গুরুদাসপুরে পরকিয়ায় ধরা খেয়ে প্রেমিককে ট্রাংকে ভরে রাখলেন প্রেমিকা !

ট্রাংক ভেঙ্গে প্রেমিক বিল্টুকে আটক করে এলাকাবাসি

মোঃ মাজেম আলীমোঃ মাজেম আলী
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৪৯ PM, ০৩ অগাস্ট ২০২২

মোঃ মাজেম আলী মলিন. পরকীয়ার টানে রাতের আঁধারে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে গ্রামবাসীর হাতে ধরা খেলেন বিল্টু প্রামানিক (৩০) নামের এক যুবক। মঙ্গলবার (২আগষ্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে এলাকাবাসি প্রেমিকার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের হামলাইকোল সিরাজ মেকারের মোড়ে ওই ঘটনা ঘটে।

বুধবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও মাতব্বরগণ কাজী ডেকে ছেলে মেয়ের সম্মতিতে খোলা তালাক দেন। এ বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত কাজি শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসির নিকট থেকে কল পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ঘটনা শুনে ছেলে এবং মেয়ের সম্মতিতে উপস্থিত স্বাক্ষীগণের সামনে উভয়েই খোলা তালাক স্বাক্ষর করেন।

স্থানীয়রা জানান, বিল্টু মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তার পরকীয়া প্রেমিকা একই এলাকার হামলাইকোল গ্রামের রমজান আলীর স্ত্রীর সঙ্গে রাত সাড়ে ১২টার দিকে দেখা করতে আসেন। এ সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে ঘরের মধ্যে লোকজন খোঁজাখুজি করে। এক পর্যায়ে ঘরে থাকা স্টিলের লেপ তোষক রাখা ট্রাংক(বাক্স) ভেঙ্গে ভিতর পালিয়ে থাকা বিল্টুকে আটক করে গ্রামের মাতব্বরদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা ঘটনা পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে নিজেরাই প্রেমিক প্রেমিকার সাথে কথা বলে স্ব স্ব পরিবারের কাছে তাদের ছেড়ে দেন। ঘটনাটি সকলের কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে।

গ্রামের মাতব্বর আলম প্রামানিক ও রুবেল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন জানান, আমরা বিল্টু এবং রমজানের স্ত্রীর মতামতের প্রেক্ষিতেই দুজনের বিয়ে করার শর্তে ছেড়ে দিয়েছি। তবে ঘটনাটি অবশ্যই প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিলো।

এ ব্যাপারে দুই সন্তানের জননী রমজানের স্ত্রী বলেন, বিল্টু দীর্ঘদিন ধরে আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে আসছে। গত রাতে বিল্টুর সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার স্বামী রমজানকে কৌশলে তার বাবার বাড়ি তাড়াশের মান্নান নগরে ধান আনতে পাঠানো হয়। সেই সুযোগে বিল্টু গভীর রাতে তার সাথে দেখা করতে আসলে পাশপাশের লোক জানতে পেরে আমাকে ঘরের দরজা খুলতে বলে। উপায়ন্ত না পেয়ে আমি বিল্টুকে তার কথা মতো বাক্সেও মধ্যে আটকে রেখে দরজা খুলে দেই। যেহুতু বিল্টু আমাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাই আমি বিল্টুর সম্মতিতেই খোলা তালাকে স্বাক্ষর করেছি।

অপরদিকে স্বামী রমজান আলী জানান, যেহুতু আমার স্ত্রী পরকিয়া করে ধরা পরেছে তাই বাধ্য হয়েছি খোলা তালাকে স্বাক্ষর করতে। কারন ওই স্ত্রী নিয়ে তার পক্ষে সংসার করা সম্ভব না। তাছাড়া সমাজের কটুক্তি শোনাও কষ্টকর।

বিয়াঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান সুজাকে ফোনে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন বলেন, পরকিয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে এক দম্পত্বির সাংসারিক ঝামেলায় খোলা তালাক হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

আপনার মতামত লিখুন :