুশিক্ত হন অনেকেই ।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় এ এফ এম আবু সুফিয়ান প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে গত বছর ২২জুন যোগদান করেন । স্কলারশিপ পেয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনে ইংল্যান্ড গমন করবেন সস্ত্রীক। সেজন্য ১ বছর ২ মাস ২৫ দিন দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি। গত শুক্রবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) ক্ষেতলাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল উপজেলা পরিষদের পক্ষে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম আবু সুফিয়ানকে। তাঁর সহধর্মিণী আয়েশা আক্তার জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার ( ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৮ টায় সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাচ্ছিলেন। এমন বিদায় লগ্নে উপস্থিত ছিলেন, বাগানমালি, আনসার সদস্য, গাড়ীচালকসহ উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সাধারণ জনগন।

তিনি গাড়ীতে ওঠার পূর্ব মূহুর্তে উপস্থিত বাসভবনের বাগানমালি মানিক চন্দ্র ( ৫৬) কে বুকে জড়িয়ে ধরে উপস্থিত সকলের সামনে এবং কেঁদে ফেলেন উভয়ই। কেঁদে ফেলেন গাড়ী চালক হেলাল, স্বপন এবং মোস্তফা। বিগত ২০ বছরেও এমন ইউএনও দেখেনি উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অভিব্যক্তি প্রকাশ অনেকেরই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ইউএনও দুই একজন দেখেছি। তবে তিনিই সর্বসেরা। আমি তাঁর ব্যবহার ও কর্মগুনে মুগ্ধ হয়েছি।

অভিব্যক্তি প্রকাশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল বলেন, আমি অনেক ইউএনও দেখেছি তবে এমন ইউএনও আগে দেখিনি। শুধু কাজে নয় ব্যবহারেও মুগ্ধ আমিসহ আমার উপজেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আমার বিশ্বাস তিনি এই ব্যবহার ও কর্মগুনেই একদিন প্রজাতন্ত্রের অনেক বড় কর্মচারী হবেন।

Tag :
Popular Post

বাগানমালিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন ইউএনও

Update Time : ০১:৩৩:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

 ক্ষেতলাল ( জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ

পেশায় একজন বাগানমালি। কাজ করেন ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে। সেই বাগানমালি মানিক চন্দ্র (৫৫) কে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন ক্ষেতলাল উপজেলার বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) এ এফ এম আবু সুফিয়ান। এমন দৃশ্য দেখে কেঁদে ফেলেন শেষ বিদায় লগ্নে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী। সেই দৃশ্যটির ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয় এবং অশ্রুশিক্ত হন অনেকেই ।

জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলায় এ এফ এম আবু সুফিয়ান প্রথম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে গত বছর ২২জুন যোগদান করেন । স্কলারশিপ পেয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনে ইংল্যান্ড গমন করবেন সস্ত্রীক। সেজন্য ১ বছর ২ মাস ২৫ দিন দায়িত্ব পালন শেষে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি। গত শুক্রবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) ক্ষেতলাল উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল উপজেলা পরিষদের পক্ষে বর্ণাঢ্য বিদায়ী সংবর্ধনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম আবু সুফিয়ানকে। তাঁর সহধর্মিণী আয়েশা আক্তার জয়পুরহাট সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার ( ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

গতকাল রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ৮ টায় সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাচ্ছিলেন। এমন বিদায় লগ্নে উপস্থিত ছিলেন, বাগানমালি, আনসার সদস্য, গাড়ীচালকসহ উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং সাধারণ জনগন।

তিনি গাড়ীতে ওঠার পূর্ব মূহুর্তে উপস্থিত বাসভবনের বাগানমালি মানিক চন্দ্র ( ৫৬) কে বুকে জড়িয়ে ধরে উপস্থিত সকলের সামনে এবং কেঁদে ফেলেন উভয়ই। কেঁদে ফেলেন গাড়ী চালক হেলাল, স্বপন এবং মোস্তফা। বিগত ২০ বছরেও এমন ইউএনও দেখেনি উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা, কর্মচারী, সুশীল সমাজ, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। অভিব্যক্তি প্রকাশ অনেকেরই।

উপজেলা আওয়ামী লীগের (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি আব্দুল মজিদ মোল্লা বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ইউএনও দুই একজন দেখেছি। তবে তিনিই সর্বসেরা। আমি তাঁর ব্যবহার ও কর্মগুনে মুগ্ধ হয়েছি।

অভিব্যক্তি প্রকাশ করে উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাকিম মন্ডল বলেন, আমি অনেক ইউএনও দেখেছি তবে এমন ইউএনও আগে দেখিনি। শুধু কাজে নয় ব্যবহারেও মুগ্ধ আমিসহ আমার উপজেলায় কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী। আমার বিশ্বাস তিনি এই ব্যবহার ও কর্মগুনেই একদিন প্রজাতন্ত্রের অনেক বড় কর্মচারী হবেন।