সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৩ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই সহোদরের লড়াই

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১
  • ৯১ Time View

পঞ্চগড় প্রতিনিধি.
দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭ ইউপিতে দ্বিতীয় ধাপে ব্যালটের মাধ্যেমে আগামী ১১ই নভেম্বর ভোট গ্রহণ হবে। এ উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আপন দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক বড় ভাই মো. কামরুজ্জামান কামু এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আর ছোট ভাই মো. শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই ভাই নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। আপন দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে আবার এ নিয়ে নানা কথাও বলছেন। করছেন বিরূপ মন্তব্যও।
এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছে। ফলে কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি হননি। একই পরিবার থেকে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিপাকে পড়েছেন পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীরা।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক বড় ভাই মো. কামরুজ্জামান কামু বলেন, গত ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। গতবারও তিনি (মো. শেখ কামাল) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৬৩ ভোটে পরাজিত হন। আমি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর চাপে এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান। এবার বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী কামরুজ্জামান। ছোট ভাই প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনাই করেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী মো. শেখ কামাল বলেন, দলীয়ভাবে আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক কোন্দলের কারণে তিনি (কামরুজ্জামান কামু) প্রার্থী হতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন। দলীয় প্রতীক পাবো এবং আমি নির্বাচনে প্রার্থী হবো এ বিষয়টি আমি তার কর্মী সমর্থকদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এই ইউনিয়নের জনগণ আমার পাশে আছে। আমি আশাবাদি তারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করবে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন জানান, উপজেলার বুড়াবুৃড়ি ইউনিয়নে দুই ভাই ছাড়াও ৮ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে একজন আর ৫ জন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখানে মোট ভোটার ৯১২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬শথ এবং নারী ভোটার ৪ হাজার ৫২৬ জন। আগামী ১১ই নভেম্বর ব্যালটের মাধ্যমে এ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হবে।

Tag :
Popular Post

ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দুই সহোদরের লড়াই

Update Time : ০৬:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

পঞ্চগড় প্রতিনিধি.
দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ৭ ইউপিতে দ্বিতীয় ধাপে ব্যালটের মাধ্যেমে আগামী ১১ই নভেম্বর ভোট গ্রহণ হবে। এ উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আপন দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক বড় ভাই মো. কামরুজ্জামান কামু এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আর ছোট ভাই মো. শেখ কামাল আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দুই ভাই নির্বাচনে জয়লাভের ব্যাপারে আশাবাদী। আপন দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে আবার এ নিয়ে নানা কথাও বলছেন। করছেন বিরূপ মন্তব্যও।
এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা জানান, বেশ কিছুদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে পারিবারিক ঝগড়া-বিবাদ চলে আসছে। ফলে কেউই কাউকে ছাড় দিতে রাজি হননি। একই পরিবার থেকে দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিপাকে পড়েছেন পরিবারের লোকজন, আত্মীয়-স্বজনসহ পাড়া প্রতিবেশীরা।
ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ সমর্থক বড় ভাই মো. কামরুজ্জামান কামু বলেন, গত ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বুড়াবুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম। গতবারও তিনি (মো. শেখ কামাল) চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি মাত্র ৬৩ ভোটে পরাজিত হন। আমি এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে ছিলাম। দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর চাপে এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে জানান। এবার বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী কামরুজ্জামান। ছোট ভাই প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে পরিবারের কারো সঙ্গে আলোচনাই করেননি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অপরদিকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনীত প্রার্থী মো. শেখ কামাল বলেন, দলীয়ভাবে আমাকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। পারিবারিক কোন্দলের কারণে তিনি (কামরুজ্জামান কামু) প্রার্থী হতে পারেন বলে স্বীকার করেছেন। দলীয় প্রতীক পাবো এবং আমি নির্বাচনে প্রার্থী হবো এ বিষয়টি আমি তার কর্মী সমর্থকদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও তিনি প্রার্থী হয়েছেন। এই ইউনিয়নের জনগণ আমার পাশে আছে। আমি আশাবাদি তারা আমাকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করবে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলী হোসেন জানান, উপজেলার বুড়াবুৃড়ি ইউনিয়নে দুই ভাই ছাড়াও ৮ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একজন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে একজন আর ৫ জন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এখানে মোট ভোটার ৯১২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৪ হাজার ৬শথ এবং নারী ভোটার ৪ হাজার ৫২৬ জন। আগামী ১১ই নভেম্বর ব্যালটের মাধ্যমে এ ইউনিয়নে ভোটগ্রহণ করা হবে।