গুরুদাসপুরে নিজ বাসায় আবাসিক মহিলা কওয়ামী মাদ্রসা খুলে ব্যবসা করছেন ঈমাম

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২৬ PM, ২১ মার্চ ২০২২

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাঁচশিশা গ্রামে ব্যাক্তিগত বাসায় ২০১৭ সালে নুরে মদিনা কওয়ামী মহিলা মাদ্রাসা নামে আবাসিক-অনাবাসিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন ইয়ারুল ইসলাম নামের এক ঈমাম ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ,আবাসিক অনাবাসিক মিলে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী সংখ্যা প্রায় অর্ধ শতাধিক। সরকারি অনুদান ও অনুমতি ছাড়াই নিয়ম বর্হিভুতভাবে গড়ে ওঠা এ মাদ্রাসার জন্য ছাত্রী প্রতি মাসিক বেতন নেওয়া হয় ৫শ থেকে ১৫শ টাকা। এছাড়া আবাসিক ছাত্রীদের নিকট থেকে আরো বেশী টাকা নেবার অভিযোগ রয়েছে। নাম মাত্র দুইজন পার্ট টাইম শিক্ষক রেখেছেন তারা। মুলত ঈমাম ইয়ারুল ও তার স্ত্রীই ওই কওয়ামী মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন। গড়ে শুধু মাত্র ছাত্রীদের নিকট নাম মাত্র কমিটির মাধ্যমে খরচ বাদে ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্বসাৎ করেন প্রতি বছর ওই ঈমাম। তিনি স্থানীয় দেবদার মোড় বাজার মাদ্রাসায় ঈমামতি করেন।

স্থানীয়রা জানান, এসব টাকা ছাড়াও মাদ্বারাসার উন্নয়নের কথা বলে জালসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে আত্বসাতের অভিযোগও করেন এলাকাবাসী। নাম প্রকাশে অনিছুক একজন জনপ্রতিনিধি জানান, পাশের এই বাড়িতে মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গিদেরও আর্থিক সহযোগিতা করে থাকেন । আবাসিক নারীদের সেখানে রেখে বিভিন্ন জেহাদী বই পড়িয়ে তাদেরকে মগজ ধোলই করা হয় বলে তিনি জানান।

স্থানীয় ইপি সদস্য আব্দুল কাদের জানান, কওয়ামী মাদ্রসা হলে জমি মাদ্রাসার নামে ওয়াকফা করে দিতে হয়। তা তিনি না করে নিজ বাসায় মহিলা মাদ্রাসা করে সাধারন মানুষকে ধোকা দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আত্বসাৎ করছেন যেখানে কোন কমিটিও নেই। ছাত্রীদের বেতন ছাড়াও জালসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে সেই অর্থ কয়েকজন মিলে ভাগাভাগি করে নেয়।
এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ওয়াহেদুজ্জান বলেন , নিয়ম অনুযায়ী যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করতে গেলে মন্ত্রনালয়ের অনুমতি লাগে। তাছাড়া হাতে গোনা কিছু মাদ্রাসার তালিকা তার কাছে রয়েছে যেখানে নুরে মদিনা কওয়ামী মহিলা মাদ্রাসা নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই।


গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, এটা নিয়ম বর্হিভুত। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেন বলেন, এব্যারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হবে।

নুরে মদিনা কওয়ামী মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ ইয়ারুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসার কমিটি আছে তবে তারা বাহিরে থাকেন । বছরে একবার আসেন । অন্য সদস্যদের নম্বর চাইলে তিনি নানান অজুহাত দেখান। অবশেষে সময় নিয়ে একজনের নম্বর দিয়ে কোষধক্ষ পরিচয় দেন। তবে ওই কমিটির কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। কওয়ামী মাদ্রাসার জমি ওয়াকফা ও লেললা বডিংয়ের ব্যাপারে তিনি মুখ খোলেন নি। তিনি আরো বলেন আগামীকাল ২২ মার্চ মঙ্গলবার মাদ্রাসার জালসা শেষে আপনাদের সাথে দেখা করে মিষ্টি খাওয়াবো। নিউজটা করবেন না।

আপনার মতামত লিখুন :