উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পুরোধা আব্দুল কুদ্দুসকেই সভাপতি চান নাটোরবাসী

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৩০ PM, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

প্রভাষক মোঃমাজেম আলী মলিন.

নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে চলনবিল তথা উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক পুরোধা, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য ঘনিষ্ট সহচর ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপিকে পুনরায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত করতে চান নাটোরবাসী। তাই বর্ষিয়ান এই নেতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে এখন সর্বমহলে চলছে ব্যাপক উদ্দীপনা। এছাড়া তাকে সভাপতি করার দাবিতে পোষ্টারে ভরে গেছে নেতাকর্মি ও সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।


অনুসন্ধানে জানা যায়, চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের বিলসা গ্রামে ১৯৪৬ সালের ৩১ অক্টোবর বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ আব্দুল কুদ্দুস এমপি জন্মগ্রহন করেন। পিতা মো. হায়েতুল্লাহ সরদার পেশায় কৃষক ছিলেন এবং মাতা মোছা. গুলেনুর বেগম ছিলেন গৃহিণী। ৭-৮ বছর বয়সে তাঁর পিতা মারা যান। সেই অজপাড়াগাঁয়ের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে থেকে মো. আব্দুল কুদ্দুস রাজশাহী কলেজ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন এবং ইংরেজীতে এমএ পাশ করেন। ছাত্র লীগের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি প্রবীণ ও বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদের। বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের স্বাধিনতাত্তোর ছাত্র সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ছিলেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাঙালির মুক্তির সনদ ৬ দফার ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি সর্বদা সোচ্চার ছিলেন। ১৯৬৮-৭২ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৬৯ এর গনঅভূর্থানের সময় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে সেই সময় রাজশাহীর ছাত্ররা রাজপথ প্রকম্পিত রাখে। সেই গণঅভ্যুত্থানের মুখে আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয় তৎকালীন শাসকচক্র। অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তিনি কমান্ডার হিসেবে পাক হায়েনার বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে তাঁর বড় ছেলে শহীদ কল্লোল পাকিস্থানী হানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্মমভাবে নিহত হন। দেশ স্বাধীন হবার পর তিনি (১৯৭২-৭৪) রাজশাহী কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন।

১৯৮২-৮৬ পর্যন্ত রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। রাজশাহী মহানগর গঠিত হলে ১৯৮৬-১৯৯০ পর্যন্ত তিনি রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক শাসকের অবসানের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি মৎস ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর নির্বাচনী এলাকা ৬১, নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনে সর্বমোট ৭বার দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী, বঙ্গবন্ধুর স্নেহাধন্য সহযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৩ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাঁচবার বিজয়ী হয়েছেন। বর্তমানে তিনি নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বড়াইগ্রাম উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজী জানান, দেশ স্বাধিনের পর নাটোর জেলার প্রথম নির্বাচিত আওয়ামীলীগ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপির বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবন রয়েছে। যার ছাঁয়াতলে জেলার হতদরিদ্র থেকে শুরু করে সকল কর্মী আসতে পারেন। যেখানে কোন নেতার সাহায্য প্রয়োজন হয় না। শত ঝামেলার মাঝেও তিনি নিজেই ফোন রিসিভ করেন এবং নিজে উপস্থিত থেকে সকল সমস্যার সমাধান করেন। রাতদিন সাধারণ পা ফাটা মানুষের সেবা করেন উত্তর জনপদের সবচেয়ে প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব।

বনপাড়া পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভাইস চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা জানান, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের কিংবদন্তী, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, মুজিব বাহিনীর অন্যতম অধিনায়ক, যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার বিশ্বস্ত সৈনিক, সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অকুতভয় নেতা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রামের মাটি মানুষের নেতা, নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শ অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি। তিনি সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অত্যান্ত শ্রদ্ধাভাজন ব্যাক্তিত্ব। এজন্য তাকেই পুনরায় জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি প্রয়োজন।

গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি রাজকুমার কাশী ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বিপ্লব জানান, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী রাজশাহী জেলায় যে ব্যক্তিকে প্রথম গ্রেফতার করেন তিনি আব্দুল কুদ্দুস (১৯৭৫ এর ১৭/১৮ আগষ্ট)। খুনিচক্র তাঁকে কারাগারে দেয়। দীর্ঘ ৫ বছর কারাভোগ করেছেন তবু ঘাতকদের কাছে মাথানত করেন নাই। কারাগারে থাকা অবস্থায় রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন।
নাটোর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী রমজান আলী বলেন, বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী জেলা, মহানগর ও বিভাগের ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। আব্দুল কুদ্দুস এমপি নাটোরের বটবৃক্ষ। এক কথায় আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দলের কলেবর বৃদ্ধির জন্য তাকে দ্বিতীয়বারের মতো জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দেখতে চান নাটোরবাসী।

এ প্রসঙ্গে নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এমপি বলেন, আগামী ২০ ফেব্রæয়ারী জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে সফল করতে আমরা সবধরণের প্রস্তুতি নিয়েছি। পরীক্ষা জীবনে বহুবার দিয়েছি। বিগত সময়ে দলকে সুসংগঠিত করতে যথেষ্ঠ অবদান রেখেছি। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে রাজনীতিতে আশার পর থেকেই স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সাথে রাজনীতি করে আসছি। সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মানদ্বন্ডে জননেত্রী শেখ হাসিনার ওপর আমার আস্থা রয়েছে। তিনি আমাকে আবারো নাটোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছি।

আপনার মতামত লিখুন :