বড়াইগ্রামে মেয়ের বিয়ের আগের রাতেই বাড়িতে আগুন

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:১৬ PM, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

বিশেষ প্রতিবেদক:

শুক্রবার মেয়ের বিয়ে। তাই কেনাকাটাসহ সকল প্রস্তুতি শেষ। আগামীকাল শুক্রবার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের মশিন্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ভুক্তভোগি বাড়ির মালিকের নাম আব্দুস সাত্তার খান (৭৫)। তিনি উপজেলার মশিন্দা গ্রামের মৃত রফিজ উদ্দিনের পুত্র। তার শয়ন ঘরসহ তিন ছেলের শয়ন ঘরসহ ১৩টি ঘরপুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আব্দুস সাত্তার খান তার বড় ভাই। ভাই ছেলেসহ বসবাস করত এক সাথে। আগামী শুক্রবার তার ভাইয়ের নাতনীর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার কথা ছিল। সেই উপলেক্ষ্যে বিয়ের বাজার সরঞ্জামাদি সম্পুর্ন করা হয়েছিল। ধারনা করা হচ্ছে বিয়ের জন্য টাকা পয়সা বাড়িতে আছে এমনটি ভেবেই এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, প্রায় ছয় মাস পুর্বে একই গ্রামের মোতালেব মন্ডলের ছেলে জিল্লুর মন্ডল (৪৫) আমার ভাইয়ের শিমের গাছ কেটে দিয়েছিল। স্থানীয় ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে ৩০ হাজার টাকা জড়িমানা দিয়েছিল। তখন সে হুমকি দিয়েছিল এই টাকার মাসুল তাদের গুনতে হবে।
আকবর হোসেন খান বলেন, আগুন দেখে বের হতেই দেখি গেট বন্ধ । আমার পরিবারের সকল কিছু আগুনে পুরে শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার মেয়ের বিয়ের জন্য গহণা ও নগদ দুই লক্ষাধীক টাকা পুড়ে গেছে। এছারাও চারটি ছাগল পুরে মারা গেছে। আগুন দিয়ে আমার প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।

প্রতিবেশী আজির উদ্দির ছেলে ইমন আলী বলেন, ছাগলের ডাকাডাকি শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখি আব্দুস সাত্তারের খড়ির ঘরে আগুন জ্বলছে। আমি বাড়ির ভিতরে ঢুকতে গিয়ে দেখি তার গেটের বাহির থেকে দরজা বন্ধ করা। তাই প্রতিবেশিদের সহযোগিতা নিয়ে দরজা ভেঙ্গে পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করি। পরে দমকল বাহিনীর কর্মীরা কয়েক ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনেন।

সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, চিৎকার শুনে বের হতে গিয়ে দেখি আমার দরজা বাহির থেকে বন্ধ। এছারাও আমার বড় ভাই সাদের খাক ও আব্দুস সাত্তার খানের ছেলে আজিম খানের বাড়ির দরজা বাহির থেকে বন্ধ করা।

জিজ্ঞাসা করা হলে জিল্লুর রহমান বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমি এধরনের ঘটনা ঘটাতে যাব কেন।

বড়াইগ্রাম থানার পরিদর্শক আবু সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ করলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :