গুরুদাসপুরে মাদ্রসা সুপারের গোঁড়ামীর কারনে বেতন পাচ্ছেন না ১৬ শিক্ষক-কর্মচারী

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৪০ PM, ২৯ মার্চ ২০২২

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি মিয়ার গোঁড়ামীর কারনে বেতন পাচ্ছেন না ১৬জন শিক্ষক- কর্মচারী।

এঘটনার প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার বেলা ১১টার সময়ে মাদ্রাসায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীরা। বেতনের দাবিতে গত ২৮শে মার্চ ক্লাস বর্জনও করেছেন তাঁরা।

সংবাদ সম্মলনে লিখিত বক্তব্যে বাংলা বিভাগের শিক্ষক মকবুল হোসেন জানান, অত্র মাদ্রাসার সভাপতি শরিফুল ইসলামের সাথে মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি মিয়ার বিরোধ চলে আসছে। এঘটনায় বেতনে সভাপতি ও সুপার স্বাক্ষর করলেও ব্যাংকে জমা না দিয়ে সুপার গোঁড়ামী করে সেটা আটকে রেখেছেন। যার কারনে গতমাসের বেতন পাননি ১৬ জন শিক্ষক- কর্মচারী। এই সমস্যা সমাধান না হওয়ায় চলতি মাসেও বেতন পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বলে জানান শিক্ষকরা। তাঁরা দ্রুত এর সমাধান চান।

জানা যায়, শিক্ষক মাহফুজুর রহমান ২০২০ সালের প্রথম থেকে ১০ম গ্রেডে বেতন পেলেও ম্যানেজিং কমিটির অনুমতি ও রেজুলেশন ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি মিয়া তাঁর বেতন কর্তন করেন গভার্ণিং বডির অনুমতি ছাড়াই। এছাড়াও বিভিন্ন অনিয়মের জন্য কারণ দর্শনোর নোটিশ দেওয়া হয় ভারপ্রাপ্ত সুপারকে। পরবর্তীতে নোটিশের জবাব দেন তিঁনি। জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় আবার তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিঁনি সেই কারণ দর্শনোর নোটিশের জবাব দেননি।
রেজুলেশন ও গভার্ণিং বডির সভাপতির নির্দেশ ছাড়া কোন শিক্ষকের বেতন কর্তন করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি যুক্তিসংগত উত্তর দিতে পারেননি।
ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গণি মিয়াকে মুঠোফোনে বেতন বন্ধের বিষয়ে  জানতে তিনি বলেন আমি এখন গাড়ীতে আছি পরে প্রেসক্লাবে এসে বক্তব্য দিবো ।

ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, এমপিও সিটে ভারপ্রাপ্ত সুপারের নাম আব্দুল গনি, এবং সার্টিফিকেটে তাঁর নাম রয়েছে আব্দুল গনি মিয়া। বার বার নাম সংশোধন করতে বলা হলেও তিনি করেননি। যার কারনে সভাপতি রেজুলেশনের মাধ্যমে সাময়িক ভারপ্রাপ্ত সুপারের বেতন স্থগিত করেন। এঘটনায় ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি মিয়া সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ব্যাংকে জমা দেননি এবং টাকাও উত্তোলন করেননি। যার কারনে অত্র প্রতিষ্ঠানের ১৬জন শিক্ষক-কর্মচারীরা গতমাসে বেতন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে বিষয়টি ইউএনও এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অিফিসারকে অবগত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তমাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনুযায়ী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন :