বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

৪০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মিনতি ফিরো পেল তার স্বজনদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১
  • ৮৬ Time View

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
৬ বছরের শিশু মিনতি এখন ৪৭ বছরের মহিলা। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে মাত্র ৬ বছর বয়সে হারিয়ে যায় শিশু মিনতি। ৪০ বছর পরে শাহরুখ হোসেন নয়ন নামের এক তরুনের উদ্যোগে খুজে পেলো তার পরিবার-পরিজন।

রবিবার দুপুরে মিনতির নিজ গ্রাম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামে মিনতিকে বাবা-মা স্বজনদের হাতে তুলে দেন শাহরুখ হোসেন নয়ন। মিনতি রানীগ্রাম এলাকার মো.বাছের আলীর হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। নিজের আপন ঠিকানা মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেক আপ্লুত হয়ে পরেন মিনতি ও তার পরিবারের লোকজন।

পরিবারিক সূত্রে জানাযায়, মিনতিরা চার ভাই-বোন ছিলেন। তার মধ্যে মিনতিই ছোট। মিনতির বছর বয়স যখন ৬ তখন তার চাচাতো বোন জামাইয়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে দুলাভাইয়ের সাথে ঘুরা ঘুরির এক পর্যায়ে স্টেশনে হঠাৎ হারিয়ে যায় মিনতি। অনেক খোঁজা খুঁজির পর মিনতিকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তার দুলাভাই। তারা ধরেই নিয়েছিলেন মিনতিকে আর পাবে না তারা। অবশেষে ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে মিনতি কাঁদতে থাকলে সেখানকার মসলেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানেই বড় হয় মিনতি। মিনতি বড় হওয়ার পরে তাকে গাজিপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বুরহান উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তার চার মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মিনতি এক মেয়ে বাসায় থাকেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিজেদের হারানো স্বজনকে খুঁজে পেয়ে আবেক আপ্লুত পরিবারের সবাই। পরিবারের লোকজন সন্ধান দাতা নয়নকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

Tag :
Popular Post

৪০ বছর আগে হারিয়ে যাওয়া মিনতি ফিরো পেল তার স্বজনদের

Update Time : ০৮:০৮:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২১

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
৬ বছরের শিশু মিনতি এখন ৪৭ বছরের মহিলা। আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে মাত্র ৬ বছর বয়সে হারিয়ে যায় শিশু মিনতি। ৪০ বছর পরে শাহরুখ হোসেন নয়ন নামের এক তরুনের উদ্যোগে খুজে পেলো তার পরিবার-পরিজন।

রবিবার দুপুরে মিনতির নিজ গ্রাম নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের রানীগ্রামে মিনতিকে বাবা-মা স্বজনদের হাতে তুলে দেন শাহরুখ হোসেন নয়ন। মিনতি রানীগ্রাম এলাকার মো.বাছের আলীর হারিয়ে যাওয়া মেয়ে। নিজের আপন ঠিকানা মা-বাবা ও স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেক আপ্লুত হয়ে পরেন মিনতি ও তার পরিবারের লোকজন।

পরিবারিক সূত্রে জানাযায়, মিনতিরা চার ভাই-বোন ছিলেন। তার মধ্যে মিনতিই ছোট। মিনতির বছর বয়স যখন ৬ তখন তার চাচাতো বোন জামাইয়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে বেড়াতে যায়। সেখানে দুলাভাইয়ের সাথে ঘুরা ঘুরির এক পর্যায়ে স্টেশনে হঠাৎ হারিয়ে যায় মিনতি। অনেক খোঁজা খুঁজির পর মিনতিকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন তার দুলাভাই। তারা ধরেই নিয়েছিলেন মিনতিকে আর পাবে না তারা। অবশেষে ফিরে পাবার আশা ছেড়ে দেন।

ঘটনার এক পর্যায়ে মিনতি কাঁদতে থাকলে সেখানকার মসলেম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি তাকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানেই বড় হয় মিনতি। মিনতি বড় হওয়ার পরে তাকে গাজিপুরের শ্রীপুর এলাকার ব্যবসায়ী বুরহান উদ্দিনের সাথে বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের পর তার চার মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন মিনতি এক মেয়ে বাসায় থাকেন। দীর্ঘ ৪০ বছর পর নিজেদের হারানো স্বজনকে খুঁজে পেয়ে আবেক আপ্লুত পরিবারের সবাই। পরিবারের লোকজন সন্ধান দাতা নয়নকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।