শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১১ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

বাঘায় দুর্গা উৎসবে মেতেছে হিন্দু সম্প্রদায়, প্রতিমার রঙ তুলির কাজে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অক্টোবর ২০২১
  • ২২ Time View

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি .
করোনা মহামারির কারনে গত বছর উৎসব তেমন জমে উঠেনি। এবছর প্রাণঘাতি করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে হিন্দু সম্প্রদায়। আর মাত্র কয়েকটা দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় উৎসব এখন ঘরে ঘরে। সোনার গহনা ও পরিধেয় বস্ত্র কেনা কাটা ছাড়াও নাড়– তৈরি থেকে শুরু করে মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরাও। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, গত বছর উপজেলায় মোট মোট ৩৯ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবছর ৫টি বেড়ে মোট ৪৪ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে পাঁচ দিনের উৎসব শেষ হবে আগামী ১৫ই অক্টোবর। ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১১ই অক্টোবর। এদিন মন্ডপ থেকে মন্ডপে বেজে ওঠবে ঢাকঢোলের বাজনা আর কাঁসার করুণ সুর।

বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী আনন্দ মালাকার (৬০)। মাটির কাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ করেছেন। সেখানে চলছিল রঙ তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমার রূপ যৌবনা ফিরিয়ে আনার কাজ। আনন্দ মালাকার বলেন, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন। তার বাবা-দাদাও প্রতিমা তৈরি করতেন। এবছর তিনি ৩৫ টি প্রতিমা তৈরির বায়না (অগ্রিম টাকা) নিয়েছেন। আড়ানি পৌর এলাকার আরেক প্রতিমা শিল্পী মিলন পাল (৪৮) বলেন, নদী থেকে কাদা মাটি কিনে এনে প্রতিমা তৈরি করতে হয়। তারপর কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে পাঁচ দিন। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওযায় প্রতিমা সেট বিক্রি করে তেমন লাভ হচ্ছে না। প্রকারভেদে প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

গত কয়েকদিন বৃষ্টি এবং মেঘলা আবহাওয়ার জন্য প্রতিমা শুকাতে না পেরে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তারা। প্রতিমা শিল্পীরা জানান, গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে। যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাঘা শাখার সভাপতি সুজিত কুমার পান্ডে বাকু বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারির কারনে গত বছর তেমন কোন উৎসব ছিলনা। গত বছরের চেয়ে ৫টি মন্ডপে পূজা বেড়ে এ বছর উপজেলার ৪৪টি মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকল মন্ডপে সর্বাধিক সহযোগিতা করা হবে। তবে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছর সরকারি সহযোগিতাসহ এলাকাবাসির আন্তরিকতায় আসন্ন দুর্গা উৎসব আরো সুন্দর করার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাঘা শাখার সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মাস্ক পড়ার কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উৎসবে যোগ দিতে সকল মন্দির কমিটির নেতাদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামি ৩ অক্টোবর পুলিশ সুপারের মিটিং এর পরে প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ-আনসার নিযুক্তির সিদ্ধান্ত জানা যাবে। ##

Tag :
Popular Post

বাঘায় দুর্গা উৎসবে মেতেছে হিন্দু সম্প্রদায়, প্রতিমার রঙ তুলির কাজে ব্যস্ত মৃৎ শিল্পীরা

Update Time : ১২:৪৮:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ অক্টোবর ২০২১

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি .
করোনা মহামারির কারনে গত বছর উৎসব তেমন জমে উঠেনি। এবছর প্রাণঘাতি করোনার প্রাদুর্ভাব কমে যাওয়ায় আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেছে হিন্দু সম্প্রদায়। আর মাত্র কয়েকটা দিন পর শুরু হতে যাচ্ছে হিন্দু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবী দুর্গার আগমনী বার্তায় উৎসব এখন ঘরে ঘরে। সোনার গহনা ও পরিধেয় বস্ত্র কেনা কাটা ছাড়াও নাড়– তৈরি থেকে শুরু করে মূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎ শিল্পীরাও। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানান, গত বছর উপজেলায় মোট মোট ৩৯ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবছর ৫টি বেড়ে মোট ৪৪ টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যে দিয়ে পাঁচ দিনের উৎসব শেষ হবে আগামী ১৫ই অক্টোবর। ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১১ই অক্টোবর। এদিন মন্ডপ থেকে মন্ডপে বেজে ওঠবে ঢাকঢোলের বাজনা আর কাঁসার করুণ সুর।

বাঘা উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পী আনন্দ মালাকার (৬০)। মাটির কাঠামো নির্মাণের মূল কাজ ইতিমধ্যে প্রায় শেষ করেছেন। সেখানে চলছিল রঙ তুলির ছোঁয়ায় প্রতিমার রূপ যৌবনা ফিরিয়ে আনার কাজ। আনন্দ মালাকার বলেন, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন। তার বাবা-দাদাও প্রতিমা তৈরি করতেন। এবছর তিনি ৩৫ টি প্রতিমা তৈরির বায়না (অগ্রিম টাকা) নিয়েছেন। আড়ানি পৌর এলাকার আরেক প্রতিমা শিল্পী মিলন পাল (৪৮) বলেন, নদী থেকে কাদা মাটি কিনে এনে প্রতিমা তৈরি করতে হয়। তারপর কাঠ, সুতা, খড়, রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট প্রতিমা তৈরি করতে সময় লাগে পাঁচ দিন। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওযায় প্রতিমা সেট বিক্রি করে তেমন লাভ হচ্ছে না। প্রকারভেদে প্রতি সেট প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

গত কয়েকদিন বৃষ্টি এবং মেঘলা আবহাওয়ার জন্য প্রতিমা শুকাতে না পেরে চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন তারা। প্রতিমা শিল্পীরা জানান, গত বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতি হয়েছে। যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাঘা শাখার সভাপতি সুজিত কুমার পান্ডে বাকু বলেন, করোনা ভাইরাসের মহামারির কারনে গত বছর তেমন কোন উৎসব ছিলনা। গত বছরের চেয়ে ৫টি মন্ডপে পূজা বেড়ে এ বছর উপজেলার ৪৪টি মন্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে সকল মন্ডপে সর্বাধিক সহযোগিতা করা হবে। তবে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবছর সরকারি সহযোগিতাসহ এলাকাবাসির আন্তরিকতায় আসন্ন দুর্গা উৎসব আরো সুন্দর করার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বাঘা শাখার সাধারন সম্পাদক অপূর্ব কুমার সাহা বলেন, করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মাস্ক পড়ার কোন বিকল্প নেই। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উৎসবে যোগ দিতে সকল মন্দির কমিটির নেতাদের দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, সকল ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলার প্রতিটি মন্দিরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আগামি ৩ অক্টোবর পুলিশ সুপারের মিটিং এর পরে প্রতিটি মন্দিরে পুলিশ-আনসার নিযুক্তির সিদ্ধান্ত জানা যাবে। ##