আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোনো দল করার প্রমাণ দিতে পারলে সুইসাইড করবেন বলে হুমকি দিয়ে মেয়র আব্বাস

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩১ PM, ২৬ নভেম্বর ২০২১

বিশেষ প্রতিবেদক, রাজশাহী:
আলোচিত রাজশাহীর কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলীকে জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী এক সভায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এছাড়া বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পৌর ভবনের সভাকক্ষে কাউন্সিলরদের জরুরী সভায় তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের জন্য পাস হয়েছে অনাস্থা প্রস্তাব।

তবে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল ৪টায় ফেইসবুকে লাইভে এসে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন আব্বাস আলী। এছাড়া তার আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোনো দল করার প্রমাণ দিতে পারলে সুইসাইড করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাটাখালি পৌর ভবনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় আব্বাস আলীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণের জন্য অনাস্থা প্রস্তাব আনেন নারী কাউন্সিলর হোসনে আরা। পরে সর্বসম্মতিক্রমে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হয়। এরপর আব্বাসকে অপসারণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর লেখা অনাস্থা প্রস্তাবের আবেদনে স্বাক্ষর করেন ১২ জন কাউন্সিলর। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনে গিয়ে জমা দেয়া হয় ওই আবেদন। এসময় ১০ জন কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া শুক্রবার বিকেলে জেলা আওয়ামীলীগের জরুরী এক সভায় তাকে সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি ছাড়াও সুপারিশ করা হয়েছে দল আজীবনের জন্য বহিষ্কারের।

ওই সুপারিশ কেন্দ্রে পাঠানো হবে বলে সভা শেষে ভোরের কাগজকে জানিয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ দারা। তিনি বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছে অব্যাহতির। এছাড়া আজীবন বহিষ্কারের সুপারিশ পাঠানো হবে কেন্দ্রে। বঙ্গবন্ধুর মতাদর্শ বিরোধী কেনো ব্যক্তির স্থান আওয়ামীলীগে হতে পারে না।

এদিকে নানা বিতর্কের পর শুক্রবার বিকেলে প্রথমবার মুখ খুলেছেন মেয়র আব্বাস। তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে প্রায় ২০ মিনিট কখা বলেন তিনি। লাইভে তিনি ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘ম্যুরাল নিয়ে কিছু কথা আছে। স্থানীয় মাদরাসার বড় হুজুরদের সঙ্গে মাঝেমধ্যে আমার বসা হয়। যতটুকু মনে হয়, একটি জানাজায় গিয়েছিলাম ওখানে। মাদরাসায় বসেছিলাম। কথা প্রসঙ্গে মাদরাসার বড় হুজুর ম্যুরালের বিষয়ে চেঞ্জ আনা যায় কিনা- তা বলছিলেন। আমাকে বুঝিয়েছিলেন। আমি তো মুসলমান। কোরআনের কথা শুনে দুর্বল হয়েছিলাম। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করিনি। ইসলামে পাপ হবে সেটি বলেছি। গল্পের ছলে বলেছি। সেটা হয়ত ভুল বলেছি।’

কান্নাজড়িত হয়ে অভিযোগের স্বরে মেয়র আব্বাস বলেন, ফেসবুকে আমাকে গালাগালি করছে। ভাঙচুর করেছে। কাউন্সিলরদের দিয়ে জোরপূর্বক অনাস্থা আনা হয়েছে। কীভাবে তাদের থ্রেট দিয়ে অনাস্থা আনা হয়েছে, তার সব ডকুমেন্ট আছে আমার কাছে। আমার নামে আইসিটি মামলা দিল, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দিল। তাও মেনে নিয়েছি। ভুলের জন্য ক্ষমা চাই। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। সুন্দর জীবনে ফিরে যেতে চাই। বাচ্চার কাছে, মায়ের কাছে যেতে চাই। প্লিজ, আমার পাশে দাঁড়ান।’

সবশেষ সুইসাইডের হুমকি দিয়ে আব্বাস আলী বলেন, ‘আমাকে বলা হচ্ছে আমি দলে অনুপ্রবেশকারী। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে অনুপ্রানিত হয়ে ২০০২ সালে যুবলীগের প্রবেশ করি। তখন থেকেই আমার রাজনীতি শুরু। আমি অন্য কোনো দল করেছি, কেউ প্রমাণ করতে পারলে সুইসাইড করবো।’

আপনার মতামত লিখুন :