গুরুদাসপুরে ৮৫ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত

দাম নিয়ে শংকিত খামারীরা

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৩৩ AM, ২০ জুন ২০২২

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি. গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, খামার ব্যবস্থাপনার খরচ অস্বাভাবিক, দেশ ব্যাপি বন্যার প্রকোপ এবং দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধগতির কারনে পশু কোরবানীর সংখ্যা ও গরুর দাম কমতে পারে এমন শংকায় রয়েছেন খামার মালিকরা।

আর কিছু দিন পরেই পবিত্র কোরবানির ঈদ। ঈদকে ঘিরে প্রস্তুত হচ্ছে পশুর খামারগুলো। গত দুই বছরের হাটের তিক্ততা ভুলে খামারীরা এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে গরুর পরিচর্যা করে যাচ্ছেন রাতদিন। ছোট বড় গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া চাহিদা অনুযায়ী তারা তুলে দেবেন ক্রেতার হাতে।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিক্রির জন্য ৮৫ হাজার কোরবানির পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। উপজেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৬ হাজার ৬৫২ টি। চাহিদার চেয়ে সাড়ে ৪৮ হাজার উদ্বৃত্ত¡ পশু বাইরে বিক্রি করতে পারবেন খামারিরা।

গুরুদাসপুর উপজেলা প্রানিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অফিসের সম্প্রতি জরিপে জানাগেছে উপজেলায় ২ হাজার ৩৫৬ জন খামারি ৮৪ হাজার ১০০ কোরবানির পশুর মধ্যে গরু ২৮ হাজার ২৪৯ টি, মহিষ ৬৮৭, ছাগল ৫০ হাজার ৬১০ ও ৫ হাজার ৫৪৬ টি ভেড়া সামনের ঈদুল আযহার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করছেন। এসব পশুর বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

উপজেলার নাজিরপুর মাষ্টার ডেইরী ফার্মের মালিক প্রভাষক মাসুদ রেজা বলেন, তিনি আসন্ন কোরবানির জন্যে ৯টি গরু প্রস্তুত করছেন। বাজারে চাউলের চেয়ে গবাদি পশুর খাদ্যের দাম বেশী। এছাড়া লেবারসহ অন্যান্য খামার ব্যবস্থাপনার খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। বর্তমানে গরুর বাজারমূল্য মোটামুটি আছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে বাজারমূল্য নিয়ে শংকায় রয়েছেন তিনি।

চাপিলার গরু খামারী আব্দুল মজিদ জানান, ঈদকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন তিনি। কোনো প্রকার ক্ষতিকারক স্টেরয়েড ব্যবহার করেননি। পশু মোটাতাজা করতে গমের ভুসি, চালের খুদ, খড়, কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন খাবার দিয়েছেন গরুগুলোকে। তার খামারের ১৬টি গরুর মধ্যে রয়েছে শাহীওয়াল, রাজস্থানী, নেপালি, দেশীয় শঙ্কর জাতেরসহ উন্নত মানের গরু। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকার ও বড় ব্যাপারিরা এসে পশু কিনে নিয়ে যায় তার খামার থেকে।

বিয়াঘাট ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামের প্রান্তিক খামারী আনোয়ার হোসেন জানান, কোরবানি সামনে রেখে পরিবারের সর্বস্ব ব্যয় করে তিনি ১০টি গরু পালন করেছেন। নিজে ঠিকমতো না খেয়ে গরু পেছনে ব্যয় করেছেন অর্থ ও শ্রম। এখন দেশের যে অবস্থা, তাতে সঠিক দাম না পেলে পথে বসতে হবে। শুধু আনোয়ার হোসেন বা জামাল মোল্লাই নয়, একই রকম শঙ্কায় নাটোরের গুরুদাসপুরের ২ হাজার ৩৫৬ জন খামার মালিক। তিনি আরো জানান, প্রায় ৮ মাস পুর্বে প্রতিটি গরু ক্রয় করেছেন ১লাখ ২০ হাজার টাকায়। খরচ হয়েছে গরু প্রতি প্রায় ৩০ হাজার করে এছাড়া রাখালকে দিতে হয়েছে ৮ মাসে ৮০ হাজার টাকা। তাই গরুর ন্যায্য মুল্য নিয়ে শংকায় রয়েছেন গুরুদাসপুরের খামারীরা।

উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর হোসেন বলেন, কোরবানির দিন এগিয়ে আসার সাথে সাথে বানিজ্যিক খামার ও পশুর সংখ্যাও বাড়ছে। বাজারে সব ধরনের গো খাদ্যের দাম বেড়েছে। তাই কৃষক ও খামারিদের গবাদি পশুকে কাঁচা ঘাস খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে এবছর গরুর ভালো দাম পবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :