ধর্মীয় অনুভুতিকে পুঁজি  করে ব্যাক্তি স্বার্থে জালসা করছেন গুরুদাসপুরের সেই ঈমাম !

বনলতা নিউজ ডেস্ক.বনলতা নিউজ ডেস্ক.
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:২০ PM, ২২ মার্চ ২০২২

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.

“গুরুদাসপুরে নিজ বাসায় আবাসিক মহিলা কওয়ামী মাদ্রসা খুলে ব্যবসা করছেন ঈমাম” শিরোনামে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের পরেও ওই মাদ্রাসার পরিচালক ইমাম ইয়ারুল ইসলাম ধর্মীয় অনুভুতিকে পুঁজি ও প্রশাসনর নির্দেশনা অমান্য করে তার ব্যাক্তিগত স্বার্থে জালসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য প্রতিষ্ঠানই যদি অবৈধ্য হয় তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের নামে জালসা চলে কি ভাবে। যদি মাদ্রাসার উন্নতি কল্পে জালসা হতো তাহলে কোন কথা ছিলো না। মাদ্রাসার নামে জালসা চালিয়ে সেই টাকা পয়সার হিসেব না দিয়ে ( কমিটি বিহীন) তসরুপ করবে এ বিষয়টা মেনে নেওয়া যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ব্যাক্তি জানান. ইতি মধ্যেই ওই ঈমাম আজ ২২ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মহিলা মাহফিল শেষ করে রাতের জালসা শুরু করার প্রক্রিয়া করছেন। এতে প্রশাসনসহ নেতৃবর্গকে জানিয়েও লাভ হচ্ছে না। উল্লেখ্য গুরুদাসপুর উপজেলার ধারাবারিষা ইউনিয়নের পাঁচশিশা গ্রামে ব্যাক্তিগত বাসায় ২০১৭ সালে নুরে মদিনা কওয়ামী মহিলা মাদ্রাসা নামে আবাসিক-অনাবাসিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন ইয়ারুল ইসলাম নামের এক ঈমাম ।

আবাসিক অনাবাসিক মিলে ওই মাদ্রাসার ছাত্রী সংখ্যা প্রায় অর্ধ শতাধিক। সরকারি অনুদান ও অনুমতি ছাড়াই নিয়ম বর্হিভুতভাবে গড়ে ওঠা এ মাদ্রাসার জন্য ছাত্রী প্রতি মাসিক বেতন নেওয়া হয় ৫শ থেকে ১৫শ টাকা। এছাড়া আবাসিক ছাত্রীদের নিকট থেকে আরো বেশী টাকা নেবার অভিযোগ রয়েছে। নাম মাত্র দুইজন পার্ট টাইম শিক্ষক রেখেছেন তারা। মুলত ঈমাম ইয়ারুল ও তার স্ত্রীই ওই কওয়ামী মাদ্রাসাটি পরিচালনা করেন। গড়ে শুধু মাত্র ছাত্রীদের নিকট নাম মাত্র কমিটির মাধ্যমে খরচ বাদে ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্বসাৎ করেন প্রতি বছর ওই ঈমাম। তিনি স্থানীয় দেবদার মোড় বাজার মাদ্রাসায় ঈমামতি করেন।

স্থানীয় একাধিক সুত্রে জানাযায়, এসব টাকা ছাড়াও মাদরাসার উন্নয়নের কথা বলে জালসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে আত্বসাতের অভিযোগও রয়েছে ইমাম ইয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। কওয়ামী মাদ্রসা হলে জমি মাদ্রাসার নামে ওয়াকফা করে দিতে হয়। তা তিনি না করে নিজ বাসায় মহিলা মাদ্রাসা করে সাধারন মানুষকে ধোকা দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আত্বসাৎ করছেন যেখানে কোন কমিটিও নেই। ছাত্রীদের বেতন ছাড়াও জালসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা তুলে সেই অর্থ কয়েকজন মিলে ভাগাভাগি করে নেয়।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আব্দুল মতিন বলেন, এই বিষয়ে ইসলামিক ফাইন্ডেশানের গুরুদাসপুর উপজেলার ফিল্ড অফিসার মহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটা টিম পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও বরাবর পেশ করলে যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, মাদ্রসার সকল অনিয়মের ব্যাপারে তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জালসার ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে নুরে মদিনা কওয়ামী মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক মোঃ ইয়ারুল ইসলামকে মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার কল ও মেসেজ করার পরও তিনি তা না ধরে কেটে দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :