রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

চলনবিলে অবাধে চলছে পাখি শিকার!

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অক্টোবর ২০২১
  • ৩০৭ Time View

মোঃ মাজেম আলী মলিন .

চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে পাখি নিধন চলছে। শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারিরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করছেন। এতে করে একদিকে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণও বাড়ছে।

পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার নয়টি উপজেলার সমন্বয়ে চলনবিল অঞ্চল বিস্তৃত। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ১৪টি নদী ও ২২টি ছোট-বড় বিল। নিম্ন জলাভূমিতে এ মৌসুমে পানি শুকিয়ে আসায় ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও বিদেশী অতিথি পাখি এসে ভিড় জমায়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,গুরুদাসপুর, সিংড়া, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ও আত্রাই উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকাসহ হাট বাজার ও বাসায় গিয়ে পাখি কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকাতে শিকারিদের আনাগোনাও বেশি। আর এসব দুর্গম এলাকাতে প্রশাসনের কোনো লোকজনও তেমন আসেন না।

গুরুদাসপুর উপজেলার জীব ও বৈচিত্র রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতাহার আলী জানান, অল্প পানিতে খাবার সংগ্রহের জন্য এ বছরও চলনবিলে দেশি ও অতিথি পাখি এসেছে। সেই সঙ্গে প্রচুর মাছও দেখা যাচ্ছে। ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে চখাচখি, পানকৌড়ি, বক, হরিয়াল, হারগিলা, রাতচোরা, বালিহাঁস, ইটালী, শর্লি, পেঁয়াজ খেকো, ত্রিশূল, বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাঁদোখোচা, ফেফি, ডাহুক, গোয়াল, শামুখখোলা, হুটটিটি, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি বসতে শুর করেছে। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারি বন্দুক, বিষটোপ, কারেন্ট জাল ও ফাঁদ পেতে প্রতিনিয়ত পাখি শিকার করছে। প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।

নাম প্রকাশে অনিছুক একজন পেশাদার পাখি শিকারি বলেন, বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই কোনো মতে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে সমস্যা হয় না। প্রতি জোড়া পাখি প্রজাতি ভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। ফলে বেশি লাভের আসায় অনেকেই মাছ ধরা বাদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন।

এ বিষয়ে দি বার্ড সেপটি হাউস চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, পাখি শিকার জীববৈচিত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং এটি দন্ডনীয় অপরাধ। শুধু পাখি নয়, বন্য প্রাণী রক্ষায় যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।

Tag :
Popular Post

চলনবিলে অবাধে চলছে পাখি শিকার!

Update Time : ০৫:৫১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ অক্টোবর ২০২১

মোঃ মাজেম আলী মলিন .

চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে পাখি নিধন চলছে। শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারিরা বন্দুক, বিষটোপ, জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে এসব পাখি শিকার করছেন। এতে করে একদিকে জীববৈচিত্র নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে ফসলি জমিতে ক্ষতিকর পোকার আক্রমণও বাড়ছে।

পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার নয়টি উপজেলার সমন্বয়ে চলনবিল অঞ্চল বিস্তৃত। চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ১৪টি নদী ও ২২টি ছোট-বড় বিল। নিম্ন জলাভূমিতে এ মৌসুমে পানি শুকিয়ে আসায় ঝাঁকে ঝাঁকে বিভিন্ন প্রজাতির দেশি ও বিদেশী অতিথি পাখি এসে ভিড় জমায়।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়,গুরুদাসপুর, সিংড়া, তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ও আত্রাই উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকাসহ হাট বাজার ও বাসায় গিয়ে পাখি কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে ওইসব এলাকাতে শিকারিদের আনাগোনাও বেশি। আর এসব দুর্গম এলাকাতে প্রশাসনের কোনো লোকজনও তেমন আসেন না।

গুরুদাসপুর উপজেলার জীব ও বৈচিত্র রক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতাহার আলী জানান, অল্প পানিতে খাবার সংগ্রহের জন্য এ বছরও চলনবিলে দেশি ও অতিথি পাখি এসেছে। সেই সঙ্গে প্রচুর মাছও দেখা যাচ্ছে। ফলে ঝাঁকে ঝাঁকে চখাচখি, পানকৌড়ি, বক, হরিয়াল, হারগিলা, রাতচোরা, বালিহাঁস, ইটালী, শর্লি, পেঁয়াজ খেকো, ত্রিশূল, বাটুইলা, নারুলিয়া, লালস্বর, কাঁদোখোচা, ফেফি, ডাহুক, গোয়াল, শামুখখোলা, হুটটিটি, ঘুঘুসহ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি বসতে শুর করেছে। আর এ সুযোগে এক শ্রেণির শৌখিন ও পেশাদার পাখি শিকারি বন্দুক, বিষটোপ, কারেন্ট জাল ও ফাঁদ পেতে প্রতিনিয়ত পাখি শিকার করছে। প্রকাশ্যে এসব পাখি বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।

নাম প্রকাশে অনিছুক একজন পেশাদার পাখি শিকারি বলেন, বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই কোনো মতে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে সমস্যা হয় না। প্রতি জোড়া পাখি প্রজাতি ভেদে ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়। ফলে বেশি লাভের আসায় অনেকেই মাছ ধরা বাদ দিয়ে পাখি শিকার করছেন।

এ বিষয়ে দি বার্ড সেপটি হাউস চেয়ারম্যান মামুন বিশ্বাস বলেন, পাখি শিকার জীববৈচিত্রের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং এটি দন্ডনীয় অপরাধ। শুধু পাখি নয়, বন্য প্রাণী রক্ষায় যে যার অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে হবে।