গুরুদাসপুরে পাখি শিকার বন্ধে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৪৬ PM, ০৪ নভেম্বর ২০২১

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি.

নাটোরের গুরুদাসপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে জীব বৈচিত্র রক্ষায় পাখি শিকার বন্ধে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্ম কর্তা মোঃ তমাল হোসেন এর সভাপতিত্বে ওই মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জীব বৈচিত্র রক্ষায় করনীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে পরিবেশ কর্মীদের উদ্ধার করা  শিকারীদের খাঁচা থেকে দুইশ বক পাখি উড়িয়ে দেওয়া হয় । বৃহস্পতিবার ভোর ৪ টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত পরিবেশকর্মীরা বিভিন্ন বিলে অভিযান চালিয়ে শিকারির খাঁচায় বন্দি বকগুলো উদ্ধার করেন। এরআগেও প্রায় ১ হাজার বক উদ্ধার করে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

গুরুদাসপুরের মশিন্দা, মাছপাড়া, হাজিরহাট, নয়াবাজার, কাছিকাটা, হাঁসমারী, দড়িহাসমারীসহ প্রায় ১২ টি বিলে পরিবেশকর্মীরা অভিযান চালান। এই অভিযানে সাদা বকগুলো উদ্ধার করা হলেও পালিয়ে যান শিকারিরা।
পরিবেশ কর্মী নাজমুল হাসান, মনির হোসেন, মেহেদী হাসান তানিম জানান- শীত আসলেই পাখি শিকারিরা তৎপর হয়ে উঠেন। এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকার করায় জলবায়ু পরির্তনে ব্যপক প্রভাব পড়ছে। একারণে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তারা নিয়মিত পাখি উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন।
তারা বলেন, বৃহস্পতিবার পাখি উদ্ধারের পাশপাশি ২৭টি পাখি শিকার করা ফাঁদ (কিল্লা ঘর) ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৭টি শিকারী বকও উদ্ধার করে মুক্ত আকাশে অবমুক্ত করা হয়েছে।
এরপর পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ নিয়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে পাখি শিকার বন্ধে উন্মুক্ত আলোচনা সভা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সাংসদ আব্দুল কুদ্দুস।


সভায় সাংবাদিক মাজেম আলী মলিন, শিক্ষক ও প্রকৃতিপ্রেমী নাসরিন সুলতানা রুমা, প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গির আলম মিঠু বক্তৃতা করেন। তারা বলেন, পাখি শিকার বন্ধ করা না গেলে পরিবেশে আরো বিরুপ প্রভাব পড়বে। অসাধু পাখি শিকারিদের তৎপরতা রোধে মাইকিং, বিলবোর্ড ফেস্টুন দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তমাল হোসেন বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ভোড় ৪ টা থেকে প্রত্যন্ত বিলে গিয়ে পাখি শিকার বন্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। পাখি উদ্ধারের পাশাপাশি শিকারিদের জরিমানার আওতায় আনা হচ্ছে। এছাড়া পাখি শিকার বন্ধে গুরুদাসপুরের ৬টি ইউনিয়নে নানা শ্রেণি পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির মধ্যমে উঠোন বৈঠক থেকে শুরু করে পাখি শিকার বন্ধে সব ধরণের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এছাড়া বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারকে পাখি শিকার এবং সামুক নিধন বন্ধে সচেতন করার মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :