বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কাঁশবনে প্রেমিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ – প্রেমিকসহ আটক দুই

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • ২৯ Time View

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
প্রেমিকের সাথে নিজের অন্তরঙ্গ ছবি মুছে ফেলতে গিয়ে পাশবিকতার শিকার হয়েছে এক কিশোরী। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের কাঁশবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুব মিয়া (২১) ও পলাশ মিয়া(২০) নামে দুই বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে ফুলছড়ি থানা পুলিশ। আটক মাহবুব সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকার রসুল হাওলাদারের ছেলে এবং পলাশ একই এলাকার সাখাওয়াত হাওলাদার এর ছেলে। শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকায় বোনের বাড়ি হওয়ার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতো গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোডের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই কিশোরী(১৫)। সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকার পিকআপ ভ্যানের হেলপার মাহবুব হোসেন নামের এক বখাটের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরীর। সম্পর্কের কারনে একদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চায় মাহাবুব। এক পর্যায়ে মাহবুব কিশোরির কিছু অশ্লীল ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। এই অবস্থায় মাহবুব কিশোরির অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ভয় দেখায়।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। গত শুক্রবার দুপুরে মাহবুব তার বন্ধু পলাশকে নিয়ে গাইবান্ধা শহরে গিয়ে কিশোরির সঙ্গে দেখা করে। তারা কিশোরিকে তাদের অন্তরঙ্গ ছবিগুলো মুছে ফেলাসহ বিয়ের প্রলোভন দেখায়। পরে বখাটে মাহবুব ও তার বন্ধু পলাশ ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে নিয়ে গাইবান্ধা শহরের বড় মসজিদের সামনে থেকে (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রিকসা যোগে প্রথমে বাদিয়াখালি ও পরে ফুলছড়ি ঘাটে আসে। সেখান থেকে তারা নৌকাযোগে কিশোরিকে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে কাঁশবনে নিয়ে যায়। এখানে প্রথমে মাহবুব মিয়া ও পরে পলাশ মিয়া পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় দুইবন্ধু একে অপরের ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। এরপর ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বললে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তারা সটকে পড়ে।

পরে অসুস্থ কিশোরি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গাইবান্ধা শহরের বাসায় পৌঁছে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। কিশোরির মা স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে গাইবান্ধা সহকারি পুলিশ সুপারকে জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে আজ শনিবার বিকেলে ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই কিশোরকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে এই মামলা হয়। এদিকে আটককৃত দুই কিশোর ভিডিও করে কিশোরিকে ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, অসুস্থ কিশোরি ও তার মাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

Tag :
Popular Post

কাঁশবনে প্রেমিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ – প্রেমিকসহ আটক দুই

Update Time : ১০:৪৯:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ
প্রেমিকের সাথে নিজের অন্তরঙ্গ ছবি মুছে ফেলতে গিয়ে পাশবিকতার শিকার হয়েছে এক কিশোরী। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের কাঁশবনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাহবুব মিয়া (২১) ও পলাশ মিয়া(২০) নামে দুই বখাটে যুবককে গ্রেফতার করেছে ফুলছড়ি থানা পুলিশ। আটক মাহবুব সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকার রসুল হাওলাদারের ছেলে এবং পলাশ একই এলাকার সাখাওয়াত হাওলাদার এর ছেলে। শনিবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার সকালে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কিশোরিকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকায় বোনের বাড়ি হওয়ার সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতো গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোডের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ওই কিশোরী(১৫)। সাঘাটা উপজেলার ভাঙ্গা মোড় এলাকার পিকআপ ভ্যানের হেলপার মাহবুব হোসেন নামের এক বখাটের সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরীর। সম্পর্কের কারনে একদিন জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চায় মাহাবুব। এক পর্যায়ে মাহবুব কিশোরির কিছু অশ্লীল ছবি মুঠোফোনে ধারণ করে। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। এই অবস্থায় মাহবুব কিশোরির অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করার ভয় দেখায়।

ঘটনা এখানেই শেষ নয়। গত শুক্রবার দুপুরে মাহবুব তার বন্ধু পলাশকে নিয়ে গাইবান্ধা শহরে গিয়ে কিশোরির সঙ্গে দেখা করে। তারা কিশোরিকে তাদের অন্তরঙ্গ ছবিগুলো মুছে ফেলাসহ বিয়ের প্রলোভন দেখায়। পরে বখাটে মাহবুব ও তার বন্ধু পলাশ ভুক্তভোগী ওই কিশোরীকে নিয়ে গাইবান্ধা শহরের বড় মসজিদের সামনে থেকে (১৫ অক্টোবর) দুপুরে রিকসা যোগে প্রথমে বাদিয়াখালি ও পরে ফুলছড়ি ঘাটে আসে। সেখান থেকে তারা নৌকাযোগে কিশোরিকে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপারে কাঁশবনে নিয়ে যায়। এখানে প্রথমে মাহবুব মিয়া ও পরে পলাশ মিয়া পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় দুইবন্ধু একে অপরের ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে। এরপর ধর্ষণের ঘটনা কাউকে বললে ভিডিও ভাইরাল করার হুমকি দিয়ে তারা সটকে পড়ে।

পরে অসুস্থ কিশোরি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গাইবান্ধা শহরের বাসায় পৌঁছে তার মাকে ঘটনাটি জানায়। কিশোরির মা স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে গাইবান্ধা সহকারি পুলিশ সুপারকে জানান। ওই পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে আজ শনিবার বিকেলে ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলীর নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই কিশোরকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে দুই কিশোরকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। ধর্ষন ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগে এই মামলা হয়। এদিকে আটককৃত দুই কিশোর ভিডিও করে কিশোরিকে ধর্ষণের বিষয়টি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে বলে নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি থানার ওসি কাওছার আলী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, অসুস্থ কিশোরি ও তার মাকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।