‘বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ একই সূত্রে গাঁথা’

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:৫৪ PM, ২২ জুন ২০২২

এ্যাডভোকেট কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি. আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এই দলটি ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালে দলটির সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। তখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে আটক ছিলেন। তিনি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলন, আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, ছয় দফা, ‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গণমানুষের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। এদেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এই দলটি চিরকাল আন্দোলন সংগ্রাম করে গেছে। আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়েই দেশের সবচেয়ে প্রাচীন, অসাম্প্রদায়িক, সর্ববৃহৎ এই রাজনৈতিক দলের জন্ম।

প্রতিষ্ঠাকালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ নাম থাকলেও, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৫ সালে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেন। তখন থেকে দলটির “আওয়ামী লীগ” নামকরণ করা হয়।

১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, আইয়ুবের সামরিক শাসন-বিরোধী আন্দোলন, ’৬৪-এর দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ’৬৬-এর ছয় দফা আন্দোলন ও ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পথ বেয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ২৪ বছরের আপোষহীন সংগ্রাম-লড়াই এবং ১৯৭১ সালের নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধ তথা সশস্ত্র জনযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ একই সূত্রে গাঁথা।

ভাষা আন্দোলনে সফলতার পর ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট জয় লাভ করে। কিন্তু ষড়যন্ত্রের কারণে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে পারেনি যুক্তফ্রন্ট। আন্দোলনের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। আওয়ামী লীগ এদেশের সংগ্রামী মানুষের প্রতিচ্ছবি। গত ৭৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণের কাছে নিজের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে যাচ্ছে। দলটির গৌরবজ্জ্বল আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস সেটাই প্রমাণ করে।

স্বাধীনতা লাভের পর মাত্র ৩ বছরের কিছু বেশি সময় দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় আওয়ামী লীগ। যুদ্ধ-বিদ্ধস্ত একটি দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে আওয়ামী লীগ। রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবকিছুই ধ্বংস করে গিয়েছিলো পাকিস্তানি বাহিনী। সবকিছু পুনরায় গড়ে তুলছিলো আওয়ামী লীগ। সকল দেশের সাথে সম্পর্ক স্থাপন, বাণিজ্য চালু করার মাধ্যমে যখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো তখন ই এলো সেই মর্মান্তিক রাত ১৫ আগস্ট। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার হয়ে দেশবিরোধী চক্রের হাতে স্বপরিবারে নিহত হন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিদেশে থাকায় ভাগ্যগুণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। তখনও তিনি দেশের বাইরে প্রবাস জীবন কাটাচ্ছিলো। তৎকালীন সরকার তাঁকে দেশে আসার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু দেশের মানুষের আন্দোলনের চাপে সরকার বাধ্য হয় অনুমতি দিতে। দীর্ঘ ৬ বছর পর তিনি ১৯৮১ সালের ১৭ মে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। আওয়ামী লীগের কর্মীরা পুনরায় সংগঠিত হতে শুরু করে। নব-উদ্যোমে তারা দল সংগঠিত করতে শুরু করে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার করতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নবযাত্রা শুরু করে।

আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে দেশের ক্ষমতা লাভ করেন। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর টানা তৃতীয়বার নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এখনো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে আওয়ামী লীগ।

জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আজ সুশাসন অক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাঁর সুদক্ষ দেশ পরিচালনার ফলে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ আজ বাংলাদেশকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই আজ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীত হয়েছে।

তারপরেও আজ সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ লড়াই জারি রেখেছে। এখনো ধর্মের নামে আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে ধর্ম ব্যবসায়ীরা। অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রতিটি ধর্ম,জাতি,গোত্রের মানুষ বাংলাদেশে সমান অধিকার ভোগ করবে। কিন্তু, পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা এখনো ধর্মের নামে এ দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেই টিকে আছে।

আওয়ামী লীগের লড়াই এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য। তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশে আজ এশিয়ার রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে।উন্নয়ন সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। আওয়ামী লীগ সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে পদ্মাসেতু’র কাজ শেষ করেছে। আগামী ২৫ জুন সেটা উদ্বোধন হবে। যা বাংলাদেশ করেছে তার নিজস্ব অর্থায়নে। যে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করতে চায়নি তারাই এখন স্বীকার করে নেয় আগামীতে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক মুক্তি হবে বাংলাদেশের হাত ধরে। এসবই আওয়ামী লীগের অর্জন।

গৌরব,ঐতিহ্য,সংগ্রাম ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ”- এর ৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এই দলটি আজকের বাংলাদেশের রূপকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণ করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এদেশের সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে। স্বৈরাচারী ও জঙ্গিবাদের মদদপুষ্ট সরকার এদেশকে কয়েক যুগ পিছিয়ে দিয়েছে। আওয়ামী লীগকে সেই দেশের ভিতরের ও বাইরের ষড়যন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই এগিয়ে যেতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ এগিয়ে যাচ্ছে৷

জয় বাংলা,
জয় বঙ্গবন্ধু,
জয় শেখ হাসিনা,
জয় হোক আওয়ামী লীগের।

কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি
সহ-সভাপতি
বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ। বি,বার্তা

আপনার মতামত লিখুন :