চলনবিলে অতিথি পাখি শিকার রোধে চলছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৪১ AM, ৩১ অক্টোবর ২০২১

প্রভাষক মোঃ মাজেম আলী মলিন.
চলনবিলে বেড়েছে অতিথি পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য।
নির্মমভাবে শিকার করা হচ্ছে অতিথি পাখি। এদিকে পাখি শিকার রোধে প্রশাসন, পরিবেশ কর্মী ও সচেতন মহল রয়েছেন সচেষ্ট । গত এক সপ্তাহে ৪ সহস্রাধিক বকসহ পরিজায়ী পাখিউদ্ধার করে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করেছেন চলনবিল অধুসিতগুরুদাসপুর,বড়াইগ্রাম,তাড়াশ ও সিংড়া উপজেলার সচেতন মহল প্রশাসন ও পাখি প্রেমীরা। চলনবিলের জীব বৈচিত্র রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন অবিরত।

শীতকাল এলেই রঙ-বেরঙের বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে ভরে ওঠে গোটা চলনবিল। তবে একশ্রেণির অসাধু চক্র অর্থের লোভে নির্মমভাবে শিকার করছে এসব অতিথি পাখি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ থাকা সত্ত্বেও চতুর শিকারীরা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গভীর রাত থেকে ভোর রাত পর্যন্ত কাদাযুক্ত পানিতে চলনবিলের প্রত্যান্ত এলাকায় সুকৌশলে চালান পাখি নিধনের এই কার্যক্রম। একারনে প্রতিবছর এই মৌসুমে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠ, নদী, পুকুর, খাল, ডোবা, নালায় উড়ে বেড়াচ্ছে অতিথি পাখির ঝাঁক। পাখির চঞ্চল উড়াউড়ি ও তাদের হাঁক-ডাকে সর্বদা মুখরিত থাকে বেশিরভাগ এলাকা। এসব পাখির মধ্যে রাত চরা, বালিহাঁস, শামুকখোল, নীলশির, লালশির, বড় সরালী, ছোট সরালী, সাদা বক, ধূসর বক, গো বক, ছোট পানকৌড়ি, বড় পানকৌড়ি, কাদা খোঁচা, ডাহুক, মাছরাঙ্গা ও সারস সহ নানা প্রজাতির দেশী বিদেশি পাখি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাখি শিকারি জানান, চলনবিল থেকে পানি নেমে যাওয়ার সময় জলাশয়গুলোতে পুঁটি, খলসে, দারকিনাসহ প্রচুর পরিমাণে ছোট মাছ ও কীট-পতঙ্গ পাওয়া যায়। খাবারের সন্ধানে প্রতিবছর শীত মৌসুমে ঝাঁকে-ঝাঁকে পরিজায়ী পাখি চলনবিল এলাকায় আসে। তাদের মতো অনেকেই রাতের অন্ধকারে বিভিন্ন ধরনের বক, রাত চোরা, কাদা খোঁচা, বালিহাঁসসহ নানা প্রকার অতিথি পাখি শিকার করছেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ শিকারী প্রশাসনের ভয়ে রাতের অন্ধকারে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে সারি সারি ফাঁদ পেতে বিষ টোপ,বন্দুক দিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির বক পাখি শিকার করছেন। এসব পাখি শিকারের বিধি-নিষেধ ও শাস্তি সম্পর্কে তাদের ধারণা নেই বললেই চলে। আর মানুষের কাছে পাখির মাংস এতই লোভনীয় যে বেশিরভাগ পাখি হাট-বাজারে যাবার আগেই বিক্রি হয়ে যায়। পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে পুর্ব চুক্তি অনুযায়ী বাড়ি বাড়ি পাখি পৌঁছে দেন শিকারীরা।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জীব বৈচিত্র বাচিঁয়ে রাখার বিকল্প নেই। শিকারীদের কৌশল পরিবর্তনের ফলে আমাদের অভিযান পরিচালনা করতে একটু সমস্যা হচ্ছে। তবু আমরা পরিবেশ কর্মী স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছি। ইতিমধ্যেই কয়েক হাজার পাখি উদ্ধার করেছি এবং কিছু শিকারীদের জরিমানা ও শাস্তি প্রদানে সক্ষম হয়েছি।
নাটোরের চলনবিল জীব বৈচিত্র রক্ষা কমিটির সভাপতি আখতারুজ্জামান জানান, চলনবিলের অতিথি পাখি ও প্রকৃতি রক্ষায় পাখি প্রেমী তরুণসহ স্থানীয় সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া নিরাপদ পরিবেশ, বার্ড কলোনি, কৃষি উপকরণ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে ।

এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আহম্মদ নিয়ামুর রহমান দৈনিক ভোরের কাগজকে জানান, প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীব-বৈচিত্র সংরক্ষণের স্বার্থে চলনবিল এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিথি পাখি শিকারিদের বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর, তাড়াশ, চাটমোহর, সিংড়া ও বড়াইগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মাঝে-মধ্যেই ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :